মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১১, ২ ফাল্গুন ১৪১৭
রিপোর্টারের ডায়েরি
অস্তগামী সূর্যের বর্ণচ্ছটায় কিছুক্ষণ
২৭ জানুয়ারি, বুধবার। এবার আমাদের ফিডা পরিবারের ফ্যামিলি ট্যুর কর্মসূচী হলো সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ। ফিডা হচ্ছে ফোরাম ফর ইনফরমেশন ডেসিমিনেশন অন এগ্রিকালচারের সংক্ষিপ্ত নাম। আমরা যাঁরা কৃষি বিষয়ক রিপোর্টিং করি এটি তাদের অভিজাত একটি সংগঠন। এর সদস্যসংখ্যাও খুব বাছাইকৃত। ডিসেম্বরে বার্ষিক পরীৰা শেষ হয়ে যাওয়ার পর বাচ্চাদের স্কুল ছুটির সুযোগে প্রতি বছর জানুয়ারি মাসে আমরা পরিবার নিয়ে বেড়াতে যাই দেশের কোন না কোন পর্যটনসমৃদ্ধ স্থানে। গত বছর রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান গিয়েছিলাম। এবার সিদ্ধান্ত হলো সবাই মিলে কক্মবাজার ও সেন্টমার্টিন যাব। আমাদের মূল গন্তব্যস্থল সেন্টমার্টিন। আসা যাওয়ার পথে কক্সবাজারে সমুদ্রের সানি্নধ্য গ্রহণ করব। কারণ কমবেশি অনেকেই অতীতে কবাজার বেড়িয়েছে। কিন্তু সেন্টমার্টিন অনেকের পৰেই আগে যাওয়া সম্ভব হয়নি।
অফিস থেকে পাঁচ দিনের ছুটি নিয়ে স্ত্রী ও সনত্মানদের নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। অতীতের অভিজ্ঞতার কারণে এবার আমরা ভ্রমণ পরিকল্পনা এমনভাবে করলাম যে, সারাদিন ভ্রমণের পর প্রতি রাতে প্রতিটি স্থানেই রাত্রিযাপন করব। কারণ অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, বেশি ভ্রমণে বাচ্চারা ক্লান্ত ও অসুস্থ হয়ে পড়ে। ফলে তাদের আনন্দটাই মাটি হয়ে যায়।
আগের দিন মঙ্গলবার বিকেলের ট্রেনে করে প্রথমে আমরা চট্টগ্রামে আসি। চট্টগ্রামে হোটেলে রাত্রিযাপন করে বুধবার সকালে রওনা হলাম কক্সবাজারের উদ্দেশে। তেমন তাড়া না থাকায় হোটেল থেকে রওনা হতে কিছুটা বিলম্ব হলো। পথিমধ্যে ইনানী রেস্টুরেন্টে হালকা নাশতা সেরে কঙ্বাজার পৌঁছুতে বেলা দুটো বেজে গেল। অনেকদিন পর কক্সবাজার যাওয়ায় অনেক কিছুই নতুন লাগছে। পথিমধ্যে অনেক রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে। আগে এসব রেস্টুরেন্ট ছিল না। তবে ইনানী রেস্টুরেন্টের ভিন্ন স্বাদের চায়ে প্রাণটা যেন জুড়িয়ে গেল। এমন চা অনেকদিন পান করিনি। তাই এক কাপের জায়গায় দু'কাপ খেয়ে ফেললাম। অনেকেই তাই করল।
কঙ্বাজারে প্যারাডাইস প্রাসাদ হোটেলে আমাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন পর্যটনের পিক মৌসুম চলছে। ফলে হোটেলগুলোতে রম্নম পাওয়া খুবই কঠিন কাজ। বিশেষ করে সেন্টমার্টিনের অবস্থা আরও খারাপ। এই রম্নম পেতে বিলম্বের কারণেই আমাদের ভ্রমণের সময় জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে পিছিয়েছে।
প্রাসাদ প্যারাডাইসও নতুন হোটেল। একেবারে সমুদ্রসৈকতের তীরে। হোটেল থেকে বেরিয়ে রাসত্মা পেরম্নলেই ঝাউবন। ওই ঝাউবনের পাশেই বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত। সৈকতে যাওয়ার সুবিধার জন্য হোটেল কর্তৃপৰ সৈকত পর্যনত্ম রাসত্মা তৈরি করে দিয়েছে।
হোটেল সমুদ্র অভিমুখী। কিন্তু ঝাউবনের কারণে শুধু গর্জন শোনা যায়, সমুদ্র দেখা যায় না। রম্নমে গিয়ে সবাই কাপড় পরিবর্তন করে নিলাম। আমি জানালা খুলে সমুদ্র দেখার চেষ্টা কলাম। কিন্তু ঝাউবনের কারণে দেখা যাচ্ছে না। আগের চেয়ে ঝাউবন বেশ ঘন হয়েছে। গাছগুলোও গত দুই দশকে অনেক বড় হয়েছে। ফলে এখন আর দূর থেকে সমুদ্র দেখা যায় না।
আমার স্ত্রী ও দুই সনত্মান মুখিয়ে আছে কখন সমুদ্র স্নানে নামবে। বিশেষ করে আমার স্ত্রী ডলির খুব ইচ্ছে সমুদ্রে স্নান করবে। এর আগে যতবার এসেছে কোন বারই সমুদ্রে স্নান করতে পারেনি। ফলে কঙ্বাজার যাওয়ার আয়োজন হলেই এ কথাটা বলে থাকে। সর্বশেষ যখন কঙ্বাজার এসেছিলাম তখন ছেলে দিব্যর বয়স ছিল তিন বছর। এখন তার বয়স দশ বছর। ফলে সে এবার ভালভাবে সমুদ্র উপভোগ করতে পারবে। মেয়ের এই প্রথম কঙ্বাজার সফর। সে এখন বুঝতে শিখেছে। ফলে তার কাছেও সমুদ্র দারম্নণ উপভোগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
আমরা রম্নমে গিয়ে হাতমুখ ধুয়ে নিচে নেমে এলাম মধ্যাহ্নভোজের জন্য। মধ্যাহ্নভোজ সেরে হোটেল থেকে বেরিয়ে পড়লাম। যতটা সময় সমুদ্রের সঙ্গে কাটানো যায়। নির্জন ঝাউবনের ভেতর দিয়ে হাঁটতে লাগলাম। ঝাউবন ও গাঢ় বালির সৈকত পেরিয়ে সামনে বিশাল সমুদ্র। যত দূর চোখ যায় শুধু পানি আর পানি। আর তীরের দিকে ধেয়ে আসছে একের পর এক ঢেউ। বাঁ দিকে তাকাতেই চোখ আটকে গেল। চোখে পড়ল বালির ভাস্কর্য। ছুটে গেলাম ভাস্কর্যের কাছে। বীর শ্রেষ্ঠদের ভাস্কর্য তৈরি করা হয়েছে স্বাধীনতা দিবস উপলৰে। শুধু সমুদ্রই নয়, এ আকর্ষণীয় ভাস্কর্যগুলোও কাছে টানছে ভ্রমণপিয়াসী পর্যটকদের। আমরাও কাছে গিয়ে ভাস্কর্যগুলো দেখলাম। ছেলে দিব্য সহজেই চিনে ফেলল, এগুলো বীরশ্রেষ্ঠদের ভাস্কর্য। কারণ এই বীরশ্রেষ্ঠদের নিয়ে তার খুব আগ্রহ। তাদের সম্পর্কে জানার জন্য তাকে বইও এনে দিয়েছি। আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধের বীর সেনানীদের এই ভাস্কর্যগুলো দেখে এবং তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে আমরা গেলাম একেবারে সমুদ্রের তীরে।
ওরা স্যা-েল খুলে দ্রম্নত হাঁটু পানিতে নেমে গেল, আর আমি তীরে দাঁড়িয়ে রইলাম। তবে পানিতে নামার সময় ওদের সতর্ক করে দিলাম, এখন ভাটা চলছে। সৈকতে লাল নিশান উড়ছে। ফলে বেশি দূর যাওয়া যাবে না। তারা তাই করল। তাদের আশা অপূর্ণই থেকে গেল।
চারদিকে পর্যটক গিজ গিজ করছে। পেশাদার ফটোগ্রাফাররা ক্যামেরা নিয়ে ঘুর ঘুর করছে অর্থের বিনিময়ে ছবি তুলে দেবার জন্য। এদের সংখ্যা এত বেশি যে তাদের না করতে করতে বিরক্ত ধরে যায়। আবার এক গ্রম্নপ ঘোড়া ও গাধা নিয়ে এসেছে, যারা ঘোড়ায় চড়ে সমুদ্র তীরে বেড়াতে চান। সমুদ্রের মধ্যেও স্পীডবোট দিয়ে বেড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এটা আগে ছিল না। সব কিছুই অর্থের বিনিময়ে। এটা দেখে ভাল লাগল যে, সময় যতই গড়াচ্ছে ততই সমুদ্র তীরে আনন্দ উপভোগের উপকরণ বাড়ছে। তবে মানুষের যত্রতত্র চলাচলের কারণে নিরিবিলি পরিবেশ একেবারেই নষ্ট হয়ে গেছে। একে তো ঘোলা পানি তার ওপর ময়লা আবর্জনা ও বিপুলসংখ্যক মানুষের বিশৃঙ্খল চলাচলের কারণে সৈকত এলাকায় এক বাজারে পরিবেশ বিরাজ করছে।
ছুটির দিন না থাকা সত্ত্বেও বিপুলসংখ্যক পর্যটক জড়ো হয়েছে। যেন রম্নপালি সৈকতে পর্যটকদের মিলনমেলা বসেছে। এই শীতেও সমুদ্র তার ঢেউয়ের নিরনত্মর উচ্ছ্বাসে সংসারের আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে পড়া মানুষগুলোকে নিয়ে গেছে অন্য এক জগতে। আমার কোন ক্যামেরা ছিল না। তাই এই বর্ণিল মুহূর্তটাকে স্মৃতি হিসাবে ক্যামেরাবন্দী করে রাখার জন্য একজন ফটোগ্রাফার ভাড়া করলাম। পাঁচটি ছবি তুলে প্রিন্ট করে দেবে একশ' টাকায়। ভাড়া করা ফটোগ্রাফার দিয়ে ভিন্ন এ্যাঙ্গেলে পাঁচটি ছবি উঠালাম। ক্যামেরাম্যান জানাল, সে সন্ধ্যার পর সরবরাহ দিতে পারবে। এ কারণেই তার মাধ্যমে ছবিগুলো তোলা হলো। কারণ কাল ভোরে আমরা সেন্টমার্টিন চলে যাব।
এরই মধ্যে আমার পাঁচ বয়সী মেয়ে লাবিবা পানিতে পুরোপুরি ভিজে গেছে। সে ঠা-া বাতাসে কাঁপতে লাগল। সূর্যও ডুবনত্ম অবস্থায়। সূর্যাসত্ম দেখার জন্য দ্রম্নত তাকে নিয়ে হোটেলে গেলাম কাপড় বদলাতে। তা না হলে ঠাণ্ডা লেগে জ্বর আসতে পারে।
ফিরে এসে দেখি সূর্য প্রায় ডুবো ডুবো। হঠাৎ করেই চারদিক নীরব হয়ে গেল। সবাই তখন এক সঙ্গে নীরবে দাঁড়িয়ে পড়ল সূর্যাস্ত দেখার জন্য। আমরাও দাঁড়িয়ে পড়লাম সাগরের বুকে মহাপরাক্রমশালী এক নৰত্রের অসহায় আত্মসমর্পণ দেখতে। যেন বিদায় বেলায় সকলে একসঙ্গে দাঁড়িয়ে সূর্যদেবতাকে সম্মান জানাচ্ছে।
দ্রম্নতগতিতে নামতে লাগল লাল সূর্যটা। যেন লাল আগুনের গোলা মহাকাশ থেকে ছিটকে পড়ছে সাগরের বুকে। সূর্য ডুবে যাওয়ার পর তার লাল আভা সাগরের বুকে ছড়িয়ে পড়ল। সে এক ভুবন ভোলানো দৃশ্য। সবাই তখন এক সঙ্গে সৈকতের ভেজা বালিতে দাঁড়িয়ে অসত্মগত সূর্যের বর্ণবিভায় রঙিন হয়ে ওঠা সমুদ্র স্রোতের অপার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছে।
_কাওসার রহমান

তিনদিনের উত্তরাঞ্চল সফর
৮ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার। অফিসের এসাইনমেন্টে তিনদিনের জন্য উত্তরাঞ্চল সফরে বের হই। নগর জীবনের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে এ ধরনের সফর বেশ আনন্দের। এতে জীবনের একঘেঁয়েমি যেমন দূর হয়, তেমনি দেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা হয়। ভ্রমণের খবর শুনে তাই মনের মধ্যে উত্তেজনা কাজ করছিল।
আগের দিন রাতে অফিস থেকে সবে বাসায় ফিরছি। রাত কখন ১০টা হবে। বাথরুমে আছি। হঠাৎ মোবাইলে রিংটন। বাথরুমে থাকার কারণে প্রথমবার ফোন রিসিভ করতে পারিনি। অপশনে গিয়ে দেখি ডেপুটি চিফ রিপোর্টার কাওসার ভাইয়ের রিং। পরক্ষণে আবার রিং দিলেন। ভাবলাম নিউজে কোন সমস্যা হয়েছে কিনা। ভাই বলল বাসায় ফিরছ কিনা। বললাম এই মাত্র ফিরলাম। বলল খাওয়া দাওয়া করে তাড়াতাড়ি ঘুমাও। ভোরে ঘুম থেকে উঠতে হবে। কেন জিজ্ঞেস করতেই বললেন রংপুর যেতে হবে। তারপর থেকেই মনের ভেতর একটি উত্তেজনা কাজ করছিল। কখন ভোর হবে সেই আসায় ছিলাম। জামা-কাপড় আয়রন করতে দেয়া ছিল। রাতেই নিয়ে এসে ব্যাগ গুছিয়ে নিলাম। ভোর হতে রেডি হয়ে প্রেসক্লাবে দিকে রওনা হলাম। মাঝে সাংবাদিক সোহেল মঞ্জুরকে ফোন করতে বলল, মাহবুব নামে একজন প্রেসক্লাবে গাড়ি নিয়ে অপেৰা করছে আপনাদের জন্য। ভাবছি পরিচিত কেউ সঙ্গে থাকলে ভ্রমণটা আনন্দদায়ক হবে।
যেই ভাবা সেই কাজ, যথাসময়ে প্রেসক্লাবে হাজির হয়ে দেখি সাবেক সহকর্মী কাশেম দাঁড়িয়ে। এত সকালে এখানে কেন জিজ্ঞেস করতেই বলল ভাই রাজশাহী যাব। আপনাদের হাউসের মিজান ভাই তো আমার সঙ্গে যাবে। কাশেমসহ আরও যে কয়জন আমার সঙ্গে রংপুর গিয়েছিল সবাই সহকর্মী মিজান ভাইয়ের অনুরোধে গিয়েছিল। আমি ওদের জানালাম আমি জনকণ্ঠের পৰ থেকে যাচ্ছি। তবে মিজান ভাই যাবে কিনা জানি না। আমাকে জানানো হয়েছে রংপুর যেতে হবে। মিজান ভাইকে ফোন দিলে সে জানায়, আমি যাচ্ছি না আপনাকে যেতে হবে। ওরা তখনও জানে না তাদের রংপুরে যেতে হবে। মিজান ভাই যাবে না এ কথা শোনার পর কালের কণ্ঠের কাশেম, সংবাদের অঞ্জন, ডেসটিনির রিমন রহমান একটু আমতা আমতা করতে লাগল। তারা মিজান ভাইকে ফোন দিয়ে বন্ধ পেয়ে বুঝতে পারল যে মিজান ভাই যাচ্ছে না। তখন সবাই বলল মিজান ভাইয়ের জন্য আমরা যেতে রাজি হয়েছি। সে যাবে না আগে বললে আমরাও যেতাম না। তবে শেষ পর্যনত্ম কেউ আর ফিরে যায়নি।
গাড়ি ছাড়ার অপেৰায় আছি। সংগঠনের একজন জানাল বাংলাভিশনের একজন যাবে। তার জন্য অপেৰার পর বেলা সাড়ে ৯টা দিকে রিনভি আপা আমাদের সঙ্গে যোগ দিলেন। আমরা একসঙ্গে গাড়িতে মোহাম্মদপুরে গিয়ে সকালের নাসত্মা সেরে রংপুরের উদ্দেশে রওনা হলাম। সবাই মিলে একসঙ্গে কোথায়ও গেলে এমনিতে সবার মন উৎফুলস্ন থাকে। আমাদেরও তেমনি অবস্থা। গাড়ি গাবতলী হয়ে মিরপুর বেড়িবাঁধ দিয়ে আশুলিয়ার দিকে চলতে শুরম্ন করল। আশুলিয়ার বিআইডবিস্নউটিএ'র ল্যান্ডিংস্টেশন মোড় পার হতে দেখি একটি দূরপালস্নার বড় বাস টার্ন নেয়ার চেষ্টা করছিল। সামনে তাকাতেই দেখি জ্যাম। পরে জানলাম গার্মেন্ট শ্রমিকদের সংঘর্ষের কারণে সেখানে জ্যামের সৃষ্টি হচ্ছে। এ পথে আর যাওয়া যাবে না। আমাদের গাড়িও টার্ন নিয়ে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের পথ ধরল। কিন্তু এ পথেও ছিল প্রচ- জ্যাম। গাজীপুর পার হতেই দেড় ঘণ্টার বেশি লেগে গেল। আমরা টাঙ্গাইলে একটি তেলপাম্পে যাত্রা বিরতি করলাম। সবাই চা-বিস্কুট খেয়ে ফ্রেস হয়ে আবার চলতে শুরম্ন করলাম। এখান থেকে আমাদের সঙ্গে আরেকটি দল যোগ দিল যারা আমাদের গাইড করে নিয়ে গিয়েছিল। কিছুদূর যাওয়ার পর কাশেম বলল পাশেই আমাদের বাড়ি। টাঙ্গাইল পার হতে আমরা আরেকটা যাত্রাবিরতি দিতে হলো গাড়ির গ্যাস নেয়ার জন্য। এর মাঝে আমরা কয়েকজন একটি দোকান থেকে টাঙ্গাইল পোড়াবাড়ির মিষ্টি খেয়ে নিলাম।
মাইক্রোবাসের মধ্যে আমরা মাত্র ৭ যাত্রী। সবাই যে যার মতো আনন্দ করছি। কখনও গানে তালে তালে দুলছি। এ অবস্থার ভেতর দিয়ে যমুনা ব্রিজ পার হয়ে গেলাম। সিরাজগঞ্জের কাছে এসে সোজাপথে না গিয়ে জেলা শহরে প্রবেশ করল। জানলাম আমরা যে উদ্দেশে যাচ্ছি প্রথম কাজ সিরাজগঞ্জে। প্রথমে রিয়া ফার্টিলাইজার নামে একটি প্রতিষ্ঠানে গেলাম। তারা মিশ্র জৈব সার ব্যবহারের বিভিন্ন দিক আমাদের সামন্যে তুলে ধরল। বেলা তখন প্রায় ৩টা বেজে গেছে। সবার বেশ ৰিধা পেয়েছে। জেলা শহরে বৈশাখী নামের একটি রেস্টুরেন্টে খেয়ে নিলাম। এরই মাঝে আরেক সহকর্মী রাসেল রানাকে ফোন করলাম। সে তখন ছুটিতে বাড়ি ছিল। রাসেল জানালো সে এক ঘণ্টার মধ্যে জেলা শহরে আসছে। আমরা ততৰণে জেলার কামারখন্দ থানার একটি জৈব সার প্রজেক্ট দেখতে চলে গেলাম। সেখান থেকে ফিরতে সন্ধ্যা গভীর হয়ে গেল। পরে আর সিরাজগঞ্জ জেলা সদরে ফেরা হয়নি। ফলে রাসেলের সঙ্গে দেখাও হয়নি। যদিও সে আমাকে সিরাজগঞ্জ এসে ফোন দিয়েছিল। আমরা আবার রংপুরের উদ্দেশে রওনা হলাম।
_শাহীন রহমান