মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০১১, ১৬ পৌষ ১৪১৮
ধরাশায়ী আবাহনী ও মোহামেডান
মাঠে গড়িয়েছে প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগ_ নবাগত শেখ জামাল ও ব্রাদার্স ইউনিয়নের বাজিমাত
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ গতবারের চ্যাম্পিয়ন আবাহনী ও রানার্সআপ মোহামেডান। দুই দলই এবার নিজেদের প্রথম ম্যাচেই হেরে গেছে। তাও নবাগত দুই দল ব্রাদার্সের কাছে ২৯ রানে আবাহনী ও শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের কাছে ৫ উইকেটে মোহামেডান হেরেছে! এই হারে এবার ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগে আবাহনী, মোহামেডানের চেয়ে যে ব্রাদার্স, শেখ জামাল অনেক শক্তিশালী দল সেই বিচারও হয়ে গেছে। নবাগত দল দুটি যে এবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্যই আটঘাট বেঁধে খেলতে নেমেছে তাও প্রমাণ হয়ে গেছে। এখন সামনের পথ পাড়ি দেয়ার অপেক্ষা।
সেই পথে শুরম্নতে দুই দল বাজিমাত করেছে, শেখ জামাল ও ব্রাদার্স। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে টস জিতে আবাহনী আগে ব্যাট করতে পাঠায় ব্রাদার্সকে। সেই সুযোগে অবশ্য ৫০ ওভারে খুব বেশি এগিয়ে যেতে পারেনি ব্রাদার্স। নাজিমুদ্দিনের ৪২ ও তাপস ঘোষের অপরাজিত ৪৭ রানে ৭ উইকেটে ২২৪ রান করেছে। মাহমুদুলস্নাহ রিয়াদ ও সাকলায়েন সজিব দুটি করে উইকেট নিতে সক্ষম হন।
এই রান তাড়া করতে গিয়ে শুরু থেকেই উইকেট হারানোর তোপের মধ্যে পড়ে আবাহনী। শুরুতে দলীয় ৭ উইকেটে সোহেল তানভির একটি উইকেট নিয়ে ফেলেন। পিটার ডেভিডকে এলবিডাবিস্নউ করে প্যাভিলিয়নে পাঠান। এরপরও আবাহনী এগিয়ে যেতে থাকে। কিন্তু দলীয় ৪০ রানে ফজলে রাবি্ব (১৬) ও ৪৮ রানে আনামূল হক বিজয় (২৫) এবং ৬৩ রানে মাহমুদুলস্নাহ রিয়াদ (৫) আউট হতেই মূলত ম্যাচের সমাপ্তি ঘটে গিয়েছিল। তবুও বিদেশী ক্রিকেটার মিথুন মানহাস (৫০) এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। শেষ মুহূর্তে ইলিয়াস সানি (২৬*) দলের স্কোর বাড়াতে ভূমিকা রাখেন। কিন্তু উইকেট বেশি না থাকায় শেষপর্যনত্ম ১৯৫ রানে ৪৬.২ ওভারে অলআউট হয়ে যায় আবাহনী। গতবারের চ্যাম্পিয়ন প্রথম ম্যাচেই ব্রাদার্সের কাছে ধরাশায়ী হয়।
আবাহনীর এমন কষ্টের দিনে মোহামেডানও ছাড় পায়নি। ফতুলস্নায় টস জিতে অবশ্য মোহামেডান আগে ব্যাট করে ৪৯.৪ ওভারে ২০১ রানে অলআউট হতেই ম্যাচের ফল মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। শেখ জামালই যে জিততে চলেছে তা সবার ধারণা হয়ে গিয়েছিল। উমর আমিনের ৫৯ ও রাজিন সালেহর ৩২ রানে এই রান করতে সক্ষম হয় মোহামেডান। ডলার মাহমুদ একাই নেন তিন উইকেট। জবাব দিতে নেমে ৫ উইকেট হারিয়ে ৪৭.২ ওভারে ২০৪ রান করে ম্যাচ জিতে শেখ জামাল। ওপেনার দিপক জুন ৮০ ও সামসুর রহমান ৬০ রান করেন। এই দুইজনের ওপেনিং জুটিই মূলত ম্যাচ জিতিয়ে দেয়। ১৩১ রানের জুটি গড়ে তারা। ম্যাচও জিতে শেখ জামাল অনায়াসে।
আবাহনীর কোচ মোহাম্মদ রফিক বলেন, 'বোলিং ভালই হয়েছিল। কিন্তু ব্যাটিংয়ে গিয়ে আর পারা যায়নি। লীগ মাত্র শুরম্ন হলো। এখনই হতাশ হওয়ার কিছু নেই। সামনে আরও দিন আছে। আশা করছি ভাল কিছুই হবে।' অধিনায়ক মাহমুদুলস্নাহ রিয়াদ জানান, 'চেয়েছিলাম এগিয়ে যেতে। কিন্তু রান আউট হয়ে গেছি। সেখানেই দল পিছিয়ে পড়েছে। এরপর মিথুন মানহাস অসাধারণ খেলছিলেন। তার আউট হওয়ার পরই মূলত সব শেষ হয়ে যায়। আশা করছি সামনে ভাল করতে পারব। তাছাড়া ব্রাদার্স দলটিও ভাল খেলেছে।'
ব্রাদার্সের অধিনায়ক তুষার ইমরান। তিনি জানান, 'প্রথম ম্যাচেই জিততে পেরে অনেক আনন্দ লাগছে। আমাদের দলটি গড়া হয়েছে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য। এখন সেই পথে এগিয়ে যেতে চাই। সামনের ম্যাচগুলোতে এক এক করে জিততে চাই।'
মোহামেডানের অধিনায়ক নাঈম ইসলাম। ম্যাচ শেষে ফোনালাপে তিনি বললেন, 'আমাদের ব্যাটিং অনেক খারাপ হয়েছে। একটি মাত্র বড় জুটি হয়েছে। উমর আমিন উইকেটে থাকার সময়। তার সঙ্গে রাজিন (সালেহ) অসাধারণ খেলেছেন। কিন্তু ৮৫ রানের জুটি গড়েছেন। এরপর আর সেইরকম জুটির দেখা মেলেনি। এখানেই আমরা পিছিয়ে পড়েছি।'
নগরীর একটি হোটেলে আইকন ক্রিকেটারদের নিয়ে বিপিএলের একটি প্রোগ্রাম ছিল গতকাল বৃহস্পতিবার। খেলা শেষে সেখানে যাওয়ার আগে হেলিকপ্টার দিয়ে শেখ জামালের অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম মিরপুরে নামেন। সেখান থেকেই পড়ে গাড়ি করে যান প্রোগ্রামে। যাওয়ার আগে মুশফিক জানান, 'দলটি আমাদের ব্যালান্সড হয়েছে। বিশেষ করে প্রথম ম্যাচেই দুই ওপেনার দিপক ও সামসুর অসাধারণ ব্যাটিং করেছে। সেই সঙ্গে ডলার মাহমুদ, আরাফাত সানি ও সোহরাওয়াদর্ী শুভ ভাল বল করায় আমরা শুরম্নতেই এগিয়ে যাই। শেষপর্যনত্ম জয়ও পাই। ক্রিকেটারদের ভেতর একটি বোধ আছে দলকে শতভাগ দেয়ার। প্রথম ম্যাচে সেই রকমটিই পেয়েছি। এখন বাকি ম্যাচগুলোও জিততে চাই।'
আবাহনী-ব্রাদার্স
ব্রাদার্স ইনিংস ২২৪/৭; ৫০ ওভার (তাপস ঘোষ ৪৭*, নাজিমুদ্দিন ৪২, আবদুর রাজ্জাক ৩৮*; সাকলায়েন ২/২১)।
আবাহনী ইনিংস ১৯৫/১০; ৪৬.২ ওভার (মিথুন ৫০, ফরহাদ হোসেন ২৯, ইলিয়াস ২৬*; তুষার ইমরান ২/২১, রাজ্জাক ২/২৬, তাপস ২/২৫)।
ফল ॥ ব্রাদার্স ইউনিয়ন ২৯ রানে জয়ী।
মোহামেডান-শেখ জামাল
মোহামেডান ইনিংস ২০১/১০; ৪৯.৪ ওভার (আমিন ৫৯, রাজিন ৩২; ডলার ৩/৫৬, আরাফাত ২/২৭, সোহরাওয়ার্দী ২/৩৬)।
শেখ জামাল ইনিংস ২০৪/৫; ৪৭.২ ওভার (দীপক ৮০, সামসুর ৬০, জিহান মুবারক ২০*; হাম্মাদ আজম ২/৩২, অমিতাভ নয়ন ২/৪২।
ফল ॥ শেখ জামাল ৫ উইকেটে জয়ী।