মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
রবিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০১১, ১১ পৌষ ১৪১৮
নতুন রাইফেল ও স্পন্সর পাচ্ছেন শূটার তৃপ্তি
এশিয়ান শূটিং কনফেডারেশন প্রেসিডেন্ট আল সাবাহর প্রতিশ্রুতি
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ এশিয়ান শূটিং ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট কুয়েতের সালমান আল-সাবাহ্র প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নতুন মডেলের রাইফেল ও স্পন্সর পাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে শূটার তৃপ্তি দত্তের জন্য। যদিও রাইফেল ও স্পন্সর প্রাপ্তি ঘটত অনেক আগেই। কিন্তু যোগাযোগ সমস্যার কারণে সেটা এখনও বাসত্মবায়িত হয়নি। তবে আগামী জানুয়ারিতে কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিতব্য শূটিং আসরে তৃপ্তি অংশ নিতে গেলে সেখানে উপস্থিত থাকা সালমানের মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে বলে জানিয়েছেন শূটিং ফেডারেশনের ট্রেনিং কমিটির সদস্য ইমরান চৌধুরী। যদি তা-ই হয়, তাহলে এটাই হবে আনত্মর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের কোন শূটারের সহায়তা প্রাপ্তির প্রথম ঘটনা।
'জানুয়ারিতে কাতারের দোহায় অনুষ্ঠেয় এশিয়ান এয়ারগান শূটিং চ্যাম্পিয়নশিপে যদি অংশ নেয়ার সুযোগ পাই, তাহলে আপ্রাণ চেষ্টা করব ভাল করার। আপনারা জানেন, শূটিংটা মূলত মানসিক খেলা। মনোসংযোগ ও মনোবল বাড়ানোর জন্য আমাকে আবার নতুন করে সবকিছু শুরম্ন করতে হবে। সবাই আমার জন্য প্রার্থনা করবেন, আমি যেন এই শোক সামলে উঠতে পারি।' গত ২৭ অক্টোরর এ কথাগুলো বলেছিলেন তৃপ্তি দত্ত। এভাবে বলার কারণ_ ২১ অক্টোবর কুয়েতে চতুর্থ এশিয়ান এয়ারগান শূটিং চ্যাম্পিয়নশিপে দশমিক ২ পয়েন্টের জন্য স্বর্ণপদক পাননি বাংলাদেশের এ প্রতিভাময়ী শূটার। ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে (জুনিয়র) অংশ নিয়েছিলেন তিনি। এ ইভেন্টে স্বর্ণপদক জেতেন। কিন্তু ওই আসরের জুরি বাংলাদেশ শূটিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ দলের ম্যানেজারের ভুলের কারণে রেঞ্জে বিলম্বে উপস্থিত হওয়ায় প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী তৃপ্তির অর্জিত পয়েন্ট থেকে ২ পয়েন্ট কেটে নেয়া হয়। ফলে নিশ্চিত স্বর্ণপদকপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হন তৃপ্তি বাংলাদেশ! তিনি হন চতুর্থ। কুয়েতে যদি স্বর্ণ পেতেন তৃপ্তি, তাহলে তিনি তো বটেই, বাংলাদেশের নামটাও স্মরণীয় হয়ে থাকত। কেননা, এসএ গেমস, কমনওয়েথ শূটিংয়ের চেয়েও অনেক বড়মাপের আসর ছিল এটি। কারণ এখানে অংশ নেয় এশিয়ার সেরা শূটাররা।
যাকে সাপে কামড়েছে, সে-ই উপলব্ধি করতে পারে এর সুতীব্র যাতনা। সাফল্য পেয়ে তিনি তুলতে পারতেন তৃপ্তির ঢেঁকুর। তা না, উল্টো 'পেয়ে হারানোর বেদনা'য় অহর্নিশ জ্বলে-পুড়ে অঙ্গার হতে হয়েছিল বাংলাদেশ মহিলা শূটিংয়ের উজ্জ্বল নৰত্র তৃপ্তিকে। সাফল্যের স্বর্ণশিখরে পেঁৗছেও জয়ের মুকুট পরে হতে পারেনি শূটিংয়ের রাজকুমারী, ২০১০ এসএ গেমসের এ স্বর্ণজয়ী শূটার। তখন কেঁদে বুক ভাসিয়েছিলেন। তাঁর এমন ফলে বিস্মিত হয়েছিলেন এশিয়ান শূটিং ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট কুয়েতের সালমান আল-সাবাহ্। তিনি নিজে তৃপ্তিকে ডেকে নিয়ে সানত্ম্বনা দিয়েছিলেন। আর প্রতিশ্রম্নতি দিয়েছিলেন অচিরেই তাকে 'এ্যানসোর্স' মডেলের অত্যাধুনিক রাইফেল ও স্পন্সর ঠিক করে দেয়া হবে। সেটা এখনও পাননি তৃপ্তি। তবে আশাবাদী জানুয়ারিতে কাতারে খেলতে গেলে পেয়ে যাবেন, 'ফেডারেশন থেকেও এ বিষয়ে ই-মেইল করা হয়েছে সালমানকে। স্পন্সর নিয়ে ভাবছি না। ভাল রাইফেল পেলে আমার পারফরমেন্স আগের চেয়ে অনেক ভাল হবে ও আত্মবিশ্বাসও বেড়ে যাবে_ এটা নিয়েই ভাবছি।'
২০১২ লন্ডন অলিম্পিকের শূটিং ইভেন্টের প্রতিটিতে অংশ নিতে পারবে ২৯ প্রতিযোগী। বিভিন্ন দেশের ২৭ শূটার ইতোমধ্যেই সে যোগ্যতা অর্জন করেছেন। বাংলাদেশের যোগ্যতা অর্জনের জন্য শেষ সুযোগ হচ্ছে আসন্ন দোহা এশিয়ান শূটিং প্রতিযোগিতা। ২ জনের যে কোটা আছে, তার একজন হতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মনোভাব প্রকাশ করলেন তৃপ্তি, 'আমি অনেক আশাবাদী। প্রস্তুতিও ভাল। আজ অনুষ্ঠিত 'জাতীয় এয়ারগান শূটিং প্রতিযোগিতা'য় নিজের ইভেন্টেও ভাল ফল করার প্রতিশ্রম্নতি দিলেন তৃপ্তি।