মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ২০ এপ্রিল ২০১১, ৭ বৈশাখ ১৪১৮
গরিবের চাল কালোবাজারে
দুর্নীতি যে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে আছে তার প্রমাণ বার বার পাওয়া যায়। সম্প্রতি নতুন করে আবার পাওয়া গেল। রাজধানীর কাওরান বাজারের গুদাম থেকে ত্রিশ হাজার বস্তা ওএমএসের চাল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। রবিবার র্যাব এক অভিযান চালিয়ে এই চাল উদ্ধার করে। যাদের কাছে বা গুদামে এসব চাল পাওয়া গেছে তাদের কাছে এ চাল থাকার কথা নয়। কারণ, এই চাল বিক্রির ডিলারশিপ তারা পাননি, তাদের কাছে এ সম্পর্কিত বৈধ কাগজপত্রও নেই বলে জানা গেছে।
ঢাকায় এই চাল ধরার খবরের সঙ্গে পাওয়া গেল আরেকটি একই ধরনের খবর। ভৈরবেও উদ্ধার করা হয়েছে ১২০ বসত্মা চাল। এটাও ওএমএসের চাল।
সমাজে এক শ্রেণীর মানুষ সব সময়ই রয়েছে যারা ডাকাতদের মতো বা ছিনতাইকারীদের মতো রাম দা বা পিসত্মল হাতে নিয়ে মানুষের ধনসম্পত্তি লুট করে না, কিন্তু নীরবে, লোকচৰু এড়িয়ে এমন কাজ করে যা ডাকাতদের কাজের চাইতে কম নয়, বরং বেশি।
সরকার ওএমএসসহ বেশকিছু গুরম্নত্বপূর্ণ কর্মসূচী হাতে নিয়েছে। সেই অনুযায়ী কাজ শুরম্ন হচ্ছে। এগুলোর লৰ্য দরিদ্র খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের হাতে কম দামে চাল পেঁৗছে দেয়া। বাজারে চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় দরিদ্র মানুষের পৰে বেশি দামে চাল কিনতে কষ্ট হবে দেখে সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে। উদ্যোগটি যে খুব ভাল তা বলার অপেৰা রাখে না।
দেশে ওএমএস চালু হয়েছে। এই কর্মসূচীতে বাজারের থেকে কম দামে চাল বিক্রি হচ্ছে। বহু মানুষ চাল কিনছে। নিম্নবিত্ত খেটে খাওয়া মানুষ দরিদ্র মানুষ এমনকি কোন কোন ৰেত্রে সাধারণ মধ্যবিত্ত অনেকে এই চাল কিনছে এবং এতে সবার উপকার হচ্ছে।
কিন্তু দেখা যাচ্ছে, এই ভাল উদ্যোগের মধ্যেও কিছু কিছু দুর্নীতি ঢুকতে শুরু করেছে, এটা করছে একটা চক্র। তারা গরিবের হক মারার চেষ্টা করছে। ভৈরব এবং কাওরান বাজারে চাল পাচারকারীরাই এই চক্রে অনত্মভর্ুক্ত। এদের সমূলে উৎখাত করতে হবে। খাদ্য অধিদফতরের কোন কর্মচারী বা কর্মকর্তার এই জঘন্য কাজের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে তাদের বিরম্নদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি এই চক্রের সঙ্গে সংশিস্নষ্ট সকলকে খুঁজে বের করে এদের কঠোর শাসত্মির ব্যবস্থা করতে হবে। সরকরের এই ভাল উদ্যোগে যাতে আর কোন চক্র বা আর কেউ এ ধরনের দুর্নীতি করতে সাহস না পায় সে জন্য এই কঠোর ব্যবস্থা জরম্নরী।
ওএমএসের চাল খোলাবাজারে বিক্রি করার উদ্দেশ্য দরিদ্র মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে এর আরেকটি উদ্দেশ্য হচ্ছে বাজারে চালের দাম যাতে না বাড়ে সেটা নিশ্চিত রাখা। ওএমএসের এই চাল পাচার করার উদ্দেশ্য এই চালকে বাজারে বেশি দাম দিয়ে বিক্রি করা। বোঝা যায়, ভৈরব এবং কাওরান বাজারের চক্রটি এটাই চেয়েছিল।
সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য সরকারীভাবে অনেক কর্মসূচী অনেক সময় নেয়া হয়। যাদের জন্য এ সব নেয়া তারা এর পুরো ফল সব সময়ে পায় না। ব্যবস্থাপনার মধ্যে অদৰতা, দুর্নীতি ইত্যাদি এগুলোকে পুরোপুরি সফল হতে দেয় না। ওএমএস কর্মসূচীতে তারই আভাস দেখা যাচ্ছে। সরকারকে কঠোর হস্তে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং এই কর্মসূচীর বিষয় সারাদেশে নজরদারি বাড়াতে হবে। তাহলেই যাদের জন্য করা উপকার পাবে তারা।