মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১১, ১৪ আশ্বিন ১৪১৮
দুর্নীতিবাজ
দেশের উন্নয়নে দুর্নীতি অন্যতম প্রধান অন্তরায়। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে একটি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের লৰ্যে অঙ্গীকারবদ্ধ। সেই লৰ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সর্বস্তরে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়া সমাজ থেকে দুর্নীতি পুরোপুরি নির্মূল করা কখনোই সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রবিবার নিউইয়র্কে এক সংবর্ধনা সভায় বলেছেন, "দেশে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দুর্নীতিবাজ কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।" তাঁর এ বক্তব্য দেশের অনেককেই আশাবাদী করে তুলেছে। মানুষ আশা করছে, বর্তমান সরকারের ক্রমাগত প্রচেষ্টার ফলে আগামীতে হয়ত দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। কারণ দুর্নীতি দূর না করা হলে উন্নয়নের যথাযথ পরিবেশ সৃষ্টি হবে না; একই সঙ্গে সমাজজীবনে আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাও বাধাগ্রস্ত হবে। তাই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে তৃর্ণমূল পর্যায় পর্যন্ত দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করা অপরিহার্য।
আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষ দেশপ্রেমিক ও মনেপ্রাণে দেশের কল্যাণ এবং উন্নয়ন প্রত্যাশী।
সরকারের ক্রমাগত চেষ্টার ফলে গত কয়েক বছর দেশে দুর্নীতি কমেছে। কয়েকটি আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থার জরিপের আলোকে এ তথ্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। তবে এ নিয়ে আত্মতুষ্টির অবকাশ নেই। দুর্নীতির বীজ ছড়ানো সর্বত্র। কিছুকাল আগে একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, "বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি দমনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে সেই সঙ্গে ব্যর্থতার পাল্লাও ভারি হচ্ছে। এতে সব সাফল্য মস্নান হয়ে যাচ্ছে।" সরকারকে এসব ব্যর্থতার বিষয়ে সচেতন হতে হবে। এবার ঈদের আগে দেশের অবকাঠামো বিশেষ করে যোগাযোগ খাতে অব্যবস্থাপনা, অদৰতা, জবাবদিহিতার অনুপস্থিতির কারণে সারাদেশে জনমনে ৰোভের সৃষ্টি হয়েছিল। এ ছাড়া প্রশিৰণ ছাড়া অদৰ ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়ার পরামর্শের বিষয়টি উলেস্নখ করা যায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের কথা বলেছেন তা সার্বৰণিক সচল রাখা দরকার। দুর্নীতিবাজকে শনাক্ত করার সময় তার অন্য কোন পরিচয়কে গুরুত্ব দেয়া উচিত নয়। দুর্নীতিবাজের প্রধান পরিচয় সে দুর্নীতিবাজ এবং দেশের মানুষের শুত্রু। তার কারণেই দেশের মানুষের এ দুরবস্থা; তার ৰমা নেই। আর দুর্নীতিবাজের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তি যত মজবুত হোক না কেন তাকে ছাড় দেয়া যাবে না; শাসত্মি তাকে পেতেই হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদেশে অবস্থানকালে দুর্নীতিবাজদের বিরম্নদ্ধে যেভাবে সোচ্চার হয়েছেন তা অবশ্যই প্রশংসাযোগ্য। সবার প্রত্যশা, দেশে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সর্বসত্মরে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান জোরদার করা হোক। দেশ দুর্নীতিমুক্ত হলে এখানে বিনিয়োগ হবে, শিল্পায়ন হবে এবং উন্নয়ন হবে।