মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ৯ মে ২০১৩, ২৬ বৈশাখ ১৪২০
নৈরাজ্য দমনে
বিএনপি-জামায়াত ও হেফাজতে ইসলাম সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য কায়েম করেছে। এই তাণ্ডবে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত। সরকার প্রথম থেকে সহনশীলতার সঙ্গে পরিস্থিতির মোকাবেলা করেছে। কিন্তু এই নৈরাজ্যের সঙ্গে নমনীয়তা সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। বিএনপি-জামায়াত জোট গত কয়েক মাস ধরে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের জন্য যেন মরিয়া হয়ে উঠেছে। জামায়াতের ধ্বংসাত্মক কর্মসূচীর প্রতি বিএনপির সর্বাত্মক সমর্থন ঘোষণার পর তাদের আসল চেহারা সবার কাছেই উন্মোচিত হয়েছে। তাদের আসল রূপ মানুষ দেখতে পেয়েছে। জামায়াতের সঙ্গে দেশের প্রধান বিরোধীদলের এ ঐক্য দুর্ভাগ্যজনক। এদের সঙ্গে এখন মাঠে নেমেছে ‘হেফাজতে ইসলাম।’ পবিত্র ধর্মের নাম ব্যবহার করে তারা মূলত দেশকে নিয়ে যেতে চায় মধ্যযুগে। নারীরা আজ পুরুষের পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সমাজ জীবনের সর্বত্র প্রতিষ্ঠিত। এখানে যেভাবে নারীর ক্ষমতায়ন হয়েছে তা অনেকেরই দৃষ্টি কেড়েছে। হেফাজতে ইসলাম চায় নারী সমাজকে পিছিয়ে রাখতে । হেফাজতে ইসলাম তাদের ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রবিবার রাজধানীতে নৈরাজ্যের সৃষ্টি করেছিল। রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশমুখে অবস্থানের পর দুপুরে মিছিল নিয়ে মতিঝিলে সমবেতও হয়েছিল হেফাজতকর্মীরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তখন পর্যন্ত তাদের বাধা দেয়নি। কিন্তু মতিঝিলে সমবেত হওয়ার পর নেতৃবৃন্দ যেভাবে সরকারকে হুমকি দেয় ও উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখে তাতে এটা স্পষ্ট হয়- অগণতান্ত্রিক পন্থায় সরকারের পতন ঘটাতে চায়। মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধকে ধ্বংস করাই যেন লক্ষ্য। আইনশৃঙ্খলাবাহিনী পরে কঠোর হাতে পরিস্থিতির মোকাবেলা করেছে।
বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত মিলে যে গণতন্ত্রবিরোধী চক্র গড়ে উঠেছে। এরা অপেক্ষায় আছে শেষ আঘাত দেয়ার জন্য।
এখন সময় এসেছে, সব প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। এই অপশক্তিকে কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। এরা গণতন্ত্রের শত্রু। গণতন্ত্রকে রক্ষার জন্য এদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।
অপশক্তির কবল থেকে জনগণকে রক্ষা করা দরকার। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে কার্যকর করার জন্যই তা জরুরী।