মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১১, ১৪ আশ্বিন ১৪১৮
সম্পাদক সমীপে
ফায়ার সার্ভিস স্টেশন চাই
দেশের উত্তরাঞ্চলের একটি প্রাচীন জনপদ হচ্ছে নীলফামারী জেলা। এ জেলার ইতিহাস-ঐতিহ্য থাকলেও বর্তমানে অবহেলিত ও মঙ্গাকবলিত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। জেলার ছয়টি উপজেলার মধ্যে জলঢাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। কারণ ব্রিটিশ আমলে ১৭৯৩ খ্রি. রংপুর জেলাকে ২২টি থানায় বিভক্ত করা হলে নীলফামারী মহকুমায় প্রথম যে চারটি থানার সৃষ্টি হয় সেগুলোর মধ্যে বারোয়ানী থানার আদিরূপ বর্তমান জলঢাকা থানা/উপজেলার উৎপত্তি হয়েছে। বর্তমানে এ উপজেলার আয়তন ৩০৩.৫২ বর্গকিলোমিটার এবং জনসংখ্যা ২৭৪৭৩৬ জন। জলঢাকা উপজেলায় রয়েছে ১১টি ইউনিয়ন, ১টি পৌরসভা, ৬৯টি গ্রাম, ১৯৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১২ নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৩৩ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১০টি মহাবিদ্যালয় এবং ৩১টি মাদ্রাসা। ভৌগোলিকভাবে জলঢাকা উপজেলা এমন এক জায়গায় অবস্থিত যার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের প্রায় প্রত্যেকটি জেলার যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের দিক থেকে এ উপজেলার বড় ধরনের গুরুত্ব রয়েছে। উল্লেখ করা যায় যে, জলঢাকা উপজেলার ওপর দিয়ে বুড়িমারী স্থলবন্দরের হাজার হাজার পণ্যবাহী ট্রাকের সহজ ও কম দূরত্বের যাতায়াত ব্যবস্থা এ উপজেলার গুরম্নত্বকে আরও উন্নত করেছে। তাছাড়া দেশের বৃহৎ সেচ প্রকল্প তিসত্মা ব্যারাজের সঙ্গে বৃহত্তর রংপুর ও দিনাজপুরের ৫৮টি উপজেলা শহরের চেয়ে জলঢাকা উপজেলা শহর থেকে সবচেয়ে কম দূরত্ব ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এ উপজেলার গুরুত্ব অনেক বেশি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, সার্বিক কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজ) এখন পর্যন্ত গড়ে ওঠেনি। জলঢাকা পৌরসভা গঠন করা হলেও সেই ধরনের নাগরিক সুবিধাদি কাঠামোগতভাবে গড়ে ওঠেনি। নাগরিক সুবিধা হিসেবে জলঢাকা উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন করা অনেক আগে দরকার ছিল। কেননা বিগত কয়েক বছরে বিভিন্ন অগি্নকা-ের দুর্ঘটনায় কোটি কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হয়েছে। অন্যান্য অনেক নাগরিক প্রয়োজন ও দুর্ঘটনা এড়াতে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন করার দরকার রয়েছে। জেলা সদরসহ দু'একটি উপজেলা শহরে ফায়ার সার্ভিসের সুবিধা থাকলেও তা জলঢাকা উপজেলার জনগণের জন্য তেমন কাজে আসে না। আকস্মিক অগি্নকা-ের দুর্ঘটনা এড়াতে এবং নাগরিক প্রয়োজনে ওইসব ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন করার দরকার রয়েছে। জেলা সদরসহ দু'একটি উপজেলা শহরে ফায়ার সার্ভিসের সুবিধা থাকলেও তা জলঢাকা উপজেলার জনগণের জন্য তেমন কাজে আসে না। আকস্মিক অগি্নকা-ের দুর্ঘটনা এড়াতে এবং নাগরিক প্রয়োজনে ওইসব ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে সুবিধা পেতে অনেক দেরি হয় অথবা অনেক ৰেত্রে সময়ের কারণে কোন সুবিধা পাওয়া যায় না। তাই সবদিক দিয়ে বিচার করলে জলঢাকা উপজেলায় একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের বাসত্মব প্রয়োজনকে জাতীয় উন্নয়নের ধারা থেকে পৃথক করা যায় না। কারণ দেশের জাতীয় উন্নয়নের অংশ এবং নাগরিক সুবিধা হিসেবে জলঢাকা উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন করা বিবেচনাসম্মত। তাই এ সংক্রান্ত বিষয়ে সংশিস্নষ্ট সবার নিকট জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।

মোঃ জিয়াউর রহমান
প্রভাষক, শিমুলবাড়ী বঙ্গবন্ধু ডিগ্রী কলেজ
জলঢাকা, নীলফামারী।

সড়কের সংস্কার চাই
রাজশাহীর পুঠিয়া থেকে তাহেরপুর পর্যনত্ম সড়কটি খুবই গুরম্নত্বপূর্ণ। বাগমারার তাহেরপুর পৌরসভা ব্যবসা-বাণিজ্যে এ অঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র হওয়ায় জেলা শহরগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে এই রাসত্মার গুরম্নত্ব অনেক। অতীব গুরম্নত্বপূর্ণ এই সড়কটি পণ্য পরিবহন এমনকি চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ায় এর সংস্কার করা হয়। অথচ মাত্র দুই মাস আগে সংস্কার শেষ হওয়ার পর রাসত্মাটি আবারও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ব্যাপক দুনর্ীতি ও অনিয়ম করে সংস্কার কাজ শেষ করাতে সড়কটির এই পরিণতি। রাসত্মার অধিকাংশ স্থানে কার্পেটিং উঠে গেছে। মাঝে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এর ওপর অতিবৃষ্টির কারণে রাসত্মাটির অবস্থা হয়েছে আরও ভয়াবহ। দীর্ঘ ১৫ বছর এই গুরম্নত্বপূর্ণ সড়কের সংস্কার করা হয়নি। ফলে এই রাসত্মা দিয়ে শত শত যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। অবশেষে ১৮ কিমি দীর্ঘ এই রাসত্মার সংস্কার কাজ করা হলেও কাজ হয়েছে খুবই নিম্নমানের। ফলে পণ্য পরিবহন করা ভারি যানবাহন চলছে ঝুঁকি নিয়ে। কদিন পর হয়ত তাও বন্ধ হয়ে যাবে। অবকাঠামোগত দুর্বলতার জন্য আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পের বিকাশ নেই। আমরা এ সব খাতে অনেক পিছিয়ে আছি। তাই এ অঞ্চলের, সার্বিকভাবে রাজশাহী অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে পুঠিয়া- তাহেরপুর সড়ক দ্রুত সংস্কার করা হোক। আমাদের খেয়াল রাখতে হবে সড়ক সংস্কারের নামে কোথাও যেন কোন হরিলুট না হয়।

জাহেদুর রহমান ইকবাল
তাহেরপুর পৌরসভা
বাগমারা, রাজশাহী।