মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০১৪, ১৭ অগ্রহায়ন ১৪২১
জিম্বাবুইয়েকে হোয়াইটওয়াশের ম্যাচ আজ
মিথুন আশরাফ ॥ সংবাদ সম্মেলন শেষ। যখন আর কোন প্রশ্ন থাকল না, তখন জিম্বাবুইয়ে ব্যাটসম্যান হ্যামিল্টন মাসাকাদজা মুখে এক গাল হাসি নিয়ে বাংলায় বললেন, ‘শেষ!’ সবাই আশ্চর্য, এ কী; জিম্বাবুইয়ানের মুখে বাংলা কথা! সেই বাংলা কথাটাও আবার স্পষ্টভাবে ‘শেষ’। সেই শেষই দেখবে জিম্বাবুইয়ে। ওয়ানডে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ ম্যাচ আজ। হয়ত শেষটাও হার দিয়েই হবে জিম্বাবুইয়ের। তাহলেই জিম্বাবুইয়েকে হোয়াইটওয়াশ করে দেবে বাংলাদেশ। টেস্টের পর ওয়ানডেতেও জিম্বাবুইয়েকে হোয়াইটওয়াশ করার গৌরব অর্জন করবে বাংলাদেশ।
পারবে বাংলাদেশ তা করে দেখাতে? বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা আত্মবিশ্বাসী সুরেই বললেন, ‘এখন আর এক এক করে ম্যাচে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলা যাবে না। আর একটি ম্যাচই আছে। স্বাভাবিকভাবেই সেই ম্যাচেও জিততে চাই। এ জন্য যা যা করা দরকার আমরা করব।’
এই কাজটি করতে পারলে ২০০৬ সালের পর আবার জিম্বাবুইয়েকে হোয়াইটওয়াশ করবে বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে এ নিয়ে ৫৭ সিরিজ খেলে দুই ম্যাচ বা তার বেশি ম্যাচের সিরিজে ৮টিতে প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করার অর্জনও নিজেদের ভাণ্ডারে যুক্ত করবে। এর মধ্যে জিম্বাবুইয়েকেই দুইবার হোয়াইটওয়াশ করার কৃতিত্ব গড়বে। সর্বশেষ গতবছর নিউজিল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ। এর আগে ২০১০ সালেও নিউজিল্যান্ডকেই ৪-০ ব্যবধানে (একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়) হারায়। তারও আগে ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩-০ ব্যবধানে, ২০০৮ সালে আয়ারল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে, ২০০৬ সালে স্কটল্যান্ডকে ২-০ ব্যবধানে, একই বছর কেনিয়াকে ৩-০ ও ৪-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ। হোয়াইটওয়াশ করার কৃতিত্ব গড়ার সম্ভাবনার আগেই অবশ্য বাংলাদেশ সিরিজের দুই ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ জয় করে নিয়েছে। ২০০৫ সালে জিম্বাবুইয়েকে ৩-২ ব্যবধানে হারানো দিয়েই বাংলাদেশের সিরিজ জয় শুরু হয়। সেই থেকে ১৬ সিরিজ জয় হয়ে গেছে বাংলাদেশের। সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে ১২৪ রানে জিম্বাবুইয়েকে হারিয়েই সিরিজ জয় পায় বাংলাদেশ। চতুর্থ ওয়ানডেতে জিতে এখন জিম্বাবুইয়েকে হোয়াইটওয়াশ করার অপেক্ষায় আছে বাংলাদেশ। আজই সেই দিন।
বছরজুড়ে হারতে থাকা দলটি যদি এমন জয় পায়, তাহলে দলের ক্রিকেটারদের ভেতর স্বাভাবিকভাবেই শান্তি, স্বস্তি, আনন্দ জুড়িয়ে যাওয়ার কথা। বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের বেলাতেও তাই ঘটছে। সেই বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশ হারছে তো হারছেই। টানা ১২ ওয়ানডেতে হেরেছে বাংলাদেশ। অবশেষে জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে গিয়ে জয়ের সন্ধান পেয়েছে। মাশরাফি যেন এই জয়কে অতিমাত্রায় উৎসবে পরিণত করতে রাজি নন। তাইত বলেছেন, ‘আসলে বছরজুড়ে যেভাবে হেরেছি আমরা, কিছু ক্লোজ ম্যাচও হেরেছি। স্বাভাবিকভাবেই তখন আমাদের মানসিক অবস্থা ভাল ছিল না। এমন সময় গিয়ে জয় পাওয়া যে কোন দলের জন্যই স্বস্তির। তবে শেষ ম্যাচটি জিতলে যে অনেক বেশি আনন্দ লাগবে তা না। আনন্দ লাগবে। তবে সেই আনন্দ বছরজুড়ে হারতে থাকার পর জয়ের ধারা বজায় রাখায়।’
জিম্বাবুইয়েকে হোয়াইটওয়াশ করতে পারলে বাংলাদেশ দুইবারই এমন স্বাদ পাবে। ৫ ম্যাচের সিরিজে সব ম্যাচ হয়েছে, এমন সিরিজে একবারই প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করতে পেরেছিল বাংলাদেশ। সেটি ২০০৬ সালে জিম্বাবুইয়েকেই। সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বে প্রথমবার এমন কৃতিত্ব অর্জন করতে পেরেছিল বাংলাদেশ। এরপর নিউজিল্যান্ডকে ২০১০ সালে ৫-০’তে হোয়াইটওয়াশ করার স্বাদ পেতে পারত। কিন্তু একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়ে যায়। এ সিরিজটিতে অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফিও এমন কৃতিত্ব গড়তে পারতেন। কিন্তু ইনজুরিতে পড়ে প্রথম ওয়ানডেতেই মাশরাফিকে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল। হাবিবুলের পর তাই আর কেউ সেই কৃতিত্ব গড়তে পারেননি। এবার জিম্বাবুইয়েকে হোয়াইটওয়াশ করলে মাশরাফি সেই অর্জন নিজের অধিনায়ক ক্যারিয়ারে যুক্ত করবেন। সেই চেষ্টাই মাশরাফি ও তার দল করবে। তবে এমন অর্জনে গা ভাসিয়ে দিতে রাজি নন মাশরাফি, ‘আনন্দত লাগবেই। অধিনায়ক হিসেবে এমন কৃতিত্ব সত্যিই আনন্দের। তবে সবার আগে পঞ্চম ম্যাচটিও জিততে হবে। জিতলে আনন্দ অবশ্যই লাগবে। তাই বলে সেই আনন্দে ভেসে যাওয়া যাবে না। নেতৃত্ব নিয়ে আমার কোন ভাবনাই নাই। সবার আগে আমাকে দলের একজন সদস্য হিসেবে পারফর্ম করতে হবে। এরপর বাকি সব। কে অধিনায়ক তা আমার দেখার বিষয় না। অধিনায়ক নিয়ে কোন চ্যালেঞ্জও আমার নেই। তবে হ্যাঁ শেষ ম্যাচটি জেতার চ্যালেঞ্জ অবশ্যই আছে এবং আশা করছি আমার নেতৃত্বেই দল খেলবে।’
মাশরাফি সবসময়ই দলকে উজ্জীবিত করেন। তার উজ্জীবনী শক্তি দলকেও ভাল খেলতে সহায়তা করে। এবারও সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিচ্ছেন মাশরাফি। টানা ৪ ওয়ানডে খেলে ফেলেছেন। পঞ্চম ওয়ানডেও খেলবেন। পুরোদমে ফিট থেকেই খেলবেন। বার বার তার নেতৃত্বে দল সিরিজ শুরু করে। কিন্তু শেষটা আর করতে পারেন না মাশরাফি। এবার পারছেন। আর সেই পারায় আজ জিম্বাবুইয়েকে হোয়াইটওয়াশ করার ম্যাচ বাংলাদেশের।