মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১১, ৩০ মাঘ ১৪১৭
সম্পাদক সমীপে
প্রসঙ্গ ॥ একুশে বইমেলার বিকেন্দ্রীকরণ
বাঙালীর জীবনে একুশে বইমেলা এখন একটি উৎসবে পরিণত হয়েছে। এ উৎসবটি সৌভাগ্যবান ঢাকাবাসীরাই সবচেয়ে বেশি উপভোগের সুযোগ পান। কিন্তু শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়ায় দেশজুড়ে লাখ লাখ আগ্রহী পাঠক-পাঠিকা বা লেখকও তাতে অংশগ্রহণ করতে পারেন না। বাংলা ও বাঙালীর জীবন স্রোতধারাকে একটি মেলবন্ধনে আবদ্ধ করতে; রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির আকাঙ্ৰায় বাঙালীকে একতাবদ্ধ করতে একুশে বইমেলা উৎসব সব সময় গুরম্নত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে এবং ভবিষ্যতেও রাখবে। ১৯৫২ সালের পর থেকে বইমেলার মধ্য দিয়ে কত পাঠক-পাঠিকা আর লেখকের জন্ম হয়েছে তার পরিসংখ্যান নিশ্চয়ই ব্যাপক। শুরম্ন থেকেই '৭১ পর্যনত্ম বইমেলা আয়োজকদের নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয়েছে। এমন কি স্বাধীনতার পরে '৭৫-পরবর্তী বিভিন্ন সময়েও তাদের নানা লিখিত-অলিখিত বাধা অতিক্রম করতে হয়েছে। '৫২-এর পথ ধরে আমাদের স্বাধীনতা অর্জন বাংলা ও বাঙালীকে একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার একুশের চেতনাকে আরও সমৃদ্ধ করতে "সোনার বাংলা সাংস্কৃতিক বলয়" তৈরির যেসব প্রকল্প হাতে নিয়েছিল, সে প্রকল্পগুলো মাঝপথে থেমে গিয়েছিল জোট সরকার সময়ে। আনত্মর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট, জাতীয় নাট্যশালা, স্বাধীনতা সত্মম্ভ ইত্যাদি নির্মাণ প্রকল্পগুলো আমাদের গৌরব আর সম্মানের বিষয়। তা সত্ত্বেও সেগুলো বন্ধ করা একুশের প্রতি তৎকালীন সরকারের অবজ্ঞাই প্রমাণ করে। তাই একুশের চেতনাকে আরও সমৃদ্ধ করতে, আগামী প্রজন্মকে দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে, দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত, সুখী-সুন্দর, সৃজনশীল সমাজ গড়তে বই পড়ার কোন বিকল্প নেই। আর বই পড়ার সুযোগ সৃষ্টিতে পাঠক আর লেখকের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করতে বছরের কোন একটি সময় দেশজুড়ে বইমেলার আয়োজন আজ সময়ের দাবি। শুধু ঢাকায় বাংলা একাডেমী চত্বরে একুশে বইমেলা ১৬ কোটি মানুষের চাহিদা পূরণ করতে সম্পূর্ণভাবেই অৰম। এ মুহূর্তে প্রতিটি জেলা শহরে সম্ভব না হলেও অনত্মত পুরনো ১৯টি জেলা শহরে ৭ দিন করে একুশে বইমেলা করা অসম্ভব কিছু নয়। প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার কারণে বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই এখন বই পড়ার দিকে আরও বেশি আগ্রহী হতে ইচ্ছুক। কিন্তু তারা তো সবাই ঢাকা যেতে সমর্থ নন। যানজটসহ নানা সমস্যার কারণে ইচ্ছে থাকলেও অঞ্চলভিত্তিক অনেক পাঠক বা ছোট মাপের লেখকরা ঢাকার একুশে বইমেলায় অংশ নিতে পারেন না। জেলার বইমেলাগুলোতে বড় মাপের লেখক ও প্রকাশকরা অনত্মত একদিন উপস্থিত থেকে পাঠকদের আরও উৎসাহিত করতে পারেন। এখন একুশ আমাদের জাতীয় ও আনত্মর্জাতিক জীবনের একট অবিচ্ছেদ্য অংশ। সুস্থ-সুন্দর আর সৃজনশীল সমাজ গঠনে একুশ ও একুশে বইমেলার প্রাণের স্পন্দন আমাদের সব সঙ্কীর্ণতাকে দূর করতে পারে। আর সে উদ্দেশ্যেই জাতীয় জীবনের সব পর্যায়ে মূল্যবোধ পুনর্প্রতিষ্ঠায় একুশে বইমেলাকে জাতীয়ভাবে পালন আজ সময়ের প্রধান দাবি। এ জন্য একুশে বইমেলা উৎসবের বিকেন্দ্রীকরণ করতে সংশিস্নষ্ট কর্তৃপৰের সদয় দৃষ্টি কামনা করছি।
মোঃ আহাদ আলী, বালুবাড়ী, দিনাজপুর।

সংস্কারহীন আর কতদিন
নওগাঁ পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে বেশ কিছু সামাজিক অবকাঠামো দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন, অবহেলিত অবস্থায় থাকলেও নওগাঁ পৌরসভা, নওগাঁ জেলা প্রশাসন এবং সরকারের উর্ধতন মহল কেউ এ ব্যাপারে দায়িত্বশীল পদৰেপ গ্রহণ না করায় সংশিস্নষ্ট এলাকাবাসী নাগরিক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে অবৰীয়মান জীবনযাপন করছেন। সেটাই বড় কথা নয়, এতে পরিবেশ ৰতিগ্রসত্ম হয়ে পরিবেশের ভারসাম্য বিপন্ন হচ্ছে।
এখানে দুটো নদী তুলসী গঙ্গা ও ছোট যমুনা নদী দীর্ঘদিন থেকে পুনর্খনন অভাবে অর্ধ ভরাট হয়ে আছে। ছোট যমুনা নদী আংশিক পোল্ডার ১ এর আওতায় পুনর্খনন পর বাঁধ নির্মাণ করা হলেও নদীটির প্রশসত্মতা সংরৰণ করা হয়নি এবং কাজও আংশিক হয়েছে। অপরদিকে তুলসী গঙ্গা নদী দীর্ঘ ৪০ বছর থেকে সংস্কারহীন অবস্থায় প্রায় অর্ধ ভরাট হয়ে পড়েছে।
নওগাঁ-সানত্মাহার মহাসড়কের বড় নালা, জীবন সন্ধি সড়ক, ফতেপুর সড়ক, পার নওগাঁ, সান্যাল বাড়ি সড়ক, পার নওগাঁ-বোয়ালিয়া মাদ্রাসা সড়ক, সুলতানপুর-জেলেপাড়া সড়ক ইত্যাদির নালা সংস্কার ও নির্মাণ করা প্রয়োজন।
বোয়ালিয়া ভরিয়াপাড়া ব্রিজ-কালভার্ট ও রাজাকপুর ব্রিজ কালভার্ট পুনর্নির্মাণ করা প্রয়োজন। ১৯৮৩ সালে নির্মিত নওগাঁ টাউন হল দীর্ঘদিন থেকে সংস্কারহীন অবস্থায় রয়েছে তা পুনর্সংস্কার পূর্বক একটা গণগ্রন্থাগার ও চিত্তবিনোদনের কেন্দ্র গড়ে তোলা প্রয়োজন।
এসব ব্যাপারে প্রয়োজনীয় কার্যকর আশু পদৰেপ গ্রহণের জন্য মাননীয় মন্ত্রী ও সচিব, স্থানীয় শাসন পলস্নী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, মাননীয় মন্ত্রী ও সচিব পানিসম্পদ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ মন্ত্রণালয়, মাননীয় মন্ত্রী ও সচিব সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, শিৰা মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় কমিশনার রাজশাহী, জেলা প্রশাসক, পৌর মেয়র ও সচিব, মহোদয়ের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
মোঃ রফিকুল ইসলাম, পার নওগাঁ, নওগাঁ।

জ্বালানি সঙ্কটে গোপালগঞ্জ
সারাদেশের মতো গোপালগঞ্জেও জ্বালানি সঙ্কট, পণ্যদ্রব্যের অতিরিক্ত মূল্য আদায় সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে।
গোপালগঞ্জ জেলার সাধারণ অধিবাসীরা জ্বালানির জন্য মূলত কাঠের ওপর নির্ভরশীল। আর বিত্তবানরা নির্ভর করে সাধারণত গ্যাসের ওপর। হলে কি হবে। জেলায় পর্যাপ্ত জ্বালানি কাঠ মেলে না। দাম এখন আকাশ ছুঁয়েছে। মানুষের নির্ভর করতে হয় অন্যান্য বনাঞ্চলসমৃদ্ধ প্রতিবেশী জেলাগুলোর ওপর।
এদিকে গ্যাসের দাম সিলিন্ডারপ্রতি ১৩০০ টাকা থেকে ১৩৫০ টাকা। একটি সিন্ডিকেট গ্যাসের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বিধায় গ্যাস এখন সহজলভ্য নয়।
আসলে আমাদের পদ্ধতিগত বিসত্মর ত্রম্নটি রয়েছে। আর সেজন্য প্রয়োজন সরকারের যুগোপযোগী পদৰেপ গ্রহণ। জ্বালানি সমস্যা নিরসনে জরম্নরী পদৰেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
মাহ্্মুদ কবির, সদর, গোপালগঞ্জ।

অবাস্তব নকশায়
২১ জানুয়ারি দৈনিক জনকণ্ঠের প্রথম পাতায় 'ফয়েল খায়ের সাইক্লোন সেল্টার' নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ড. জামিলুর রেজা চৌধুরীর মনত্মব্যের ব্যাখ্যার প্রয়োজন। পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনটি মূলত সাইক্লোন সেল্টারবিষয়ক এবং ২০ মিলিয়ন ডলার (১৪০ কোটি টাকা) ৰুদ্রঋণ নিয়ে কোন বিতর্ক নেই। ১১০ মিলিয়ন ডলারে (৭৬০ কোটি টাকা) স্কুল-কাম-সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণের ভুলভ্রানত্মি এবং ব্যর্থতা প্রতিবেদনে উলেস্নখ করা হয়েছে।
তিনি উলেস্নখ করেছেন যে, আনত্মর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক নকশা আহ্বানের পর ৭১টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। এই নকশা প্রণয়ন করতে প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয় হয় যা বাংলাদেশের দরিদ্র লোকদের দান করা অর্থের নজিরবিহীন অপচয়। প্রণীত নকশায় স্কুলের মাঠ নষ্ট হবে সেটা তিনি স্বীকার করেছেন এবং উলেস্নখ করেন যে, এই ভুলটি শুরম্নতেই হয়েছিল। প্রশ্ন হলো ভুল যদি চিহ্নিত করেই থাকেন তবে প্রথমেই ভুল সংশোধনের চেষ্টা করলেন না কেন? এত বড় ভুল যার জন্য স্কুলে মাঠ থাকবে না এবং ছাত্রছাত্রীরা ক্লাস শুরম্নর আগে এ্যাসেম্বিলি করে জাতীয় সঙ্গীত 'আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি' গানটি গাওয়ার সুযোগ পাবে না তা গ্রহণযোগ্য নয়।
জাতীয় শিৰানীতি ২০০৯ অধ্যায় ১৮ বিশেষ শিৰা, স্বাস্থ্য ও শারীরিক শিৰা, স্কাউট ও গার্লস গাইড এবং ব্রতচারী (পৃষ্ঠা ৪৬, কৌশল ৯ প্রণিধানযোগ্য)। এখানে উলেস্নখ আছে যে, নতুন শিৰা প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধনের সময় স্কুলের মাঠ থাকা একটি অপরিহার্য শর্ত হিসেবে অনত্মভর্ুক্ত করতে হবে। উলেস্নখ করা নিষ্প্রয়োজন যে, যেখানে স্কুলের মাঠ আছে সেটা রৰা করতেই হবে। খেলা মাঠ নষ্ট করে ভবন নির্মাণ শিৰানীতির পরিপন্থী।
এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী ওয়াহেদুর রহমান শহর ও গ্রামে কর্মরত একজন অভিজ্ঞ প্রকৌশলী। তিনি সঠিকই বলেছেন যে, আইডিবি যে ধরনের নকশা প্রণয়ন করে প্রকল্প বাসত্মবায়ন করছে তা আমাদের দেশের জন্য উপযোগী নয়। এখানে বড় মাপের ভবন নির্মাণ করা হলে ছেলেমেয়েদের খেলার মাঠ থাকবে না। এত বড় ভবন নির্মাণ করতে গিয়ে আশ্রয়কেন্দ্র ও স্কুলের সংখ্যা কমে যাবে।
ড. আইনুন নিশাত এবং ওয়াহেদুর রহমান উভয়েই নির্মাণ কাজ শুরম্ন হওয়ার ওপর গুরম্নত্ব আরোপ করেছেন। বিশেষত ড. আইনুন নিশাতের আশঙ্কা নকশা প্রণয়ন করতে যেখানে ৩ বছর সময় লাগে সেখানে নির্মাণ সময় কত হবে। বর্তমানে যে পদ্ধতিতে আনত্মর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে তাতে আরও জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। এই বর্ষা মৌসুমের আগে কাজ আরম্ভ তো হবেই না, কবে হবে তা আইডিবিই জানে।
ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী উলেস্নখ করেছেন যে, নতুন শিৰানীতিতে প্রাথমিক বিদ্যালয় ৮ম শ্রেণী পর্যনত্ম করা হয়েছে এবং প্রতিটি স্কুলেই বাড়তি ক্লাসরম্নম প্রয়োজন। জমি যেখানে কম সেখানে আমরা তিন তলাবিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করব। জাতীয় শিৰানীতি ২০০৯ বাসত্মবায়ন সারণি-১ পৃষ্ঠা ৮৬ জানুয়ারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিকসহ অতিরিক্ত ৬ কৰ প্রয়োজন এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল ও মাদরাসা অতিরিক্ত ৩ কৰ প্রয়োজন। আইডিবি যে নকশা প্রণয়ন করেছে সেখানে ৩ তলা ভবনের ২য় তলায় ৩টি কৰ এবং ৩য় তলায় ৩টি কৰ বিদ্যমান। সুতরাং ড. চৌধুরীর সুপারিশ অনুযায়ী ৪র্থ তলা নির্মাণ করার কোন প্রয়োজন হবে না। কিন্তু এই ৬ কৰ ভবন মাধ্যমিক স্কুল ও মাদরাসায় নির্মাণ করলে ৩টি কৰ অতিরিক্ত এবং অপ্রয়োজনীয় হবে এবং অর্থের সঠিক ব্যবহার হবে না বরং অপচয় হবে।
২০০৮-২০০৯ সালে 'সৌহার্দ্য' নামে বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলায় টঝঅওউ সাহায্যে ২টি স্কুল-কাম-ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতিটির আয়তন ৩৬০.০০ বর্গমিটার এবং ঘূর্ণিঝড়ের সময় ধারণৰমতা ১০৩০ জন। শ্রেণী কৰের আয়তন ৫.৩২ মি. * ৫.৯৮ মি. ব্যয় করেছে ১৬০ লাখ টাকা। বাসত্মবায়ন সংস্থা এলজিইডি এবং কেয়ার বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সরকারের এখনই বিবেচনা করা প্রয়োজন যে এই অবাসত্মব নকশায় ৬০০টির জায়গায় ২৩৮টি স্কুল-কাম-ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ যুক্তিসঙ্গত হবে কিনা। যে ৩৬২টি স্কুল বাদ পড়বে সেগুলো মূলত আসল সিডর এলাকা এবং সেই সব জায়গায় জনগণের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হবে। অথচ নকশা সংশোধন করে বাংলাদেশের মানদ- অনুযায়ী একটি নকশা গ্রহণ করে এখনও প্রায় ৬০০টি স্কুল-কাম-সাইক্লোন সেল্টার আগামী ২ বছরের মধ্যে নির্মাণ করা সম্ভব। এতে অধিক জনগণ লাভবান হবে এবং সেই মহান ব্যক্তির ইচ্ছা পূরণ হবে।
মোঃ আনোয়ারম্নল আলম
সাবেক পরিচালক, শিৰা প্রকৌশল অধিদফতর।

সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রতিরোধ
আজকাল খবরের কাগজ খুললেই চোখে পড়ে বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে কত তাজা প্রাণ। এ যেন নিত্যদিনের ঘটনা। বহুদিন যাবত বহু ব্যক্তি বা সংস্কার উদ্যোগ ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হয় 'নিরাপদ সড়ক চাই'। কিন্তু কার কাছে চাই, কে দিবে এর সঠিক জবাব। আমি মনে করি আজ পর্যনত্ম এই মর্মানত্মিক সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ফলপ্রসু কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। প্রাথমিকভাবে কিছু পদৰেপ গ্রহণ করা হলেও এর ফলাফল শূন্যের কোঠায়। যে পিতা-মাতা তাদের সনত্মান হারায় বা কোন সনত্মান হারায় তার পিতা বা মাতাকে- এই যন্ত্রণার দায়ভার কে নিবে।
শুধু দৰ চালক হলেই সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা যাবে না। এখানে গাড়ির ফিটনেস বিষয়টিও বিশেষভাবে গুরম্নত্বপূর্ণ। ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদানকারী সংস্থারও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে।
আমি বিশ্বাস করি সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সরকারের নীতিমালা বাসত্মবায়নে কঠোর পদৰেপ নেয়া হলে অবশ্যই এর সুফল পাওয়া যাবে। তাই বলব 'নিরাপদ সড়ক মানেই মূল্যবান জীবন রৰা'।
রণদা প্রসাদ ঘোষ, কড়াইল, মির্জাপুর, টাঙ্গাইল।

বিবৃতির পরিপ্রেৰিতে প্রশিকার বক্তব্য
গত ৭ ফেব্রম্নয়ারি ২০১১ দৈনিক জনকণ্ঠের তৃতীয় পৃষ্ঠায় উপযর্ুক্ত শিরোনামে প্রকাশিত বিবৃতিতে প্রশিকার ৬ হাজার কমর্ীকে যুগপৎ বিস্মিত ও মর্মাহত করেছে। কারণ বিবৃতিটি ভিত্তিহীন ও বিকৃত তথ্যে ভরা। সুপ্রীমকোর্টসহ বাংলাদেশের কোন আদালত কাজী ফারম্নক আহম্মদকে প্রশিকার বৈধ চেয়ারম্যান ঘোষণা করে কোন রায় প্রদান করেনি, বরং প্রশিকার বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ আবদুল ওয়াদুদের নেতৃত্বাধীন গবর্নিং বডির অনুকূলে সুপ্রীমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ ও আপীল বিভাগের দেয়া একটি স্থিতাবস্থার আদেশ রয়েছে এবং এই আদেশের বলে উক্ত গবর্নিং বডি সংস্থার বৈধ ও আইনসম্মত কর্তৃপৰ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। উপরন্তু সামগ্রিক বিষয়টি এখনও আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। দেশের যেসব বিশিষ্ট ও বরেণ্য ব্যক্তি এ বিবৃতিতে স্বাৰর করেছেন বলে উলেস্নখ করা হয়েছে, তাঁরা যদি তা করেও থাকেন, সে ৰেত্রে আমাদের বিশ্বাস তাঁদের সামনে প্রকৃত সত্য, নিভর্ুল তথ্য ও রায়ের অবিকৃত কপি উপস্থাপন করা হয়নি। আমরা নিশ্চিত যে যেটি করা হলে এবং বিষয়টি এখনও আদালতে বিচারাধীন এটি তাঁদের জানানো হলে এমন একটি মিথ্যা, বানোয়াট ও দুরভিসন্ধিমূলক বিবৃতিতে তাঁরা স্বাৰর করতেন না। স্বাৰরকারী হিসেবে যাঁদের নাম উলেস্নখ করা হয়েছে তাঁদের মধ্যে একজন সাবেক বিচারপতি রয়েছেন। বিষয়টি বিচারাধীন এ তথ্য জানা থাকলে অনত্মত তিনি এতে স্বাৰর করতেন বলে আমরা মনে করি না।
দেশবাসী একথা ভুলে যাননি যে, প্রশিকার ৬ হাজার কমর্ীর দেড় মাসব্যাপী তীব্র আন্দোলনের মুখে কাজী ফারম্নক আহম্মদকে ২৪ মে ২০০৯ তারিখে প্রশিৰার গবর্নিং বডির চেয়ারম্যান পদ থেকে বৈধভাবে অপসারণ করা হয়। মানুষের স্মৃতি থেকে এত শীঘ্র এটি মুছে যায়নি যে, তিনি প্রশিকাকে তাঁর রাজনৈতিক দল 'ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন'-এর একটি পস্ন্যাটফর্মে পরিণত করেছিলেন, এমনকি গত সংসদ নির্বাচনে প্রশিকার সকল কমর্ী ও উপকারভোগীকে মহাজোটের বিরম্নদ্ধে অবস্থান নিতে তিনি অনৈতিক চাপ প্রয়োগ করেছিলেন। তার দুনর্ীতি, স্বেচ্ছাচার, অনিয়ম এবং প্রশিৰাকে একটি পারিবারিক প্রতিষ্ঠান পরিণত করার অপচেষ্টার কারণে প্রশিকা ধ্বংসের দ্বারপ্রানত্মে উপনীত হয়। তখনই গবর্নিং বডির বাকি সব সদস্য গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সম্পূর্ণ বৈধপন্থায় তাকে গবর্নিং বডির সিদ্ধানত্মের বিরম্নদ্ধে তিনি যে মোকদ্দমা (দেওয়ানি মোকদ্দমা নং ৩০২/২০০৯ বর্তমানে ৩৯/২০১০) দায়ের করেছেন তা এখনও ঢাকার ১৪তম সহকারী জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
তাই দেশবরেণ্য বুদ্ধিজীবী যাঁরা প্রকৃত সত্য ও তথ্য সম্পর্কে অবহিত না হয়ে 'ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন'র চেয়ারম্যান কাজী ফারম্নক আহম্মদের পৰ হয়ে আদালতে বিচারাধীন একটি বিষয়ে বিবৃতিতে স্বাৰর করেছেন তাঁদের কাছে আমাদের সবিনয় নিবেদন এই যে, কাজী ফারম্নক আহম্মদের কারণেই প্রশিকা নামক জাহাজটি নিমজ্জিত অবস্থায় উপনীত হয়েছিল। আমরা প্রশিৰার কমর্ীরা সবাই মিলে জাহাজটিকে টেনে তুলেছি ও ভাসিয়ে রেখেছি। কাজী ফারম্নক আহম্মদ আইনানুগ পন্থায় প্রশিকার হাজার হাজার কমর্ী ও লাখ লাখ উপকার ভোগীর বিরম্নদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। তাই আমরা সম্মানিত ব্যক্তিবর্গকে উপযর্ুক্ত বিবৃতি থেকে তাঁদের নাম প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।
মোঃ আবদুর রব
পরিচালক ও সদস্য, ব্যবস্থাপনা কমিটি।

সহনীয় পর্যায়ে রাখতে হবে
পৃথিবীব্যাপী মারাত্মকভাবে ঘটছে পরিবেশ দূষণ। কিছু ধনী ও উন্নত দেশের দায়িত্বহীনতার কারণে বিগত ৫০ বছর ধরে বিশ্বে কার্বন নিঃসরণ অত্যধিক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকির সৃষ্টি করে চলেছে। কলকারখানা থেকে অবিরত কালো ধোঁয়া নিঃসরণের কারণে অপেৰাকৃত ছোট স্বল্পোন্নত দেশগুলো ব্যাপকভাবে পরিবেশ দূষণের শিকার হচ্ছে। যেসব দেশ ৰতিগ্রসত্ম হচ্ছে তাদের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ইতোমধ্যে দেশে এর প্রভাব শুরম্ন হয়ে গেছে। দেশের দৰিণাঞ্চলে লবণাক্ততায় অধিক কৃষিজমি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফসল না হওয়ায় জীবিকার তাগিতে শহরে ভিড় করছে মানুষ। অধিক বসত্মি গড়ে ওঠায় শহরের পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়ছে। এর জন্য দায়ী উন্নত দেশগুলো। অথচ 'কার্বনমুক্ত বিশ্ব' গড়ার জন্য সেসব দেশ বিভিন্ন সভা, সম্মেলন করে বেড়াচ্ছে। এসব সভা সম্মেলন প্রতিশ্রম্নতি দানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, তার বাসত্মবায়ন ততটা চোখে পড়ে না। বাংলাদেশকে পরিবেশ সংরৰণে আরও ব্যাপকভাবে কাজ করতে হবে। দেশব্যাপী পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থার প্রসারে ভূমিকা নিতে হবে। বাংলাদেশের মানুষকে নিজ স্বার্থে পরিবেশ দূষণের মাত্রাকে সহনীয় পর্যায়ে রাখতে হবে। এর সঙ্গে সঙ্গে কার্বনমুক্ত বিশ্ব গড়তে পদৰেপ নিতে হবে।
জাহেদুর রহমান ইকবাল
তাহেরপুর, বাগমারা, রাজশাহী।

দুই ধাপে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক
আমি আসন্ন ইউপি নির্বাচনে একজন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রাথর্ী। অতীতে ইউপি চেয়ারম্যান ছিলাম। জয় এবং পরাজয়ের স্বাদ গ্রহণ করেছি। দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে ৩ বছরাধিককাল পূর্বে। বিলম্বে হলেও নির্বাচন হতে যাচ্ছে এটা খুশির খবর। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে জানলাম মধ্য-ফেব্রম্নয়ারিতে ইউপি নির্বাচন ২০১১-এর তফসিল ঘোষণা হতে যাচ্ছে। মার্চ এবং মে মাসে দুই ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তখনই আতঙ্কিত হলাম। কারণ তফসিল ঘোষণার পর থেকে ভোটার এবং প্রাথর্ীরা নির্বাচনী জ্বরে আক্রানত্ম হন। নির্বাচনী আচরণবিধিতে যতই নিয়ম-কানুন থাকুক না কেন তফসিল ঘোষণার পর বিলম্বে নির্বাচনে সৎ ও যোগ্য প্রাথর্ী আর্থিকভাবে ৰতির সম্মুখীন হন। অতীত অভিজ্ঞতা এবং একজন ভুক্তভোগী হিসেবে জানি যে এমন সিদ্ধানত্ম ২য় ধাপের প্রাথর্ীদের জন্য অত্যনত্ম ৰতির কারণ হবে। তখন কালোটাকা এবং পেশিশক্তির মালিকরা লোভ-লালসা ও ভয়ভীতির মাধ্যমে ভোটারদের বিভ্রানত্ম করার সুযোগ পাবে। সেই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হবারও সম্ভাবনা থাকে। নানান কারণে এতদিন যখন নির্বাচন হয়নি তখন এইচএসসি পরীৰা, দেশে প্রথম বিশ্বকাপ ক্রিকেট এবং বর্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করে সদ্যসমাপ্ত পৌর নির্বাচনের মতো কাছাকাছি সময়ে নির্বাচন করলে আইনশৃঙ্খলার অবনতিসহ আর্থিক ৰতি কম হবে। তদুপরি মার্চে প্রচ- গরম এবং মে মাসে বর্ষা এ দু'টি সময় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য অনুকূল আবহাওয়া নয়।
এদিকে বিধিমালা মোতাবেক ভোটার তালিকাও হালনাগাদ করা হয়নি। পত্রিকায় দেখলাম ভোটার তালিকা হাল নাগাদ করা না হলে প্রায় ১০ লাখ ১৮ বছরপূর্ণ হওয়া ব্যক্তি ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে। তখন তাদের মধ্য থেকে যে কেউ অধিকার আদায়ের জন্য উচ্চ আদালতের রিট পিটিশন করলে বিজ্ঞ বিচারক নির্বাচন স্থগিতও করে দিতে পারেন। এছাড়া সীমানা সংক্রানত্ম জটিলতা তো আছেই। তাই তড়িঘড়ি করে নির্বাচন অনুষ্ঠান না করে সব কিছু গুছিয়ে অনুকূল আবহাওয়ায় নির্বাচন সম্পন্ন করা উচিত। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশিস্নষ্ট কর্তৃপৰের প্রতি বিষয়টি হৃদয়তার সঙ্গে বিবেচনার জন্য সবিনয় অনুরোধ করছি।
আবুল আলম আজমীর
সাবেক চেয়ারম্যান
দরবারপুর ইউনিয়ন পরিষদ
ফুলগাজী, ফেনী।