মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১১, ১২ ফাল্গুন ১৪১৭
সম্পাদক সমীপে
ইউপি নির্বাচন এবং এইচএসসি পরীক্ষা
আমি দেশের উপকূলীয় এলাকা ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার একজন ভোটার। দেশের একজন নাগরিক হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং শিৰামন্ত্রী সমীপে নির্বাচন এবং পরীৰা বিষয়ে কিছু দাবি উপস্থাপন করছি। আশা করি আমাদের সকলের পৰ থেকে আমার এ দাবি আনত্মরিকতার সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। পত্রিকান্তরে এবং ইলেক্ট্রনিক সংবাদ মাধ্যমে কিছুদিন যাবত দেখছি যে, ফেব্রম্নয়ারি মাসের শেষাংশে ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন অনড়। মার্চ মাসে দেশের ৪৬৪ উপজেলার মধ্য থেকে মাত্র ২৮/৩০টি উপকূলীয় উপজেলার অনত্মর্গত ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন করার ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধানত্ম নিয়েছে। অবশিষ্ট ৪৩০-৩৫টি উপজেলার নির্বাচন হবে মে মাসে। নির্বাচন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এ ধারাবাহিকতার ব্যত্যয় ঘটেছে। ইউপি নির্বাচনের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিত্বের সৃষ্টি করা হয়। এটা একটা গুরম্নত্বপূর্ণ বিষয়। তার চাইতেও গুরম্নত্বপূর্ণ বিষয় হলো এইচএসসি পরীৰা। একজন শিৰাথর্ীর উচ্চশিৰা অর্জনে এটা প্রধান ধাপ। বিগত নির্বাচনে যারা আমাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তারা আমাদের নরকবাসী করেননি এবং যারা আগামী নির্বাচনে নির্বাচিত হবেন তারাও আমাদের স্বর্গবাসী করবেন না। সব জনপ্রতিনিধির চরিত্রই এক রকম। যে ৩/৪ শ' উপকূলীয় ইউনিয়নে মার্চ মাসে নির্বাচন করতে যাচ্ছে সেখানে অনত্মত ১২/১৪ হাজার এইচএসসি পরীৰাথর্ী আছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন তৃণমূলের নির্বাচন। এই নির্বাচনে জনসম্পৃক্ততা অত্যনত্ম বেশি। সে সময়টা একজন পরীৰাথর্ীর প্রস্তুতির জন্য অত্যনত্ম গুরম্নত্বপূর্ণ । সে সময়ে নির্বাচনী হাওয়া শুরম্ন হলে পরীৰাথর্ীরা বিরাট অসুবিধার সম্মুখীন হবে। ধারণা মতে, যদি ৪ শ' ইউনিয়নে নির্বাচন হয় প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন সব পদ মিলিয়ে ৪৮০০ জন। কিন্তু পরীৰাথর্ী আছে ১২/১৪ হাজার। তাই আমাদের দেশে যেসব দায়িত্বশীল কর্তৃপৰ আছেন, তাদের প্রতি দাবি রইল এমন সিদ্ধান্ত নেয়া যাতে বৃহদংশের মঙ্গল হয়। আগামী ২৩/২৪ ফেব্রম্নয়ারি নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইউপি নির্বাচন বিষয়ে বৈঠক আহ্বান করেছে। সেখানে এইচএসসি পরীৰার বিষয়টি গুরম্নত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রাখবেন বলে আশা করি। আর মাত্র ৪শ' ইউনিয়নে ভোট সম্পন্ন হলেই নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব শেষ হয়ে যাবে না। তফসিল ঘোষণার পর একটা বাধ্যবাধকতা এসে যায়। তফসিল ঘোষণার পর ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়। ফেব্রুয়ারিতে তফসিল ঘোষণা করলে মে মাসের মধ্যে নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে শেষ করতে হবে। কিন্তু মে মাসে বর্ষাসহ বিভিন্ন কারণে নির্বাচনের জন্য অনুকূল নয় বিধায় নির্বাচন কমিশনের সংশিস্নষ্ট কর্মকর্তা, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধানত্মের বিরোধিতা করছেন, যা বিভিন্ন পত্রিকায় দেখছি। এমনিতেই আমাদের এ প্রাণের দেশটা অস্থিরতায় ভরা। যাদের দ্বারা সিদ্ধানত্মের বাসত্মবায়ন করবেন তাদের বৈরী রেখে চাপিয়ে দেয়া দায়িত্ব কতটুকু ফলপ্রসূভাবে পালন করাতে পারবেন, বিষয়টাও ভেবে দেখবেন।
মোস্তফিজুর রহমান
সোনাগাজী, ফেনী।

সমমান করা হোক
শিশুর সুষ্ঠু বিকাশের মধ্য দিয়ে দেশের ভবিষ্যত প্রজন্ম গড়ে ওঠে। আমাদের দেশের অধিকাংশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মহিলা শিৰকই এসএসসি/সমমান পাস। এর জন্য দায়ী সহকারী শিৰক নিয়োগ প্রক্রিয়া। এসএসসি পাস মহিলা নিয়োগে জাতি দু'ভাবে ৰতিগ্রসত্ম হচ্ছে। প্রথমত প্রাথমিক শিৰার মানোন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। দ্বিতীয়ত অনেক মেয়ে উচ্চ শিৰা গ্রহণে অধিক মনোযোগী হওয়ার পরিবর্তে বয়স আঠারো হলেই চাকরির সন্ধান করছেন। এতে করে নারীর উচ্চ শিৰার মানও কমছে।
আমাদের দেশে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিৰক নিয়োগের ব্যতিক্রমী দিকটি হচ্ছে_ মহিলাদের ৰেত্রে শিৰার নূ্যনতম যোগ্যতা এসএসসি/ সমমান আর পুরম্নষদের ৰেত্রে বিএ/সমমান। এতে কি প্রমাণিত হয় না যে, আমাদের দেশের মেয়েরা এসএসসি পাস করে যে শিৰা অর্জন করে সেই শিৰা অর্জন করতে ছেলেদের বিএ পাস করতে হয়। আমি মানলাম, মেয়েরা মাতৃস্নেহে কোমলমতি শিশুদের শিৰা দিয়ে থাকেন কিন্তু সে জন্য তো মেয়েদের ৬০% নেয়া হয়, প্রয়োজনে সেটা ৮০% করা হোক। আর এমন তো নয় যে, দেশে বিএ/সমমান পাস মেয়ের অভাব রয়েছে। যথাযথ কর্তৃপৰকে বলছি, যেহেতু ভাল শিৰকই পারেন ভাল শিৰাথর্ী তৈরি করতে; তাই পরবতর্ী সরকারী প্রাক-প্রাথমিক বা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিৰক নিয়োগের ৰেত্রে পুরম্নষ-মহিলা উভয়েরই শিৰার নূ্যনতম যোগ্যতা বিএ /সমমান করা হোক।
ইয়াসমিন আক্তার
বিএল কলেজ, খুলনা।