মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ২৮ অক্টোবর ২০১৩, ১৩ কার্তিক ১৪২০
সাফল্য অক্ষুণœ রাখার চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের
মোঃ মামুন রশীদ ॥ বাংলাদেশ সফরে এর আগে দুবার টেস্ট সিরিজ খেলে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল জিতে ফিরেছিল। কিন্তু এবার আর সেটা হতে দেয়নি স্বাগতিক বাংলাদেশ। এ কারণে তিন বছর আগে বাংলাদেশের কাছে ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়ে ফেরার দুঃসহ স্মৃতিটা মোচন করতে পারেনি কিউইরা। এবার আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ তাদের জন্য। মঙ্গলবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ড-বাংলাদেশ। আর শুরু হয়ে যাবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। পরিসংখ্যানও বলছে টাইগারদের ঘরের মাঠে ওয়ানডেতে মোকাবেলা করা বেশ কঠিন। ২৭৩ ওয়ানডে খেলা বাংলাদেশের জয় ৭৭, আর পরাজয় ১৯৩ হলেও দেশের মাটিতে ফলাফলটা অনেকখানিই ভাল। ঘরের মাঠে বাংলাদেশ ১২২ ওয়ানডে খেলে ৪৩ জয়ের বিপরীতে হেরেছে মাত্র ৭৮টি। আর নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে ওয়ানডে পরিসংখ্যান সমানে-সমান। পরস্পরের মধ্যে অনুষ্ঠিত ১১ ম্যাচের মধ্যে জয়-পরাজয় সমান ৫ করে। একটি ম্যাচ হয়েছে পরিত্যক্ত। তাই এবার অনেকেই প্রত্যাশায় আছেন ওয়ানডে সিরিজে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে দেয়ার। সর্বশেষ মোকাবেলায় কিউইদের ধবলধোলাইয়ের যে রেকর্ড আছে সেটাও বাড়তি অনুপ্রেরণা বাংলাদেশের জন্য। ওই স্মৃতিটাই আবার ফিরে আনবে টাইগাররা এমন বড় স্বপ্নও লালন করছে অনেকে। ৩১ অক্টোবর ও ৩ নবেম্বর হবে সিরিজের বাকি দুই ওয়ানডে।
২০১০ সালে ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়ে দেশে ফিরতে হয়েছিল রিক্ত হাতে। বাংলাদেশ দল এখন আরও পরিণত হয়েছে। সেটা ইতোমধ্যে টেস্ট সিরিজ খেলে টের পেয়ে গেছে কিউই শিবির। তখনকার বাংলাদেশ দল দুয়েকজন ব্যক্তিনির্ভর হলেও এখন মোটামুটি সবাই ধারাবাহিক পারফর্মার। বর্তমান নিউজিল্যান্ড দলে আগের সেই দলটির অনেকেই নেই। বাংলাদেশ দলের সেরা পারফর্মাররা প্রায় সবাই আছেন। দু’দলের মধ্যে মোকাবেলায় সর্বোচ্চ রান আর উইকেট শিকারের দিক থেকে তাই বর্তমান দলে থাকাদের মধ্যে বাংলাদেশীদেরই আধিক্য। ব্যাটিংয়ে সেরা পাঁচে আছেন সাকিব আল হাসান দুই নম্বরে ১৪ ম্যাচে ২৭.৪১ গড়ে ৩২৯ রান করে, তামিম ইকবাল ১০ ম্যাচে ২৫.৩০ গড়ে ২৫৩ ও মুশফিকুর রহীম ১৪ ম্যাচে ১৮.৫০ গড়ে ২২২ রান করে ৫ নম্বরে। সর্বাধিক রান রস টেইলরের। তিনি ৪২.২০ গড়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ১৩ ম্যাচ খেলে করেছেন ৪২২ রান। অধিনায়ক ম্যাককুলাম তিন নম্বরে আছেন ১৮ ম্যাচে ২২.০৭ গড়ে ৩০৯ রান করে। আর বোলিংয়ে পেসার কাইল মিলস ১৫ ম্যাচে মাত্র ১৪.২৮ গড়ে ৩২ উইকেট নিয়ে দু’দলের মধ্যে বোলিং নৈপুণ্যে শীর্ষে। ১৪ ম্যাচে ২২.২৫ গড়ে ২৪ উইকেট নিয়ে তাঁর পরেই আছেন সাকিব। আব্দুর রাজ্জাক ১১ ম্যাচে ১১ এবং শফিউল ইসলাম ৬ ম্যাচে ১০ ও রুবেল হোসেন ৫ ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়েছেন। ওয়ানডে সিরিজে পেসার রুবেল হোসেন নিজের ৫০তম ওয়ানডে উইকেট দখলের সামনে দাঁড়িয়ে। ৪০ ওয়ানডেতে এই পেসারের ঝুলিতে জমা হয়েছে ৪৯ উইকেট। আবারও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজে কঠিন চ্যালেঞ্জে পড়তে হবে কিউইদের এটাই বলে দিচ্ছে এ পরিসংখ্যান। দু’দলের সর্বমোট মোকাবেলা ২২ বার। এর মধ্যে একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত, আর ৫ জয়ের বিপরীতে ১৬ পরাজয় দেখেছে বাংলাদেশ। কিন্তু সর্বশেষ মোকাবেলায় ৪ ম্যাচেই জিতেছে বাংলাদেশ। নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ৫ বার এবং নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ৬ বার মুখোমুখি হয়ে প্রতিবারই হেরেছে টাইগাররা। কিন্তু ঘরের মাঠে দুর্দম্য টাইগার বাংলাদেশ দল। দু’দলের মধ্যে মোকাবেলায় তিন শতাধিক রানের সব ইনিংসই খেলেছে কিউইরা। শারজায় ১৯৯০ সালের ২৮ এপ্রিল ৩৩৮/৪, নেপিয়ারে ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১০ সালে ৩৩৬/৯ ও একই ভেন্যুতে ২০০৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর ৩৩৫/৭। তবে আশার কথা হচ্ছে ঢাকার মাঠে কিংবা বাংলাদেশের মাটিতে কিউইদের সেরা সংগ্রহ ৭ উইকেটে ২৫০।
সেটাও ২০০৪ সালের ৭ নবেম্বর। অপরদিকে, বাংলাদেশের ব্যাটিং পারফর্মেন্সও সুবিধার নয়। এক শ’র নিচেই তিনবার (২০০২ সালে কলম্বোয় ৭৭, চট্টগ্রামে ২০০৪ সালে ৮৬ ও ২০০৭ সালে কুইন্সটাউনে ৯৩) এক শ’র নিচে গুটিয়ে যাওয়ার রেকর্ডও আছে। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে দুই শতাধিক রানের ইনিংসই বাংলাদেশের আছে মাত্র পাঁচটি। এর মধ্যে দুবার সর্বোচ্চ ২৪১ রান তুলতে পেরেছে বাংলাদেশ। আর কিউইদের সর্বনিম্ন ১৭১ (১৭ অক্টোবর ২০১০, ঢাকা)। তবে দেশের মাটিতে ওয়ানডেতে দারুণ পরিসংখ্যানের কারণে আবার কিউইদের বড় ধাক্কা দেয়ার আশা টাইগারদের।