মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০১৪, ১৭ অগ্রহায়ন ১৪২১
শারজায় ইনিংস হার পাকিদের, সিরিজ ড্র
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ শারজা টেস্টে শক্তিধর পাকিস্তানকে ইনিংস ও ৮০ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ১-১এ ড্র করল নিউজিল্যান্ড। প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানকে ৩৫১ রানে গুড়িয়ে দেয়ার পর ৬৯০ রানের পাহাড় গড়ে কিউইরা। ৩৩৯ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৫৯ রানে অলআউট হয় পাকিরা! খেলার একদিন বাকি থাকতেই হার মানে মিসবাহ-উল হকের দল। আবুধাবির প্রথম টেস্টে ২৪৮ রানে জিতেছিল তারা। দুবাইয়ের দ্বিতীয়টি ড্র হয়। এ জয়ে তাই পিছিয়ে পড়েও সিরিজ ড্র করল ব্রেন্ডন ম্যাককুলামের নিউজিল্যান্ড। ১০ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা বিজয়ী দলের নবীন স্পিনার মার্ক ক্রেইগ। আর দুরন্ত ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ভাল বোলিং করে সিরিজসেরা পাক অলরাউন্ডার মোহাম্মদ হাফিজ। একই ভেন্যুতে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি২০ বৃহস্পতিবার।
নিউজিল্যান্ড প্রথম ইনিংসে ৬৯০ রানের পাহাড় গড়ার পরই কার্যত শারজা টেস্ট বাঁচানোটা কঠিন হয়ে পড়ে পাকিস্তানের জন্য। দ্বিতীয় ইনিংসে তাসের ঘরে মতো ভেঙ্গে পড়া মিসবাহরা শেষ পর্যন্ত আর লজ্জা থেকে বাঁচত পারেনি। ভাগ্যিস দ্বিতীয় ইনিংসে ত্রাণকর্তা হয়ে হাজির হয়েছিলেন আসাদ সফিক। নইলে লজ্জাটা আরও বড়ই হতো। পাকিস্তানের ২৫৯ রানের মধ্যে ১৩৭ করেছেন সফিক। বাকি ব্যাটসম্যানের নেই ন্যূনতম হাফ সেঞ্চুরি। চলতি মৌসুমে পাকিস্তানের হয়ে সবচেয়ে ধারাবাহিক সফিক দৃঢ়তা দেখালেন বিপদের মধ্যে। যদিও সঙ্গীর অভাবে দলকে হার থেকে বাঁচাতে পারলেন না তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসে পেসার ট্রেন্ট বোল্টের বোলিংই ফেবারিটদের বেকায়দায় ফেলে। মাত্র ৩৮ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট তুলে নেন তিনি। দির্ঘদিন পর দলে ফেরা ড্যানিয়েল ভেট্টোরি ৫ ওভারে ২ মেডেনর সাহায্যে ৮ রানের বিনিময়ে ১ উইকেট নিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন এখনও ফুরিয়ে যাননি। ম্যাচে তার শিকার সংখ্যা ২টি।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৭ রান সরফরাজ আহমেদের। এছাড়া হাফিজ ২৪, ইউনুস খান ০, অধিনায়ক মিসবাহ ১২ রান করে সাজঘরে ফেরেন। এর আগে নিউজিল্যান্ড রানের পাহাড় গড়ে অধিনায়ক ম্যাককুলাম ও তরুণ কেন উইলিয়ামসনের ব্যাটে ভর করে। বছরের তৃতীয় ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে আগেরদিনই ব্র্যাডম্যানের পাশে নাম লেখান ২০২ রানে আউট হওয়া ম্যাককুলাম। মাত্র ৮ রানের জন্য উইলিয়ামসন ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি বঞ্চিত (১৯২) হলেও শারজায় শনিবারের গল্পটা কেবল দুই কিউই ব্যাটসম্যানের। সঙ্গে রস টেইলর, কোরি এ্যান্ডারসন, টিম সাউদি ও মার্ক ক্রেইগের চার হাফ সেঞ্চুরি নিউজিল্যান্ডকে রানের পহাড়ে চড়তে সাহায্য করে। এ নিয়ে ২০১৪ সালে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকালেন ম্যাককুলাম। বসলেন কিংবদন্তি ডন ব্র্যাডম্যান ও সাবেক অসি অধিনায়ক রিকি পন্টিংয়ের পাশে।
১৯৩০ সালে একই বছরে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন প্রয়াত স্যার ডন, সর্বোচ্চ ৩৩৪। আর পন্টিং এ কীর্তি গড়েছিলেন ২০০৩ সালে, সর্বোচ্চ ২৫৭। তবে বছরে চার ডাবল সেঞ্চুরিতে সবার ওপরে মাইকেল ক্লার্ক। রেকর্ডের চেয়েও বড় ক্রেইগ-ম্যাককুলামের নৈপুণ্যে ম্যাচ জিতে সিরিজ ড্র করল কিউইরা।