মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ২০ এপ্রিল ২০১১, ৭ বৈশাখ ১৪১৮
আবার অশান্ত পাহাড়
পাহাড়ে কারণে অকারণে রক্ত ঝরছে। এটা মেনে নেয়া যায় না। কিছুদিন পরপরই সেখানে গোষ্ঠী দ্বন্দ্বসহ নানাবিধ কারণে সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এতে প্রাণহানিসহ সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হচ্ছে এই সংঘাত-সংঘর্ষ দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। বাঙালী এবং অবাঙালী বা আদিবাসীদের মধ্যে সন্দেহ, অবিশ্বাস দানা বাঁধছে। এ অবস্থায় শানত্মিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা ছাড়া সেখানে শানত্মির কোন উপায় নেই।
সর্বশেষ সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে রবিবার। এই ঘটনায় অন্তত ৩ জনের প্রাণহানি ঘটে। তাদের সবাই বাঙালী। অপরদিকে আদিবাসীরাও দাবি করেছে তাদের পৰেও লোকজন মারা গেছে। উভয় পৰেই লোকজন নিখোঁজ রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত রিপোর্ট থেকে জানা যায়, রবিবার বিকেল পাহাড়ীদের জমি বাঙালীরা দখল করতে গেলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। তবে বাঙালীরা অভিযোগ করেছে পাহাড়ীরা প্রথমে বাঙালীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। বাঙালী অধু্যষিত এলাকায় নিহতদের খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে বাঙালীরা পাহাড়ীদের গ্রামের কিছু ঘরে অগি্নসংযোগ করে। রিয়ং মরম গ্রামে ৫টি, শনখলা গ্রামে ২৫টি ঘর পুড়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছে পাহাড়ীরা। সংঘর্ষের পর গুইমারায় খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম-ঢাকা সড়ক অবরোধ করে রাখে বাঙালীরা। জেলা প্রশাসক ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ঘটনাস্থল দুর্গম অঞ্চলে হওয়ায় এ সংক্রানত্ম সঠিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না বলে প্রশাসনের পৰ থেকে বলা হয়েছে।
পাহাড়ে যে সমসত্ম দ্বন্দ্ব-সংঘাত হচ্ছে তার মূলে রয়েছে ভূমি বিরোধ। সর্বশেষ প্রাণহানির ঘটনাটিও ঘটল এই ভূমিবিরোধকে কেন্দ্র করেই। পার্বত্য চুক্তি বাসত্মবায়ন এবং চুক্তির আলোকে ভূমি সসমস্যার সমাধান ব্যতিরেকে পাহাড়ে শানত্মি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় বলে রাজনৈতিক বিশেস্নষকরা বলছেন। ১৯৯৭ সালে পার্বত্য শানত্মিচুক্তি সই হওয়ার পর ১৩ বছর পার হলেও এখনও শানত্মিচুক্তির অনেক কিছুই বাসত্মবায়িত হয়নি। এ নিয়ে পাহাড়ী বাঙালী এবং আদিবাসী উভয় পৰের মধ্যেই অসনত্মোষ রয়েছে। এরই মধ্যে শানত্মিচুক্তিবিরোধী এই গোষ্ঠীও সেখানে দাঁড়িয়ে গেছে। এ অবস্থায় নিরাপত্তারৰাকারী বাহিনী বনাম পাহাড়ী, পাহাড়ী বনাম বাঙালী এবং পাহাড়ী বনাম পাহাড়ী এই ত্রিমুখী সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে মানুষজন। এর মূলে রয়েছে প্রধানত ভূমিসংক্রানত্ম বিরোধ। এ অবস্থায় শানত্মিচুক্তি সম্পূর্ণ রূপে বাসত্মবায়নই সেখানে শানত্মির সুবাতাস বইয়ে দিতে পারে। পাহাড়ের সমস্যা একটি রাজনৈতিক সমস্যা। এ কারণে রাজনৈতিকভাবেই এর মোকাবেলা করতে হবে। সে জন্য প্রয়োজন সুষ্ঠু রাজনৈতিক চর্চা অব্যাহত রাখা। পাহাড় অশানত্ম হলে আসলে কারও লাভ নেই এ কথা নিশ্চয়ই সকলে স্বীকার করবেন। তাহলে শানত্মি প্রক্রিয়া বাধাপ্রাপ্ত হয় এমন কর্মকা- থেকে সকল পৰকেই দূরে থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, রক্তপাত আরও সংঘাত-সংঘর্ষের পথ সৃষ্টি করে। এতে পাহাড়ে বসবাসকারী সকল জনগোষ্ঠীর মধ্যে সন্দেহ-অবিশ্বাস বাড়ে। কাজেই শানত্মিপূর্ণ সহাবস্থানই হতে পারে পাহাড়ে স্থায়ী শানত্মির প্রতিষ্ঠার উপায়। সশস্ত্রপথে কোন অবস্থাতেই শানত্মি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে সংশিস্নষ্ট সকল পৰের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে এগিয়ে আসার কোন বিকল্প নেই।