মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০১১, ১৩ পৌষ ১৪১৮
কাঁচপুর সেতু ঝুঁকিতে
দীর্ঘদিনের অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ কাঁচপুর সেতু বর্তমানে মারাত্মক হুমকির মুখে। পর্যবেক্ষক মহলের ধারণা, এ সেতু যে কোন সময় ভেঙ্গে পড়তে পারে। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলার সড়কপথের যোগাযোগ এই সেতুর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে; দিবারাত্রি এই সেতুর ওপর দিয়ে বাস-ট্রাকসহ নানা ধরনের ভারি যান চলাচল করে থাকে। অথচ এ ধরনের কর্মব্যস্ত সেতুর জন্য যেমন নিয়মিত সংস্কার কার্যক্রম চালু থাকা উচিত- তেমনটি এ সেতুর ৰেত্রে হয়নি।
জানা গেছে, গত ৩৩ বছরে এই সেতুতে বড় ধরনের সংস্কার হয়েছে মাত্র দু'বার। এ ধরনের অবহেলা ও অব্যবস্থার কারণে সেতুর তিনটি পিলারের চারপাশ থেকে ১০ মিটার পর্যনত্ম মাটি সরে গেছে। সেই সঙ্গে সেতুর সংযোগস্থলের ইস্পাতের পেস্নট ও নাটবল্টু খুলে গেছে। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ সেতুটির ভবিষ্যত নিয়ে সংশ্লিষ্ট অনেকের মনে গভীর আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। কারও কারও মনে ইতোমধ্যে প্রশ্ন জেগেছে, সেতুটি হঠাৎ ভেঙ্গে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা হলে কারা দায়ী হবে? এ ছাড়া যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের গত তিন বছরের দায়িত্বহীনতা নিয়েও সবার মনে ৰোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা কি যথাযথভাবে সড়ক ও সেতুর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালনে আগ্রহী নন? অথচ তাঁদের এ দায়িত্বহীনতার কারণে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সংস্কার ও মেরামতের অভাবে দেশে অনেক সড়ক ও সেতুই বর্তমানে ব্যবহারের প্রায় অনুপযুক্ত। এ জন্য দায়ী কারা? অথচ স্বল্প সময়ের মধ্যে এ সব সড়ক ও সেতুর মেরামত সম্ভব নয়। তাই সংশিস্নষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিটি সেতু ও সড়ক মেরামতের কাজ অবিলম্বে শুরু করা। এ ক্ষেত্রে গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে কাঁচপুর সেতুসহ আরও কয়েকটি সেতুর মেরামতের বিষয়ে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কারণ এই সেতুটি দেশের পূর্বাঞ্চলীয় ১৮টি জেলার মানুষের রাজধানীতে প্রবেশের একমাত্র পথ। এর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, কোন বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণে কাঁচপুর সেতু কিছুকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেলে দেশের অর্থনীতির জন্য তা বিপর্যয় ডেকে আনবে।
কাদের দায়িত্বহীনতার কারণে কাঁচপুর সেতু বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ-তাদের অবশ্যই চিহ্নিত করা দরকার; তাদের বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ জরম্নরী। কারণ একটি গণতান্ত্রিক দেশে যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে এমন ছিনিমিনি খেলার অধিকার কারও নেই। এদের দৃষ্টান্তমূলক শাসত্মি দেয়া অপরিহার্য। সেতুটির ধারণ ৰমতা ২০ টন। অথচ বর্তমানে এ সেতুটির ওপর দিয়ে ৭০ টন পর্যন্ত মালামাল নিয়ে যানবাহন পার হচ্ছে। এ কারণে প্রতিদিনই সেতুর ৰতি হচ্ছে।
শুধু কাঁচপুর সেতু নয়; ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর নির্মিত মেঘনা সেতু বর্তমানে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এমন গুরুত্বপূর্ণ সেতুর এ হাল কেন? আসলে সর্বোচ্চ মহল থেকে এ ধরনের অব্যবস্থার বিষয়ে ব্যাপক তদন্ত অপরিহার্য। এ ৰেত্রে এতটুকু অবহেলা কাম্য নয়।