মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ২৮ অক্টোবর ২০১৩, ১৩ কার্তিক ১৪২০
সেরেনার আচরণে ক্ষুব্ধ জাঙ্কোভিচ!
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ইস্তাম্বুলে মৌসুমের শেষ আসর ডব্লিউটিএ চ্যাম্পিয়নশিপসে ফাইনালে উঠেছেন বিশ্বের এক নম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেরেনা উইলিয়ামস। তিন সেটের এক দীর্ঘ লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ৬-৪, ২-৬ ও ৬-৪ সেটে তিনি হারিয়েছেন সাবেক এক নম্বর সার্বিয়ার জেলেনা জাঙ্কোভিচকে। ডব্লিউটিএ ট্যুরের মৌসুম শেষে শীর্ষ আট টেনিস তারকাকে নিয়ে এ আসর আয়োজিত হচ্ছে। তবে সেরেনার এমন দুর্দান্ত উর্ধগতি তাঁর ভক্ত-সমর্থকদের সন্তুষ্ট করতে পারলেও তাঁর ওপর নাখোশ জাঙ্কোভিচ। ২৮ বছর বয়সী এ সার্ব টেনিস তরুণী প্রশ্ন তুলেছেন সেরেনার খেলোয়াড়সুলভ আচরণ নিয়ে। ম্যাচ চলার সময়ে এমন কিছু বাড়তি কাজ করেছেন সেরেনা যা অতিমাত্রায় বিরক্তির উদ্রেক করেছিল। জাঙ্কোভিচের দাবি যখন সেরেনা কোন গেমে এগিয়ে ছিলেন সে সময়গুলোতে একই আচরণ করতে দেখা যায়নি। তাই বিশ্বের এক নম্বরের ওপর দারুণ ক্ষুব্ধ তিনি।
সেমির লড়াইয়ে জাঙ্কোভিচের বিরুদ্ধে বেশ সংগ্রাম করতে হয়েছে সেরেনাকে। পড়তে হয়েছে তুমুল চ্যালেঞ্জের মুখে। খিটখিটে মেজাজ, অসংলগ্ন কিছু আচরণ এবং দুশ্চিন্তায় মুষড়ে পড়ার সময় বেশকিছু অঙ্গভঙ্গি করেছেন সেরেনা যা দারুণ বিস্মিত করেছে জাঙ্কোভিচকে। তাঁর দাবি যখন কোন গেমে সেরেনা এগিয়ে ছিলেন তখন একইভাবে ধপ করে বসে পড়া, বার বার তোয়ালে দিয়ে মুখ-হাত মোছা, উত্তেজনায় তীক্ষè চিৎকার দেয়া কিংবা হঠাৎ করেই বিরতি নিতে দেখা যায়নি সেরেনাকে। এ কারণে সেরেনার খেলোয়াড়সুলভ আচরণগুলোকে অসংলগ্ন বলেই মনে করেন জাঙ্কোভিচ। আর এসব কিছু ম্যাচের গতিপ্রকৃতি অনেকটা পাল্টে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে বলে দাবি তাঁর। জাঙ্কোভিচ বলেন, ‘যখন এগিয়ে ছিলেন সে সময়গুলোতে আমি তাঁকে এমনটা করতে দেখিনি। সবাই জানে প্রায় সময়ই তিনি এগিয়ে ছিলেন। অনেক পরিশ্রম করে বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে তিনি দৌড়ঝাঁপ করেছেন, ভাল সার্ভগুলোও তিনিই করেছেন। কোন এক কারণে তিনি হারতে শুরু করেছিলেন, অনেক ধীরগতিতে সার্ভ করছিলেন এবং বল দখলে নিতে তেমন উৎসাহও হারিয়ে ফেলেছিলেন। আর এ বিষয়গুলো একজন খেলোয়াড় হিসেবে মনোযোগ না দিয়ে থাকা সম্ভব নয়।’ সেরেনার বিরুদ্ধে এর আগেও অনেকবার মুখোমুখি হয়েছেন জাঙ্কোভিচ। প্রতি ম্যাচেই একই আচরণ খেয়াল করেছেন তিনি। এ বিষয়ে জাঙ্কোভিচ বলেন, ‘এই প্রথম তিনি আমার সঙ্গে খেলার সময় এমন করেছেন বিষয়টি তেমন নয়। এটাই তাঁর খেলার ধরন। কিংবা হতে পারে আমার বিরুদ্ধে খেলার সময়েই তিনি এমনটা করেন। আমি সঠিকটা বলতে পারব না। কিন্তু ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে যখন ভাল কিছু সার্ভ হতে থাকে সে সময় অবশ্যই অনেক সতর্ক থাকা জরুরী। কেউ জানে না কখন তিনি দ্রুততা নিয়ে আসবেন কিংবা কখন ধীরস্থিরভাবে। কাজেই সহজে বিষয়টির প্রতি মনোনিবেশ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাঁর বাড়তি কিছু আচরণের দিকে দৃষ্টি দেয়ার চেয়ে খেলার প্রতি মনোযোগ দেয়াটাই আমার জন্য জরুরী। কিন্তু তাঁর কিছু আচরণ সত্যিই আমার খেলায় বাড়তি একটা প্রভাব সৃষ্টি করে এবং আমার স্বাভাবিক খেলাটা অসম্ভব হয়ে ওঠে। তিনি বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড় এবং সত্যিই অসাধারণ খেলেন। তিনি এ অবস্থানে থাকার উপযুক্ত। কিন্তু আমি মনে করি যখন তিনি খেলবেন অবশ্যই তাঁকে ম্যাচের প্রতিই বেশি মনোযোগী হতে হবে এবং ভাল খেলোয়াড়সুলভ আচরণও প্রদর্শন করতে হবে।’
অবশ্য জাঙ্কোভিচের এমন কথা কিছুটা হাস্যকরই শোনাচ্ছে। কারণ, একজন খেলোয়াড় কখন কী গতি নিয়ে খেলবেন সেটা একান্তই তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। এখানে গতিময়তা নিয়ে কোন বাড়তি নিয়ম-নীতি নেই। তবে জাঙ্কোভিচ আচরণগত দিকের প্রতি নির্দেশ করেছেন। প্রতিপক্ষের আচরণ যেন আরেকজনের খেলাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে সেদিকেই জাঙ্কোভিচের ইঙ্গিত। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই প্রতিযোগী এবং সবাই চায় তাঁর ব্যক্তিগত উপায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে। ম্যাচে সবারই নিজস্ব কিছু কর্মপরিকল্পনা থাকে এবং সেটার প্রতিফলন ঘটাতে হয়। দিন শেষে সেই জয়ী হয় যিনি সেটাকে পুরোপুরি কার্যকর করতে পারেন। আজ সেরেনা সেটা পেরেছেন।’