মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ৬ জানুয়ারী ২০১১, ২৩ পৌষ ১৪১৭
সরকারের দুই বছর ও খালেদার ক্ষমতায় যাবার দুরাশা
স্বদেশ রায়
আওয়ামী লীগ সরকারের দুই বছর পূর্ণ হয়েছে। আজ থেকে ঠিক দুই বছর আগে এই সরকার যাত্রা শুরম্ন করে। স্বাধীনতার পর এটা আওয়ামী লীগের তৃতীয় সরকার। আর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দ্বিতীয় সরকার। সরকার গঠনের সময় স্বাভাবিক নিয়মে যা ঘটে সেটাই ঘটেছিল। অর্থাৎ শেখ হাসিনা তার মন্ত্রিসভায় অনেক নতুন মুখ এনেছিলেন। প্রতিবার সরকার গঠন করার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি রাজনৈতিক দল মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ আনে এটা স্বাভাবিক বিষয়। ব্রিটেনে টনি বেস্নয়ার যখন দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসেন তখন তিনি অনেক নতুন মুখ আনেন। এবারও যদি লেবাররা ৰমতায় আসতে পারত নিঃসন্দেহে নতুন মুখ আনতেন। আবার যদি আগামী বার ব্রিটেনে লেবাররা ক্ষমতায় আসে তারা মন্ত্রিসভায় অনেক নতুন মুখ আনবে। এটা রাজনীতির স্বাভাবিক গতি। গণতান্ত্রিক সকল দেশে সকল রাজনৈতিক দলের সরকারে এটা ঘটে। পার্মানেন্ট মন্ত্রী থাকতে পারে রাজতন্ত্রে। তাছাড়া সব গণতান্ত্রিক দেশে সব সময়ই মন্ত্রিসভার একটি অংশ তরুণ রাখা হয়। কারণ তরুণদের উদ্ভাবনী ছাড়া কখনই কোন দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। যে রাজনৈতিক দল বা সরকার যত বেশি তরুণদের কাজে লাগাতে পারে তারা তত বেশি সফল হয়। এ ৰেত্রে আমাদের সমাজে একটি রৰণশীলতা রয়ে গেছে। আমরা সব সময়ই তরুণদের মূল্যায়ন করতে ভুল করি। ওয়াজেদ আলী অনেক আগেই বাঙালী চরিত্রের এ দীনতা লৰ্য করে গেছেন। এই দীনতার কারণে বাঙালী তিন পুরুষই একইভাবে একই মুদির দোকানের গদিতে বসে, একই মাপের ভুঁড়ি তৈরি করে জীবন শেষ করে।
নতুনকে গ্রহণ করে পুরনো মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসাই একটি রাষ্ট্র ও সমাজের মূল প্রগতি। তাই প্রগতির পথ চিন্তা করলে যে কোন রাজনৈতিক দলকে সরকার গঠনে অবশ্যই নতুনদের স্থান করে দিতে হবে। কিন্তু এবার আওয়ামী লীগের জন্যে, এবং দেশের জন্যে একটি দুর্ভাগ্য হলো শেখ হাসিনা তাঁর মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ নিলেই সমালোচনা শুরু হয়। ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় তাদেরকে 'কচি-কাঁচা' বলে চিহ্নিত করা হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের এই তরুণ মন্ত্রীদের 'কচি-কাঁচা' বলে ব্যঙ্গ করা হয় প্রথমে একটি ইলেকট্রনিক মিডিয়ায়। যিনি ব্যঙ্গ করেন তিনি একজন প্রবীণ সাংবাদিক। আওয়ামী লীগের পোশাক পরেই তিনি থাকেন। তবে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তারেককে বন্দনা করে কলাম লেখেন। তার মুখের থেকে এ কথা আওয়ামীবিরোধীরা লুফে নেন। এবং এখন খালেদা জিয়াও বলছেন। খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গে পরে আসছি। তার আগে বলা প্রয়োজন, গত দুই বছর কিন্তু নানান কারণে অকারণে এই সরকারকে কম যোগ্য বলা হয়েছে এই উদাহরণ টেনে যে, এই সরকারের মন্ত্রিসভার বেশি অংশ অনঅভিজ্ঞ তরুণ।
সমালোচকদের এই সমালোচনা বা ব্যঙ্গ সরকার খুব বেশি কানে নিয়েছে কিনা সেটা সরকার বলতে পারে। তবে একটু লোভ-লালসাহীন নিরপেক্ষ ভূমিতে দাঁড়িয়ে খেয়াল করলে দেখা যায়, সরকার তার নিজস্ব গতিতে চলেছে। এবং সাধারণ মানুষও সরকারের এ গতিকে উপলব্ধি করেছে। তারা তাদের নিজস্ব বিবেক ও বুদ্ধি দিয়ে সরকারকে বিচার করেছে। যেমন একজন প্রাক্তন অধ্যাপিকা সেদিন আমাকে বললেন, আপনারা মিডিয়ার অনেকেই এই সরকার কচি-কাঁচার সরকার বলে ঠাট্টা করেন। আপনারা অনেকে বলেন, '৯৬-২০০১-এর সরকারের অনেক বাঘা বাঘা মন্ত্রীকে তথাকথিত সংস্কারবাদী বলে বাদ দেয়ায় এই সরকার কাজ করতে পারছে না। আপনার কি অতীতের কোন সরকারের সঙ্গে এই সরকারকে মিলিয়ে দেখেছেন? এমনকি মিলিয়ে দেখেছেন, আওয়ামী লীগের '৯৬-২০০১-এর সরকারের সঙ্গে? তখন তো আওয়ামী লীগের বাঘা বাঘা নেতারা মন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু পাঁচ বছরে ওই সরকার তো বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের ফাঁসি দিতে পারেনি। পারেনি তাদের বিচার শেষ করতে। অথচ এবার তো কচি-কাঁচাদের নিয়ে এক বছর না পুরতেই বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের ফাঁসি দিতে সমর্থ হলো এই সরকার। তথাকথিত কচি-কাঁচাদের নিয়েই তো এই সরকার বাঘা বাঘা যুদ্ধাপরাধীদের জেলে পুরতে পেরেছে। ১৯৭৫-এর পনের আগস্টের পরে এই প্রথম কোন সরকার যুদ্ধাপরাধীদের জেলে ঢুকিয়েছে। শুধু জেলে ঢোকায়নি তাদেরকে আনত্মর্জাতিক যুদ্ধাপরাধী আইনে বিচারের মুখোমুখি করতে সমর্থ হয়েছে। ওই অধ্যাপিকার বিশেস্নষণ হলো, সরকার যে গতিতে এই বিচারকাজ এগিয়ে নিচ্ছে তাতে দ্রম্নতই সরকার যুদ্ধাপরাধীদের শাসত্মি দিতে সমর্থ হবে। ওই অধ্যাপিকা আমাকে পাল্টা প্রশ্ন করলেন, আমি কি মনে করি না, খালেদা জিয়া ক্যান্টনমেন্টে বসে যে রাজনীতি করতেন সেটা বন্ধ করতে পেরে সরকার সফলতার পরিচয় দিয়েছে। এবং এটাও কি 'কচি-কাঁচা' নিয়ে সরকার সমর্থ হয়নি? অধ্যাপিকাকে উত্তর দিতে গিয়ে বলি, বর্তমান সরকারের এই একটি কাজ ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের পরে দেশের রাজনীতি যে নষ্ট প্রক্রিয়ায় ঢুকে পড়েছিল সেখান থেকে অনত্মত সত্তর ভাগ বের করে এনেছে। কারণ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামটিই শুরম্ন হয়েছিল রাজনীতিকে সামরিকীকরণের বিরম্নদ্ধে প্রতিবাদের ভিতর দিয়ে। ১৯৫৮ সালে আয়ুব খানের মার্শল ল জারি করে ৰমতা নেয়া এবং তারপরে রাজনীতিকে সামরিকীকরণ করার ভিতর দিয়ে পাকিসত্মান রাষ্ট্রটির মরণযাত্রা শুরম্ন হয়। যে মৃতু্য যন্ত্রণা এখন অবশিষ্ট পাকিসত্মানে দেখা যাচ্ছে। কোন কোন রাজনৈতিক বিশেস্নষকের মতে, পাকিসত্মান নামক রাষ্ট্রটির যে অবশিষ্টাংশ আছে তার আসলে মৃতু্য হয়ে গেছে অনেক আগে। বর্তমানে যেটা দেখা যাচ্ছে সেটা ভাগ্যবাদীদের কথিত সেই কবরের আজাব। বাসত্মবে বাংলাদেশ সৃষ্টির ভিতর দিয়ে এই ভূখ- পাকিসত্মানের ওই মরণযাত্রা থেকে বের হয়ে আসতে পারে। কিন্তু এ দেশের দুর্ভাগ্য হলো, ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতি আবার পাকিসত্মানের মতো মৃতু্য পথযাত্রী হয়। কিন্তু জাতি হিসেবে বাঙালীর যেমন অনেক দোষ আছে তেমনি অনেক বড় বড় গুণ আছে। বিশেষ করে এই জাতি সব সময়ই মরতে মরতে বেঁচে ওঠে। এই বাঁচার অন্যতম কারণ এ জাতি বিপদে রম্নখে দাঁড়াতে পারে। সত্যকে চিনতে কমৰেত্রে ভুল করে। ১৯৭৫-এর পনের আগস্ট থেকেই তাই এ জাতি রাজনীতিকে সামরিকীকরণের বিরম্নদ্ধে রম্নখে দাঁড়িয়েছিল। এবং এরই এক পর্যায়ে এসে দেশকে এই সামরিক রাজনীতির বেড়াজাল ছিঁড়ে বের করে আনার সংগ্রামের নেতৃত্ব নেন শেখ হাসিনা। ১৯৮১ সালে এই নেতৃত্ব নেবার পরে তিনি ধাপে ধাপে এগিয়ে চলেছেন। অর্জন করছেন বিজয় ধাপে ধাপে। এবারও তিনি তার 'কচি-কাঁচার' মেলা নিয়ে অর্জন করেছেন সাফল্য। বাংলাদেশে রাজনীতিকে সামরিকীকরণের বর্তমান নেতাকে ক্যান্টনমেন্টে বসে রাজনীতি করা বন্ধ করতে সফল হয়েছে শেখ হাসিনা সরকার। যদিও বিচার বিভাগের মাধ্যমে বেগম জিয়ার অবৈধ দখলে রাখা ক্যান্টনমেন্ট বাসভবন থেকে তাকে বের করা হয়েছে। তারপরেও এটা বর্তমান সরকারের শুধু নয়, দেশের রাজনীতির জন্যে অনেক বড় বিজয়। কারণ প্রতিনিয়ত দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে রাজনীতির সঙ্গে জড়ালে এতে একদিকে যেমন রাজনীতি তার মৌলিক চরিত্র হারায় অন্যদিকে দেশের সশস্ত্র বাহিনীও হয় ৰতিগ্রসত্ম। বর্তমান সরকারের নেতৃত্বের গুণে তাই দেশের রাজনীতি ও দেশের সশস্ত্র বাহিনী এই রাহুচক্র মুক্ত হয়েছে।
বাসত্মবে বর্তমান সরকারের এ সাফল্যগুলো হচ্ছে দেশ ও দেশের রাজনীতিকে একটি দুষ্ট চক্রের হাত থেকে বের করে আনা। এই দুষ্ট চক্রের হাত থেকে বের করাই কিন্তু শেষ নয়। এই দুষ্ট চক্রের হাত থেকে বের করে দেশকে উন্নত ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যেতে হবে। সরকার যদি দেশকে উন্নত ভবিষ্যতের দিকে না নিয়ে যায় তাহলে দেশ আবার যে কোন মুহূর্তে দুষ্টচক্রের হাতে পড়ে যাবে। এখন খুঁজে দেখা দরকার আসলে কি এই সরকার দেশকে উন্নত ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে? শুধু দেশের ভিতর নয়, দেশের বাইরের অনেকে মনে করছেন বর্তমান সরকার দেশকে ভবিষ্যতের দিকে, উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। যেমন সম্প্রতি কথা হয় একজন বিদেশী অর্থনীতিবিদের সঙ্গে। তিনি শুধু অর্থনীতির থিয়োরি নিয়ে থাকেন না, বাসত্মব জীবনে একজন এঙ্িিকউটিভও । তার মত হলো_ তোমাদের দেশে এই প্রথম কোন সরকার বিদু্যতকে সর্বোচ্চ গুরম্নত্ব দিয়েছে। লেনিনের সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে ইউরোপ, আমেরিকা এমন কি চীন ও ভারতের উন্নয়নের মূলে কিন্তু বিদু্যতকে সর্বাধিক গুরম্নত্ব দেয়া। পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোও এর বাইরে নয়। বাংলাদেশ এই প্রথম বিদু্যতকে সর্বাধিক গুরম্নত্ব দিয়েছে। বাংলাদেশের এই অবস্থানই বাংলাদেশকে একটি উন্নতির পথে নিয়ে যাবে। কারণ বর্তমানে শুধু শিল্প নয়, কৃষিও সম্পূর্ণ বিদু্যতনির্ভর। ওই অর্থনীতিবিদ প্রশংসা করলেন এ বিষয়ে দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগকে। পাশাপাশি তিনি বললেন, দেখ তোমাদের প্রধানমন্ত্রী তাঁর এ কাজের জন্যে উপদেষ্টা হিসেবে যাকে নিয়েছেন তিনিও অত্যনত্ম যোগ্য লোক। তার কথা শুনে একটু আশ্চর্য হই। তাকে বলি, তুমি কি জানো, আমার দেশে সব সময়ই দেশের কিছু বুদ্ধিজীবী রাসত্মায় তাঁকে সমালোচনা করছেন। তাঁর সম্পর্কে অনেক রটনাও তারা করছেন। দেখলাম ভদ্রলোক আমাদের দেশ সম্পর্কে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল। তিনি বললেন, যারা এ কাজ করছেন এদের অনেককে আমি চিনি। তাদের সম্পর্কে আমি কোন মনত্মব্য করব না। সেটা বিদেশী হিসেবে শোভনও নয়। তবে তোমাদের দেশের উন্নতি চাইলে তোমাদের দেশের জনগণের উচিত হবে এদের কথায় কান না দেয়া।
এই অর্থনীতিবিদের সঙ্গে কথা হবার কয়েকদিন পরে বেগম জিয়ার একটি বক্তব্য দেশকে চিনত্মিত করেছে। বেগম জিয়া বলেছেন, তিনি ৰমতায় এসে বর্তমান সরকারের সকল কাজ বাতিল করবেন। বেগম জিয়ার এই বক্তব্য নিয়ে ইতোমধ্যে প্রচুর লেখালেখি হয়েছে এবং হচ্ছে। তাই এটা নিয়ে বিশেষ কিছু লেখার নেই। তবে এটুকু বলতে হয়, খালেদা জিয়া দুইবার প্রধানমন্ত্রী থাকার পরেও সরকার বলতে কি বোঝায় সেটা তিনি বুঝতে পারেননি। প্রাতিষ্ঠানিক শিৰা না থাকলেও মানুষ নিজস্ব প্রজ্ঞা দিয়ে এটা বুঝতে পারে। কিন্তু খালেদা জিয়া সেটাও পারলেন না। এখন প্রথম প্রশ্ন আসে বেগম জিয়া কেন আবার ৰমতায় যাবেন? কোন পথে যাবেন তিনি ৰমতায়? নির্বাচনের মাধ্যমে তার ৰমতায় যাবার পথ এখন খুবই ৰীণ রেখায় রূপ নিয়েছে। কারণ, তথাকথিত নির্বাচনের নামে যেভাবে খালেদা বা এই শক্তি ৰমতায় যেত, নির্বাচনের সেই পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এখন আর ভুয়া ভোটার লিস্ট নেই। আর নির্বাচনে কারচুপি করার জন্যে সামরিক প্রশাসনকে কাজে লাগানোর পথও এখন বন্ধ। তাছাড়া সামরিক বাহিনীও এ পথে আর নামবে না। কারণ এতে তাদের আনত্মর্জাতিক সুনাম নষ্ট হবে। বন্ধ হয়ে যাবে জাতিসংঘ বাহিনীতে যাওয়া। বিদেশে এই কাজ পাওয়া যে আচরণ ও সুনামের ওপর নির্ভর করে সেটা আমরা আমাদের জনশক্তি রফতানির ৰেত্রে হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। আমাদের এখন বিদেশে জনশক্তি রফতানি করতে হলে তাদেরকে আগে কীভাবে প্রস্তুত করতে হবে এ বিষয়ে ভবিষ্যতে এ কলামে দু'চার কথা লেখার ইচ্ছে রইল। এখানে সে প্রসঙ্গ টানতে গেলে লেখা মূল গনত্মব্য থেকে দূরে সরে যাবে। এখানে এ উদাহরণটি আনা এ কারণে যে, জাতিসংঘ বাহিনীতে সেনাসদস্য পাঠানো বাসত্মবে দেশের সেনাবাহিনীকে উৎপাদনমুখী করা। আর এটা নির্ভর করছে সেনাসদস্যদের সুনামের ওপর। অতীতে সামরিক সরকাররা বা বিচারপতি সাহাবুদ্দীন, লতিফুর রহমানরা যেভাবে নির্বাচনে কারচুপি করার জন্যে সেনা প্রশাসনকে ব্যবহার করেছে সেটা আর সম্ভব নয়। তাই প্রকৃত নির্বাচনে বেগম জিয়ার ৰমতায় আসার পথ এখন খুবই ৰীণ রেখা। তার দলের সেক্রেটারি সম্প্রতি মওলানা ভাসানীর জন্মদিনে যেভাবে বক্তব্য রেখেছেন তাতে মনে হয়েছে তিনি বিএনপিকে ভাসানী ন্যাপ বানাতে চাচ্ছেন। প্রগতিশীলতার দিক থেকে বিএনপির পৰে ভাসানী ন্যাপ হওয়া কোন মতেই সম্ভব নয়। তবে বিএনপি ক্রমেই ১৯৭৩ সালের পরের ভাসানী ন্যাপে পরিণত হতে চলেছে। এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষে এই দলের বাসত্মব অবস্থা গিয়ে দাঁড়াবে মুক্তাঙ্গনে কয়েক শ' লোক নিয়ে সভা করা আর পত্রিকায় বিবৃতি দেয়া। টিভি পর্দায় ছবি দেখানো। কারণ ইতোমধ্যে যুদ্ধাপরাধীদের পৰ নিয়ে, যুদ্ধাপরাধীদের জন্যে হরতাল পালন করে বিএনপি নতুন প্রজন্মের কাছে নিজের চরিত্র উন্মোচিত করেছে। জানিয়ে দিয়েছে তারা যুদ্ধাপরাধীদের রৰাকারী একটি সংগঠন। যুদ্ধাপরাধীদের আশ্রয় দিয়ে, তাদের পৰে গিয়ে ১৯৭৫-এর পনের আগস্টের পরে দেশে একটি শক্তি গড়ে তোলা সম্ভব ছিল। কারণ সে সময়ে অনেক মুক্তিযোদ্ধা তাদের চরিত্র হারিয়ে ফেলেছিল। তরম্নণ মুক্তিযোদ্ধাদের একটি বড় অংশ জাসদের নামে মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের সহায়ক শক্তি হয়ে দাড়িয়েছিল। এর সঙ্গে দেশের রাজাকার, আলবদরা ছিল। ১৯৭৫-এর পনের আগস্ট আর ২০১০ সম্পূর্ণ ভিন্ন সময়। কারণ ইতোমধ্যে চরিত্র হারিয়ে ফেলা মুক্তিযোদ্ধারা অনেকে রাজনীতি ও সমাজ থেকে ছিটকে পড়েছেন। তাদের সেই আগের সামর্থ্যও আর নেই। দেশের রাজাকার, আলবদরের সংখ্যা প্রাকৃতিক নিয়মে অনেক কমে গেছে। তারা এখন মাটির নিচে। চিহ্নিত কিছু যুদ্ধাপরাধী রাজাকার, আলবদর দেশের তরম্নণ সমাজকে অর্থ দিয়ে, ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রানত্ম করছিল। এ কাজ তারা করতে পেরেছিল সরকারের সমর্থনে। কিন্তু বর্তমানের অবাধ তথ্য-প্রযুক্তির যুগ বদলে দিয়েছে বর্তমানের তরম্নণ সমাজকে। তাদেরকে আর মিথ্যে দিয়ে বোঝানো সম্ভব নয়। তারা নিজেরাই সত্য জানতে সমর্থ হচ্ছে। অন্যদিকে দেশে দারিদ্র্য আছে। তবে দারিদ্র্যের সেই তীব্রতা আর নেই। তাতে করে অর্থ দিয়ে তরম্নণ সমাজকে বিভ্রানত্ম করার সুযোগ অনেক কমে গেছে। এ কারণে মিথ্যে দিয়ে স্বাধীনতাবিরোধীদের নিয়ে খুব বড় কোন শক্তি গড়ার পথ আর নেই। এখন আর এই অপপ্রচার সম্ভব নয় যে, আওয়ামী লীগ দেশীয় পুঁজি বিকাশের পৰে নয়। বরং গত বিশ বছরে এটা প্রমাণিত হয়েছে দেশীয় পুঁজির বিকাশ ঘটানোর যোগ্যতা একমাত্র রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগেরই আছে। তাছাড়া আওয়ামী লীগের করা সকল বিদু্যতকেন্দ্র বন্ধ করে দিয়ে দেশের পুঁজি বিকাশ বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি নেত্রী। তাই এখন দেশের মানুষ খুব সহজেই সিদ্ধানত্ম নিতে পারবে তারা অন্ধকারে থাকবে না বিদুতের আলোয় উন্নত দেশে থাকবে। কারণ বর্তমান সরকার বিদ্যুতকে সর্বোচ্চ গুরুনত্ব দিয়েছে। আগামী তিন বছরের মধ্যেই দেশে প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট বাড়তি বিদু্যত উৎপাদনের কেন্দ্র স্থাপিত হবে। আর বেগম জিয়া ঘোষণা দিয়েছেন তিনি ৰমতায় এসে এগুলো সব বন্ধ করে দেবেন। দেশকে আবার অন্ধকারে নিয়ে যাবেন। মানুষ নিশ্চয়ই অন্ধকারে ফিরতে চায় না। আর এ ধরনের দয়িত্বহীন কথা কোন নেতা বা নেত্রী তখনই বলে যখন তার আর ক্ষমতায় যাবার কোন পথ থাকে না।
swadeshroy@gmail.com