মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ২৮ অক্টোবর ২০১৩, ১৩ কার্তিক ১৪২০
মনের জোর বাড়ানোর তাগিদ মিসবাহর
পাকিস্তান-দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট সিরিজ, ব্যাটিংয়ে স্মিথ (২৮১ রান) বোলিংয়ে আজমল (১২ উইকেট) সেরা, বুধবার শুরু পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে লড়াই
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ আবুধাবীর প্রথম টেস্ট জয়ের পর ‘এক নম্বর’ শক্তি প্রোটিয়াদের বাঁদর নাচ নাচানোর সুযোগ এসেছিল পাকিদের সামনে। কিন্তু দুবাইয়ের সিরিজ নির্ধারণী লড়াইয়ে ভরাডুবি হয় মিসবাহ-উল হকদের। প্রথম ইনিংসে ৯৯ রানে গুটিয়ে যাওয়া পাকিস্তান হারে ইনিংস ও ৯২ রানের বিশাল ব্যবধানে। আবুধাবীতে দুর্দান্ত দাপট দেখানো দলটি দুবাইয়ে পাত্তাই পায়নি। দিন পাঁচেকের ব্যবধানে একটা দলের এতটা দুর্দশা হয় কী করে? দলটা পাকিস্তান বলে অনেকেই বিষয়টিকে ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ ও স্বাভাবিক বলবেন। তবে পাক সেনাপতি মিসবাহর দৃষ্টিতে মানসিক শক্তির অভাবই এর জন্য দায়ী। তরুণ সতীর্থদের মনের জোর বাড়ানোর পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটকে ঢেলে সাজানোর তাগিদ দেন তিনি।
‘মানসিক দৃঢ়তা অর্জনের জন্য আমাদের আরও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। মনে রাখতে হবে টেস্ট পাঁচ দিনের খেলা হলেও প্রতিটি দিনই নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে হাজির হয়। সেখানে প্রতিটি ইনিংসই নতুন ইনিংস। তুমি যদি ২০০ রান কর পরের ইনিংসে দল তোমার কাছ থেকে অমন ভালকিছুই আশা করবে। একটা সেঞ্চুরি বা হাফ সেঞ্চুরি করে নিজের দায়িত্ব শেষ ভাবার সুযোগ নেই। কারণ এটা টেস্ট, আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট। দু-একটি ভাল ইনিংস খেলে পরের বারই আমরা রিল্যাক্স হয়ে গেছি। মানসিক শক্তি এবং পাওয়ার ক্ষুধাটা আরও তীব্র হতে হবে।’ এ কথা বলে পাকিস্তান অধিনায়ক বেশ কয়েক সতীর্থের দিকে ইঙ্গিত করেন। ৭ উইকেটের জয় পাওয়া প্রথম টেস্টে তরুণ ওপেনার খুররম মনজুরের ১৪৬ রানের ইনিংসটিই পাকিস্তানের ভাগ্য গড়ে দেয়। মিসবাহ নিজেও করেন সেঞ্চুরি। কিন্তু সিরিজ নির্ধারণী দ্বিতীয় ম্যাচের দুই ইনিংসেই শূন্য (০) রানে আউট হন খুররম। জিম্বাবুইয়ে সফরে হারারে টেস্টে অসাধারণ এক ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকানো অভিজ্ঞ ইউনুস খান আমিরাতে ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। চার ইনিংসে তাঁর রান ৫৭, সর্বোচ্চ ৩৬!
অথচ ব্যাটিংয়ে প্রতিপক্ষ তারকা এবি ডি ভিলিয়ার্স ছিলেন ধারাবাহিকতার প্রতিমূর্ত। ১ সেঞ্চুরি ও ১ হাফ সেঞ্চুরিতে ৯১ গড়ে ২৭৩ রান সংগ্রহে সিরিজসেরা হন প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান। দ্বিতীয় টেস্টে ২৩৪ রানের ম্যারাথন ইনিংস খেলে দলকে জয়ের দোরগোড়ায় নিয়ে যান দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথ। সেটি উল্লেখ করে মিসবাহ আরও বলেন, ‘অনুকূল পরিস্থিতিতে একদমই ভাল খেলতে পারিনি আমরা। বিশেষ করে প্রথম টেস্টে অমন পারফর্মেন্সের পর দুবাইয়ে পুরোপুরি ব্যর্থ। প্রথম ইনিংসে নিজেদের অমন বাজে ব্যাটিং এবং গ্রায়েম স্মিথ ও ডি ভিলিয়ার্সের দুটি ইনিংসই পার্থক্য গড়ে দেয়। ডি ভিলিয়ার্সের ধারাবাহিকতা ছিল উদাহরণ সৃষ্টিকারী। আমাদের মাঝে এই জিনিসটারই অভাব।’ পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটে দীর্ঘ পরিসরের আয়োজন, প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটকে আরও সুশৃঙ্খল করতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রতি আহ্বান জানান ব্যাট হাতে ফর্মের তুঙ্গে থাকা অধিনায়ক। সিরিজ জিততে না পারলেও র‌্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি হয়েছে মিসবাহদের। দুই ধাপ এগিয়ে ফের চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে তার দল। জিম্বাবুইয়ে সফরের দ্বিতীয় টেস্টে চরম ভরাডুবিতে ষষ্ঠ স্থানে নেমে গিয়েছিল পাকিস্তান। শীর্ষস্থান ধরে রাখলেও রেটিং পয়েন্ট কমেছে দক্ষিণ আফ্রিকার। অদল বদল হয়েছে টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের ব্যক্তিগত অবস্থানেও। ব্যাটিংয়ে হাশিম আমলাকে টপকে এক নম্বরে উঠে গেছেন সিরিজের নায়ক তাঁরই সতীর্থ ডি ভিলিয়ার্স। ৭৩ গড়ে ২১৮ রান নিয়ে সিরিজের তৃতীয় সর্বাধিক রান সংগ্রাহক মিসবাহ। সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরি ১টি করে। সিরিজ ১-১-এ ড্রর মতো ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে রয়েছে ভারসাম্য। ৯৪ গড়ে সর্বাধিক ২৮১ প্রোটিয়া সেনাপতি গ্রায়েম স্মিথের। ১টি করে সেঞ্চুরির সাহায্যে ১৯৪ ও ১৫০ রান নিয়ে যথাক্রমে চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে আছেন আসাদ শফিক ও খুররম মনজুর। উইকেট প্রাপ্তিতে সবাইকে ছাড়িয়ে সাঈদ আজমল। ২ ম্যাচের ৩ ইনিংসে পাক সেনসেশনাল স্পিনারের শিকার সংখ্যা ১২। ৮টি করে উইকেট প্রোটিয়া স্পিনার ইমরান তাহির ও পেসার ডেল স্টেইনের। ৬টি করে উইকেট নিয়েছেন ভারনন ফিল্যান্ডার ও জুলফিকার বাবর।