মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০১১, ১৩ পৌষ ১৪১৮
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি
প্রত্যেক ধর্মের অনুসারীদের অধিকার সমুন্নত রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী। ক্রিসমাস ২০১১ উদযাপনের প্রাক্কালে খ্রীস্টান এ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ অঙ্গীকার করেন। বাংলাদেশকে বাসযোগ্য ভূমি হিসেবে গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতাও প্রত্যাশা করেন তিনি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রৰার জন্য প্রয়োজন সবার আন্তরিক থাকা। প্রতিটি ধর্মের অনুসারীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অধিকার ভোগের নিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরির কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশ সব সময়ই শান্তি ও সম্প্রীতির দেশ হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ এখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্যে বাস করে আসছে যুগ যুগ ধরে। সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প কোন সময়ই আমাদের গ্রাস করতে পারেনি। ধর্মীয় গোঁড়ামি আমাদের সমাজকে ভাগ করে ফেলতে পারেনি। কখনও কখনও দুষ্টচক্র সাম্প্রদায়িকতার ছোবল দিতে চেষ্টা করলেও বাঙালী তার স্বভাবসুলভ আন্তরিকতা ও ধর্মনিরপেক্ষতা দিয়ে সে সঙ্কট কাটিয়ে উঠেছে। তাই ধর্মীয় উগ্রতা, জঙ্গীবাদ স্থায়ী শিকড় গাড়তে পারেনি বাংলাদেশের মাটিতে। মানুষ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রৰায়, ধর্মীয় উগ্রতার বিরুদ্ধে সব সময়ই জোটবদ্ধ হয়েছে। আমাদের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে এগোতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রৰা। এর গুরুত্ব অনুধাবন করা প্রয়োজন সবার। কারণ সাম্প্রদায়িকতা এবং ধর্মীয় বিভেদ আমাদের অগ্রগতিকে পিছিয়ে দিতে পারে। যার ফলে ৰতিগ্রসত্ম হবে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং গণতন্ত্র পনুরম্নদ্ধারের পথে আমাদের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম। ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার প্রক্রিয়া বাংলাদেশের মানুষ কোনদিন মেনে নেননি। তার প্রমাণ নির্বাচনে ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে ভোটাররা সব সময়ই প্রত্যাখ্যান করেছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা অর্জন করেছি আমাদের স্বাধীনতা। আমাদের স্বাধীনতার মূলমন্ত্রও ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করা। আমাদের সংবিধানেও নিশ্চিত করে বলা হয়েছে, প্রতিটি ব্যক্তিরই নিজের পছন্দ অনুযায়ী ধর্ম পালনের অধিকার রয়েছে। ধর্মের স্বাধীনতাও স্বীকৃত।
বর্তমান সরকার সব সময়ই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রৰার পৰে। এবং ধর্মীয় উগ্রবাদকে কখনোই তারা প্রশ্রয় দেয়নি। বরং ধর্মীয় উগ্রতা এবং জঙ্গীবাদ নির্মূলে কাজ করে যাচ্ছে। সরকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টির প্রতি নজর দিয়েছে। সেই সঙ্গে সব ধর্মীয় সম্প্রদায় ধর্মমত ও শ্রেণীর কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। তাই আমরা আশা করতে পারি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রৰার আহ্বান শুধু কাগুজে কথা নয়। বরং এৰেত্রে রয়েছে সরকারের আন্তরিকতা। কারণ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রৰার মাধ্যমেই সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।