মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ১৮ জুন ২০১১, ৪ আষাঢ় ১৪১৮
পাহাড়ের চূড়ায় পুকুর
খাল বিল শুকিয়ে গেল গাছের আগায় পানি। নারকেল গাছ নিয়ে এ রকম একটি গ্রাম্য প্রবাদ চালু আছে। সিলেটে এমনই এক ঘটনার কথা শোনা গেল।
সমতল ভূমি থেকে প্রায় চলিস্নশ ফুট উঁচু মলাইটিলায় চূড়ায় ১০ ফুট গভীর করে গর্ত খোঁড়া হয়েছে। টিলার মালিক এটিকে পুকুর বলে চালিয়ে দিচ্ছিলেন যাতে পরিবেশ অধিদফতরকে ফাঁকি দেয়া যায়। আর এই অভিনব কৌশলের মাজেজা হচ্ছে বৃষ্টি হলে গর্ত ভরে যাবে। আর পানি নিচের দিকে গড়িয়ে নামার সময় ধসে যাবে টিলা। এর ফলে সহজেই সমতল ভূমিতে পরিণত হবে এই টিলাটি। তখন পস্নট আকারে বেশি দামে বিক্রি করা যাবে। একটি দৈনিকে সিলেটের খাদিমপাড়ায় এই ঘটনার খবর ছাপা হয়েছে। মানুষ যে পরিবেশ ধ্বংসের জন্য কতভাবে উঠেপড়ে লেগে গেছে তার একটি জাজ্বল্য উদাহরণ হচ্ছে টিলায় 'পুকুর' কাটার ঘটনা। এ সম্পর্কে মামলা হয়েছে এবং টিলায় মাটি কাটার কাজ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। কিন্তু ইতিমধ্যেই টিলার ৰতি যা হবার তা হয়ে গেছে। সিলেট এলাকায় টিলা ধ্বংসকারী একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরেই তাদের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে, যা ভূমি বৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশকে বিনষ্ট করছে।
আত্মবিনাশী কর্মকাণ্ডে আমাদের কোন জুড়ি নেই। বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ব্যাপক হুমকির সম্মুখীন যেসব দেশ, তাদের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ঝড়-বৃষ্টি, বন্যা, খরা লেগেই আছে।
শুধু সিলেটেই নয়, সারাদেশেই বিশেষ করে চট্টগ্রামেও অবাধে কাটা হচ্ছে পাহাড়। জানা গেছে, গত এক দশকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে ৩৫টি পাহাড় আর দেড়শ' পাহাড়ের অবস্থাও ৰতবিৰত। অব্যাহত পাহাড় কাটার ফলে পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটছে। পাহাড় ধসে ঘরবাড়ি বিধ্বসত্ম হওয়াসহ প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। কিন্তু কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে না পাহাড় কাটা। বরং দখলকারীরা দিন দিন নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করছে আইন ফাঁকি দেয়ার জন্য। এমনিতেই এসব ৰেত্রে আইনী পদৰেপ খুব যে ক্রিয়াশীল বলা যাবে না। তার ওপর কৌশলকারীদের পরাসত্ম করা এবং সে ধরনের জোরালো পদৰেপ নেয়ার মানসিকতা সংশিস্নষ্ট প্রশাসনের আছে কিনা তাতেও রয়েছে সংশয়।
পাহাড় কাটার কুফল কারও অজানা নয়। কাজেই এ আত্মবিনাশী প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার কোন বিকল্প নেই।