মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ৯ মে ২০১৩, ২৬ বৈশাখ ১৪২০
এদের অপরাধ কী!
রবিবার হেফাজতে ইসলামের ঢাকা অবরোধ কর্মসূচী শেষে মতিঝিল শাপলা চত্বরে আয়োজন করা হয় সমাবেশের। এই সমাবেশ শান্তিপূর্ণ হবে- হেফাজতের পক্ষ থেকে এ আশ্বাস পেয়েই কর্তৃপক্ষ তাদেরকে সেখানে সমাবেশ করতে দেয়। কিন্তু সমাবেশকালে নেতৃবৃন্দ তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে জ্বালাময়ী ভাষায় উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান করতে থাকে। তারা সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দেয়। শুধু তাই নয়, তাদের কর্মী-সমর্থকরা আশপাশের এলাকায় অগ্নিসংযোগ-ভাঙচুরসহ ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করে। আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় বহু প্রতিষ্ঠানের গাড়ি-মোটর সাইকেল। তারা বিভিন্ন অফিস-সংস্থা-দোকানপাটে আগুন দেয়, রাস্তার বৈদ্যুতিক পিলার, রোড ডিভাইডারের গাছ উপড়ে ফেলে মতিঝিল ও আশপাশের এলাকাকে ভুতুড়ে এলাকায় পরিণত করে। তাদের এই নারকীয় তা-বে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা যায়।
এতকিছুর পরও সবচেয়ে মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনাটি হলো- পল্টন, বায়তুল মোকাররম ও আশপাশের এলাকার ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা হেফাজত কর্মীদের হামলায় সর্বস্বান্ত হয়ে গেছে। তারা নির্বিচারে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দোকানগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে পুড়ে যায় শত শত দোকান। এসব দোকানে বিভিন্ন ধরনের তৈরি পোশাক-শার্ট-প্যান্ট, পাঞ্জাবি, রেডিমেড ব্লেজার-কোট, ছিট-কাপড়, টুপি, চাদর, কম্বল ছিল।
হামলাকারীরা কোরআন-হাদীস ও অন্যান্য ধর্মীয় বইসহ দেশী-বিদেশী বইয়ের দোকানগুলো পুড়িয়ে দেয়। এরা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী; এদের পুঁজিও কম। জানা যায়, প্রতিটি দোকানে গড়ে ৪/৫ লাখ টাকার মালামাল ছিলো। এই পুঁজিই তাদের কাছে অনেক বড়। এই ব্যবসার আয় দিয়েই তারা সংসারের ব্যয় নির্বাহ করছিলেন। ফুটপাতের ছোট পুঁজির এই দোকানগুলো যেন তাদের কাছে ছিলো এক-একটি স্বপ্ন। সকাল থেকে রাত অবধি তারা দোকানে বসে মালামাল বিক্রি করেন। রোদের প্রচ- তাপ, অকস্মাৎ ঝড়-ঝঞ্ঝা-বৃষ্টি; কখনও চাঁদাবাজের উৎপাত- কোনো কিছুকেই তারা পরোয়া করেন না। পরম ধৈর্যশীল স্বপ্ন-কারিগরের মতো তারা স্থিত থাকেন তাদের ব্যবসায়ে। দিনের পর দিন। বছরের পর বছর।
দীর্ঘদিন ধরে গড়ে তোলা সেই স্বপ্নের উৎসগুলো কিছু অপরিণামদর্শী, উচ্ছৃঙ্খল মানুষের উন্মাদনায় তছনছ হয়ে গেল। তারা ধর্মকে হেফাজতের নাম করে গরিব মানুষদের সর্বস্ব পুড়িয়ে দিল কী নিদারুণ আক্রোশে! তারা কি একবারও ভেবে দেখেছে- এভাবে সহিংসতার আগুনে মানুষের রুটি-রুজির একমাত্র অবলম্বনকে ধ্বংস করে দিয়ে তারা কত বড় ক্ষতির কাজ করছে? ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেছেন, পুঁজি হারিয়ে এখন তাদের পথে বসা ছাড়া কোনো উপায় নেই। এমন সম্বলও নেই যে, আবার ঘুরে দাঁড়াবেন। আবার ব্যবসা শুরু করবেন।
এই তা-বের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরী। সেই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলোর সহায়তার বিষয়টিও ভাবা প্রয়োজন। জনগণের জানমালের রক্ষক হিসেবে এ বিষয়ে সরকারের দায়িত্বই বেশি। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংকও স্বল্প সুদে/ বিনা সুদে ঋণ দিয়ে এই দরিদ্র ব্যবসায়ীদের সাহায্য করতে পারে। সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আবার তাদের ব্যবসা শুরু করুন এবং তাদের বিধ্বস্ত স্বপ্নকে পুনর্জীবিত করুন- এমন প্রত্যাশা সবার।