মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১১, ১৪ আশ্বিন ১৪১৮
নষ্ট কর্মঘণ্টা ও রোগব্যাধি
যানজট একটি স্থায়ী সমস্যা হিসেবে দেখা দেওয়ায় পরিবহন খাতে বড় ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোনো ছাড়া কোন উপায় নেই। যানজট সমস্যার সমাধান না হওয়ায় প্রতিদিনই অনেক কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। পিছিয়ে যাচ্ছে উন্নয়ন। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে অগ্রগতি। শুধু তাই নয়, শব্দদূষণ ও বায়ুদূষণে নানা সংক্রামক ব্যাধিতেও আক্রান্ত হচ্ছে রাজধানীর বিপুলসংখ্যক মানুষ। যানজটে নগরবাসীর প্রাত্যহিক জীবনযাত্রাও বিঘি্নত হচ্ছে। অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণও বাড়ছে দিন দিন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা যায়, যানজটের কারণে বছরে আর্থিক ৰতির পরিমাণ ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি। সব রম্নটে যাত্রীদের চলাচলে কমপৰে ৩ কর্মঘণ্টা সময় অপচয় হয় প্রতিদিন। যানজটের কারণে বিপুল পরিমাণ জ্বালানিরও অপচয় হয়। কিন্তু এ থেকে পরিত্রাণের যেন কোন উপায় নেই। বিভিন্ন সময়ে নানামুখী কর্মসূচী-পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হলেও বাসত্মবায়ন হয়েছে খুবই কম। ফলে সমস্যা যে তিমিরে ছিল সেখানেই রয়ে গেছে। অথচ দুবির্ষহ যানজটের জন্য পরিকল্পনা ও সমন্বয়হীনতার অভাবকেই দায়ী করা হয়।
রাজধানীতে দিন দিন জনসংখ্যা বেড়ে চলেছে। সেই সঙ্গে পালস্না দিয়ে বাড়ছে গাড়ি-ঘোড়া। কিন্তু সে তুলনায় রাসত্মাঘাট বাড়ছে না। ফলে যানজট এক অনিবার্য বাসত্মবতা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এছাড়া নিয়মের ব্যত্যয় হওয়াতে যানজট থেকে মুক্তি পাচ্ছে না রাজধানীবাসী। যানজট নিয়ন্ত্রণে কঠোর ট্রাফিক আইনের প্রয়োগ, প্রাইভেট গাড়ির ওপর নিয়ন্ত্রণ, যত্রতত্র প্রাইভেটকার পাকিং নিষিদ্ধ করা, রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নদীপথ এবং ঢাকার ভেতরের খাল দখলমুক্ত করে নৌপথের উন্নয়ন করা, রিকশামুক্ত সড়কসহ নানা পরিকল্পনার কথা বলা হয়। কিন্তু এগুলো নিয়ে কথাবার্তা যতটা হয় কাজ ততটা হয় না যে তা যানজটের বর্তমান হালই বলে দিচ্ছে।
কিন্তু যানজট এখন এমন এক অবস্থায় পেঁৗছেছে যে, এ থেকে পরিত্রাণের উপায় খুঁজে বের করতে হবে। যানজট নগরবাসীকে স্থবির ও অচল করে রেখেছে। এই অবস্থা দীর্ঘায়িত হলে এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক ফলাফল হবে অত্যনত্ম ভয়াবহ। পত্রিকানত্মরে খবর বেরিয়েছে বাংলাদেশসহ দৰিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে পরিবহন খাতে একটি স্বসত্মিদায়ক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে আগামী ডিসেম্বর ভারতে আঞ্চলিক পর্যায়ে গুরম্নত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই বৈঠকের আলোচ্যসূচীতে থাকছে গণপরিবহন, অবকাঠামো, সুশাসন অযান্ত্রিক পরিবহন, পরিবহনের পরিদর্শন ও ব্যবস্থাপনা, ড্রাইভিং লাইসেন্সের ৰেত্রে গুণগত পরিবর্তন ও স্বাস্থ্যগত বিষয়। এসব বিষয়ে আলোচনা করে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো একটি কার্যকর সিদ্ধানত্মে পেঁৗছতে পারলে তা শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা দৰিণ এশিয়ার পরিবহন ব্যবস্থায়ই একটি আমূল পরিবর্তন আনতে সৰম হবে। এ জন্য বাংলাদেশকে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। যানজট নিরসনে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ ছাড়াও বিদ্যমান সমস্যা নিরসনে পরিকল্পনা বাসত্মবায়নের প্রয়োজনীয় অর্থও সংগ্রহ হতে পারে এ ধরনের আঞ্চলিক বৈঠকে।