মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ১৮ জুন ২০১১, ৪ আষাঢ় ১৪১৮
বিপন্ন পাখি
গত ১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১৮ প্রজাতির পাখি হারিয়ে গেছে। পরিবেশ উন্নয়নে পাখির ভূমিকা শীর্ষক এক আলোচনাসভায় এই তথ্য উলেস্নখ করেছেন বক্তারা। বুধবার রাজধানীতে 'বাংলাদেশ বন্য প্রাণী সংরৰণ ও প্রতিপালন সমিতি' এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।
তথ্যটি উদ্বেগজনক সন্দেহ নাই। পাখিদের প্রতি আমাদের উদাসীনতারই প্রমাণ মেলে এই তথ্যে। শুধু পাখি কেন, বন্য কোন প্রাণীর ব্যাপারে আমাদের মায়া আছে এটা বলা কঠিন। আমাদের দেশ থেকে অনেক বন্যপ্রাণী হারিয়েছে গেছে। অনেক বন্যপ্রাণী হারিয়ে যাওয়ার পথে অর্থাৎ বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে। এখন থেকেই যদি অধিকতর যত্নবান হতে না পারি, দায়িত্বশীলতার পরিচয় না দিই তাহলে বিপন্ন অনেক প্রজাতির প্রাণীকে রৰা করা যাবে না।
নদী-নালা, খাল-বিল এবং গাছগাছালির দেশ বাংলাদেশ। এখানে নদীতে বহু প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত এক সময়। বনে জঙ্গল ঝোপঝাড়ে ছিল কত ধরনের বন্যপ্রাণী। গাছে গাছে ছিল নানা বর্ণের নানা জাতের পাখি। এখন আগের মতো প্রাণী বৈচিত্র্য আর লৰ্য করা যায় না। এক দশক আগেও বাজারে যত ধরনের মাছ উঠত এখন তত ধরনের মাছের দেখা মেলে না। অনেক প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। অনেকগুলো বিলুপ্তির পথে। মাছের হারিয়ে যাওয়া বা বিপন্ন হওয়ার পেছনে মূলত মানুষই দায়ী। জমিতে ব্যাপকভাবে রাসায়নিক সারের ব্যবহার এর একটি কারণ। এ ছাড়া এক সময় দিনের পর দিন কারেন্ট জাল, মশারি জাল ইত্যাদি সূক্ষ্ম জাল দিয়ে মাছ ধরা হয়েছে। ওইসব জালে নির্বিচারে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ ছেঁকে ছেঁকে তোলা হয়েছে। জমিতে রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে বৃষ্টির পানির সঙ্গে সে সার খালে-বিলে-নদীতে মিশে মাছের ৰতি করছে। এমনি নানাভাবে মাছের ৰতি হয়েছে। বন্যপ্রাণী পেলেই অতীতে পিটিয়ে মারা হতো। এখনও যে এটি বন্ধ হয়েছে তা বলা যাবে না। শিয়াল, গুইসাপ, খরগোশ এমনকি সাপ পর্যনত্ম পেলেই পিটিয়ে মারা হয়েছে। এ কাজে ছোটদের যেমন উৎসাহ ছিল, বড়দেরও কম ছিল না।
পাখির ব্যাপারেও একই কথা বলা যায়। নানাভাবে পাখি শিকার করা হয়েছে দীর্ঘকাল ধরে। পাখি ধরা, মারা এবং খাওয়া নানা প্রক্রিয়া চলেছে দীর্ঘকাল ধরে। এর সঙ্গে পাখিদের আবাস নষ্ট করা হয়েছে ব্যাপকভাবে। গাছপালা কেটে ফেলা হয়েছে, বন ধ্বংস করা হয়েছে। দেশে এককালে অবশ্য বন ছিল। এখন বনের পরিমাণ কমে গেছে। গাছপালা ছিল গ্রামে গ্রামে। সে সবের সংখ্যাও কমে গেছে অনেক। ফলে পাখিদের নিরম্নপদ্রব বাসস্থানের অভাব দেখা দিয়েছে অনেক আগেই।
বন্যপ্রাণী মারা নিষিদ্ধ হয়েছে অনেক দিন আগেই। এই আইন মানা হচ্ছে কিনা সেটা যেমন লৰ্য রাখা দরকার, তেমনি ওদের নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করাও দরকার। গাছপালার সংখ্যা বাড়াতে হবে। বনের পরিধি বাড়াতে হবে, বন ধ্বংসের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। রাসায়নিক সারের যথেচ্ছ ব্যবহারের বিষয়ে ভাবতে হবে। জৈব সারের ব্যবহার জমিতে বাড়াতে হবে, নদীর গভীরতা বাড়াতে হবে। নদীগুলোকে দূষণমুক্ত রাখতে হবে। বন্যপ্রাণী পাখি এবং মাছের নিরাপদ আবাস যত বেশি নিশ্চিত করা যাবে, তত বেশি তাদের বিলুপ্তির প্রক্রিয়া রোধ করা সম্ভব হবে।
তবে এসব বিষয়ে বিশেষভাবে প্রয়োজন ব্যাপক জনসচেতনতা। বন্যপ্রাণী, মাছ এবং পাখি পরিবেশ রৰার জন্য কতখানি প্রয়োজন সেটা সাধারণভাবে সবাইকে বোঝাতে হবে। বোঝাতে হবে এদের রৰা করার প্রয়োজনীয়তা। প্রচার মাধ্যমগুলোর মাধ্যমে এই বিষয়ে ব্যাপক প্রচারণা এ ব্যাপারে অনেক কাজে আসতে পারে।