মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
রবিবার, ২৪ আগষ্ট ২০১৪, ৯ ভাদ্র ১৪২১
কাবাডিতে পদক পাবে তো বাংলাদেশ!
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ এশিয়ান গেমসে হকি ও কাবাডিতে কঠিন গ্রুপে পড়েছে বাংলাদেশ। কাবাডিতে পুরুষ দলের ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ভারত ও পাকিস্তান এবং থাইল্যান্ড। গত আসরে ভারত চ্যাম্পিয়ন ও পাকিস্তান তৃতীয় হয়। মেয়েদের গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারত। গত আসরে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়েছিল বাংলাদেশের মেয়েরা এবং জিতেছিল তাম্রপদক।
আসন্ন ইনচন এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ কাবাডি দল অংশ নেবে পুরুষ ও মহিলা উভয় দলই। পুরুষ দলে আছেন মাসুদ করিম, আরদুজ্জামান মুন্সী, কামাল হোসেন, ওমর ফারুক, আবু সালেহ মুসা, জিয়াউর রহমান, ফিরোজ্জামান, জাকির হোসেন, মাফতুন হক, আশরাফুল শেখ ও টিপু সুলতান এবং কাবাডি মহিলা দলের সদস্যরা হলেন কাজী শাহীন আরা, মিতা খাতুন, শাহনাজ পারভীন মালেকা, জুনি চাকমা, ফারজানা আক্তার বেবী, আজমিরা খাতুন দোলা, শারমীন সুলতানা রীমা, ফাতেমা রানী ম-ল, রূপালী আক্তার, সুমা আক্তার ও টুকটুকী আক্তার।
যদিও এশিয়ান গেমস শুরু হয় ১৯৫১ সাল থেকে, তবে বাংলাদেশ এ আসরে অংশ নেয় ১৯৭৮ সালের আসর থেকে (১৯৪৭-১৯৭১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ছিল তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের সঙ্গে একীভূত। তখন বাংলাদেশের নাম ছিল পূর্বপাকিস্তান। তাই সে সময় বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা পশ্চিম পাকিস্তানের সঙ্গে মিলে এ আসরে অংশ নেয়ার জন্য সুযোগ পেতেন কালেভদ্রে)। এ পর্যন্ত নয়টি এশিয়ান গেমসের আসরে অংশ নিয়েছে (১৯৭৮-২০১০) বাংলাদেশ। মোট পদকপ্রাপ্তি ৯টি। এর মধ্যে স্বর্ণপদক মোটে একটি। বাকি ৪টি রৌপ্য ও ৪টি তাম্রপদক। ১৯৮৬ আসরে ১টি তাম্র, ১৯৯০ আসরে ১টি রৌপ্য, ১৯৯৪ আসরে ১টি রৌপ্য, ১৯৯৮ আসরে ১টি তাম্র, ২০০২ আসরে ১টি রৌপ্য, ২০০৬ আসরে ১টি তাম্র এবং সর্বশেষ ২০১০ আসরে ১টি স্বর্ণ, ১টি রৌপ্য ও ১টি তাম্রপদক করায়ত্ত করে বাংলাদেশ। কোন সন্দেহ নেই, খুব একটা আশাব্যঞ্জক প্রাপ্তি নয়। তবে কাবাডি নিয়ে বরাবরই বাংলাদেশের পদকপ্রাপ্তি ছিল আশা জাগানিয়া। এ পর্যন্ত এশিয়ান গেমস ৯টি পদক পেয়েছে বাংলাদেশ, যার ৬টিই এসেছে কাবাডি থেকে। এই ইভেন্টে সোনা না পেলেও ৩টি করে রুপা ও তামা পেয়েছে বাংলাদেশ। এগুলো হলো : ১৯৯০, ১৯৯৪ ও ২০০২ আসরে রৌপ্য; এবং ১৯৯৮ ও ২০০৬ আসরে তাম্রপদক। মহিলা দল ২০১০ আসরে জেতে তাম্রপদক।
এছাড়া বিশ্বকাপ কাবাডিতে দু’বার তাম্রপদক করায়ত্ত করেছে বাংলাদেশ। সেটা ২০০৪ ও ২০০৭ সালে। এশিয়ান ইনডোর গেমসেও একই ফল (২০০৭ ও ২০০৯)। দক্ষিণ এশীয় গেমসে কখনও স্বর্ণ না জিতলেও ১৯৯৯ সাল বাদে প্রতি আসরেই কোন না কোন পদক জিতেছে বাংলাদেশ। তিনটি রৌপ্য ও ৫টি তাম্রপদক। রুপা জেতে ১৯৮৫, ১৯৮৭ ও ১৯৯৫ আসরে। তামা জেতে ১৯৮৯, ১৯৯৩, ২০০৪, ২০০৬ ও ২০১০ আসরে। ১৯৮০ সালে প্রথম কলকাতায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ রানার্সআপ হয়। পরের আসরেও একই রেজাল্ট করেছিল বাংলাদেশ। ইনচন ইশয়ান গেমসে শক্তিশালী দলগুলোর গ্রুপে পড়ায় পদক জয়ের আশা অনেক কঠিন হয়ে গেল বলে মনে করছেন বাংলাদেশের কাবাডি কোচ আব্দুল জলিল। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানকে হারানো কঠিন। গত ১২ বছর আমরা তাদের বিপক্ষে জিততে পারিনি। ভারতও শক্তিশালী দল। গ্রুপিংয়ের নিয়ম ভেঙ্গে স্বাগতিকরা অন্যায়াবে সুবিধা নিয়েছে। কাবাডি থেকে ইনচনে বাংলাদেশের পদক পাওয়াটা তাই কঠিন হয়ে গেল।’
তবে এই মুহূর্তে জাতীয় পুরুষ দলের জন্য দরকার বেশ কটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ, যা তাদের গত চার বছর আন্তর্জাতিক ম্যাচ না খেলার ঘাটতিটা পুষিয়ে দেবে কিছুটা হলেওÑ জানান কোচ জলিল। এই জলিলের অধীনেই বাংলাদেশের যা কিছু অর্জন এশিয়াডে। ১৯৯৪ এবং ২০০২ তে রৌপ্য এবং ১৯৯৮ ও ২০০৬-এ তামা জেতে বাংলাদেশ। ১৯৯০ আসরে রৌপ্যজয়ী বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড় ছিলেন জলিল।
হা-ডু-ডু বা কাবাডি বাংলাদেশের জাতীয় খেলা (নেপালেরও)। কিন্তু এ খেলা যেন বিলুপ্তপ্রায়। জাতীয় এ খেলাটি যেন বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে দিন দিন। জাতীয় উৎসবে গ্রামেগঞ্জে এ খেলার আয়োজন করা হলেও শহরে খুব কমই দেখা যায়। অথচ এ খেলাটি ব্যয়বহুলও নয় বরং আনন্দদায়ক। জাতীয় খেলা কাবাডি নিয়ে বাংলাদেশের প্রথম চলচ্চিত্র ‘ভালোবাসতে মন লাগে’ এখন মুক্তির মিছিলে। কাবাডি খেলাকেন্দ্রিক এ চলচ্চিত্রটি নির্মাণে সার্বিক সহযোগিতা করেছে বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশন। হা-ডু-ডু বা কাবাডি বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় খেলা। ১৯৭৩ সালে গঠিত হয় বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশন। ১৯৭৮ সালে ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মায়ানমারের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এশিয়ান কাবাডি ফেডারেশন গঠিত হয়। আন্তর্জাতিক কাবাডিতে বাংলাদেশ পুরুষ দল সর্বশেষ খেলেছে চার বছর আগে, গুয়াংজু এশিয়াডে। আর মহিলা কাবাডি দল গত বছর চীনের হাইয়ানে অংশ নেয় এশিয়ান বিচ গেমসে। এরপর কলকাতায় একটি প্রাদেশিক টুর্নামেন্টে এবং ঢাকায় নেপাল ও ভারতের কয়েকটি প্রাদেশিক দলের অংশগ্রহণে ছোট মাপের প্রতিযোগিতায়।
গত ৫ জুলাইয়ের পর হঠাৎ বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল কাবাডিসহ এশিয়াডের অন্যান্য ডিসিপ্লিনের অনুশীলন। পরে আবার শুরু হয়। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নিম্নমানের রুমে থেকে চলছে পুরুষ কাবাডি দলের ইনচন এশিয়ান গেমসে পদক পুনরুদ্ধারের মিশন। এবার সেই পুরুষ কাবাডি দলের পদক জয় আছে যথেষ্ট সংশয়। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত কি হয়।