মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ৯ আগষ্ট ২০১১, ২৫ শ্রাবণ ১৪১৮
সম্পাদক সমীপে
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ
সংৰেপে বলা হয় 'হু' যার নাম বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা। জাতিসংঘের স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশে শতকরা ৭০ ভাগ মানুষ এই গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার বিষয়ে অবগত নয়। এই দেশে সংস্থাটির কার্যক্রম লৰণীয় নয়। গ্রামাঞ্চলের সাধারণ লোকজন এর নাম কখনও শুনেনি। সাধারণ মানুষের নিকট অজানা। বাংলাদেশের সংস্থাটির কোন দফতর আছে কিনা এবং থেকে থাকলে এর অফিস কোথায় এবং এই দেশে সংস্থাটির ভূমিকা কি সে বিষয়ে অধিকাংশ মানুষ অবগত নয়। আধুনিক বিশ্বে চিকিৎসাসেবা অনেকটা এগিয়ে গেলেও বাংলাদেশ অনেক পেছনে পড়ে আছে। আধুনিক, উন্নতমানের চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারেনি। চিকিৎসা নিতে বিদেশ যেতে হয়। সাধারণ গরিব মানুষ উন্নত চিকিৎসা হতে বঞ্চিত হচ্ছে। অসহায় রোগী যারা প্রতিবছর বিনা চিকিৎসায় মৃতু্যবরণ করে কঠিন ব্যাধিতে অর্থের অভাবে। নানা জটিল অপারেশনে লাখ লাখ টাকার প্রয়োজনে সাহায্য চেয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়া হয়। বেঁচে থাকার তাগিতে অর্থের অভাবে বঞ্চিত শ্রেণীর মৃতু্য যেন অবধারিত। বঞ্চিত শ্রেণী বেঁচে থাকার জন্য আকুতি জানায় বিত্তবানদের কাছে অর্থের জন্য। এদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব নিতে ওয়াদাবদ্ধ রাষ্ট্র ও সরকার। গরিব রাষ্ট্রের পৰে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বিধায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা খাতে সাহায্য সহযোগিতা করতে পারে। কিডনি, লিভার, ফুসফুস, ভাল্ব, ওপেন হার্ট সার্জারি, বিভিন্ন ক্যান্সার প্রভৃতি কঠিন ও জটিল রোগের চিকিৎসায় অর্থের অভাবে বঞ্চিত শ্রেণী মৃতু্যবরণ করছে প্রতিবছর। এদের দায়িত্ব নিতে জাতিসংঘের সংস্থা হু চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সব প্রকার মেশিন, যন্ত্রপাতি পরীৰার জন্য দান করতে পারে। প্রাথমিক অবস্থায় প্রতিবছর প্রতি রোগীকে ৫ লাখ টাকা হিসেবে এক হাজার রোগীর জন্য ৫০ কোটি টাকা মানবতার জন্য দান করতে বা বরাদ্দ দিতে পারে। তাহলে এই শ্রেণী কঠিন রোগের চিকিৎসা নিতে পারবে। সি ভিটামিন ট্যাবলেট, ভিটামিন বিস্কুট এসব দিয়ে হু তার দায়িত্ব পালন শেষ করতে পারে না। বাংলাদেশে সংস্থাটির কার্যক্রম ও এর অফিস থেকে থাকলে সব তথ্য জানাতে হবে। এদের আয় ও ব্যয়ের হিসাব আমাদের জানা প্রয়োজন। বিশ্বব্যাংকের মতো বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা বিশ্বের গরিব দেশে স্বাস্থ্যসেবা যৎ সামান্য নিশ্চিত করতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করবে এটাই প্রত্যাশা। যেহেতু এর নাম বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা সেহেতু সংস্থাটিকে তার দায়িত্ব পালনে ভূমিকা রাখতে হবে বিশ্বব্যাপী। অর্থয়ানে স্বার্থকতা থাকবে না। অর্থের অভাবে বিনা চিকিৎসায় বিশ্বে গরিব দেশগুলোতে প্রতিবছর অসংখ্য রোগীর মৃতু্য হচ্ছে। মানবতার জন্য জাতিসংঘের মহাসচিবকে অবশ্যই এগিয়ে আসতে হবে। চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণে ভূমিকা পালন করতে হবে। হু এর মতো অন্য দাতা সংস্থাগুলো এবং এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক ও বিশ্বব্যাংক এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা খাতে তথা গরিব শ্রেণীকে চিকিৎসা নিতে নগদ অর্থে সাহায্য করতে পারে। মানবতার জন্য এগিয়ে আসুন, বিশ্বকে সুন্দর রাখুন।
মোঃ মেছের আলী
শ্রীনগর, মুন্সীগঞ্জ।

এমবিবিএসের ত্রুটিপূর্ণ কারিকুলাম সংস্কার করা হোক
সম্প্রতি দেশের সরকারী-বেসরকারী মেডিক্যাল কলেজে ত্রম্নটিপূর্ণ কারিকুলামের এমবিবিএস কোর্স পরিচালিত হওয়ায় শিক্ষার্থীগণ হাতে-কলমে শেখার সুযোগ পাচ্ছে কম। এ অবস্থার পরিপ্রেৰিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সেন্টার ফর মেডিক্যাল এডুকেশন (সিএমই) শাখা কর্তৃক এমবিবি এসের কোর্স কারিকুলাম আকার সংৰিপ্ত করে হালনাগাদ ও যোগোপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছে বলে পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা যায়। এ বিষয়টি বর্তমানে শিৰাথর্ীগণের স্বার্থে এবং ভবিষ্যতে দেশে ভাল চিকিৎসক তৈয়ারের ৰেত্রে খুবই উত্তম হবে। উলেস্নখ্য এ বিশাল আকারের কারিকুলাম শিক্ষার্থীগণের জন্য বোঝা হওয়ার দরম্নণ পড়ালেখার চাপ সহ্য করতে না পেরে অনেকেই মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে মেডিক্যাল কলেজে পড়ালেখা ছেলে চলে যাচ্ছে। ফলে দেশে ভবিষ্যতে ভালো চিকিৎসক তৈরী হচ্ছে খুবই কম। এ ব্যাপারে দ্রম্নত পদৰেপ না নিলে দেশের জনগণ ভাল চিকিৎসকের অভাবে বঞ্চিত হবে চিকিৎসা সেবা থেকে। কাজেই এ বিষয়টি গুরম্নত্বের সহিত বর্তমান শিৰাথর্ীগণ যাতে এ সুযোগ পায় তার জন্য দ্রম্নত পদৰেপ নিতে হবে। এ ছাড়াও সরকারী-বেসরকারী মেডিক্যাল কলেজের শিৰাথর্ীদের মাঝে সকল প্রকার বৈষম্য দূর করা অত্যাবশ্যক যেহেতু গত বছর হতে সরকারীভাবে একই অভিন্ন প্রশ্নে পরীৰা নিয়ে শিৰাথর্ী ভর্তি করা হচ্ছে।
বর্তমানে দেশে একটি মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি থাকলে ও উহাতে সরাকরী বেসরকারী মেডিক্যাল কলেজ এর অধিভুক্ত করা হচ্ছে না অথচ স্বাধীনতা পূর্ব ছাত্রদের ঐতিহাসিক এগারো দফা দাবী নামায় ্উহা উলেস্নখ ছিল। কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার চলিস্নশ বছর অতীত হলেও তা কার্যকরী করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। বাংলাদেশ একটি ছোট দেশ এবং আর্থভাবে দুর্বল সুতরাং দেশে আরও মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি সম্প্রসারিত করে বর্তমান প্রতিষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি (বিএসএমএমইউ) কে উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আরও গতিশীল করে দেশের সকল সরকারী-বেসরকারী মেডিক্যাল কলেজে স্নাতক পর্যায়ের কোর্স উক্ত মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে অধিভুক্ত করা প্রয়োজন।
এ ব্যাপারে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা অবলম্বনের জন্য প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, ভিসিবিএসএমএম ইউ ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের আশু দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
কাজী ফিরোজ বেগম
গোপালগঞ্জ।

রমজানে হোটেল, খাবারের দোকান বন্ধ রাখুন
আমাদের দেশেখোদ ঢাকা শহরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় রমজান মাসেদিনের বেলায় হোটেল,খাবারের দোকান, চায়ের দোকান খোলা থাকতে দেখা যায়। রমজান মাসে হলো 'সিয়াম' সাধনার মাস। সিয়াম পালন মুসলমানদের জন্য ফরজ করা হয়েছে। কারণ এটা হলো মুসলমানদের আত্মশুদ্ধির মাস। এই রোজা পূর্ববতর্ী অনেক নবীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল। যেমন-হযরত ঈসা (আঃ) ও হযরত সূমা (আঃ) এর সময়েও। কিন্তু এসব হোটেল ও খাবারের দোকান যত্রযত্র খোলা থাকার ফলে রোজাদারদের তো অসুবিধা হয়, পাশাপাশি রোজা না রাখতে এক শ্রেণীর মুসলমানদেরকে উৎসাহিত করা হয়। দেখা যাচ্ছে একজন রোজাদারের সামনে লোকজন পানাহার করছে ফলে তার রোজার ৰতি হচ্ছে। ফলে এসব দোকান খোলা থাকায় আমরা রোজাদারগণ ৰতিগ্রসত্ম হচ্ছি।
তাই কতর্ৃপৰের উচিত ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে দিনের বেলায় হোটেল ও খাবারের দোকান বন্ধ রাখতে বাধ্য করানো। 'সিয়ামর তাৎপর্য উপলব্ধি করে সকল প্রকার পানাহার থেকে সকল মুসলমানরা বিরত থাকবে পবিত্র রমজান মাসে এটাই সবার কাম্য।
শেখ মনিরম্নজ্জামান (মনির)
সেগুন বাগিচা, ঢাকা।