মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
রবিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০১১, ১১ পৌষ ১৪১৮
খেলা মাঠে গড়ানোর আগেই ব্যর্থতার চিত্র!
প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগ
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ দেশের একমাত্র প্রথম শ্রেণীর আসর জাতীয় ক্রিকেট লীগ নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কর্মকর্তাদের ব্যর্থতা আগেই ধরা পড়েছে। এবার দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় আসর ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগ নিয়েও ফুটে উঠেছে ব্যর্থতার চিত্র। সোমবার থেকে শুরম্ন হওয়ার কথা ছিল ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগ। সেই হিসেবে লীগের আর একদিন বাকি ছিল। কিন্তু লীগ দুইদিন পিছিয়ে গেছে। এর কারণ হিসেবে কর্মকর্তাদের একাধিক ব্যর্থতাই ধরা দিচ্ছে। প্রথম কারণ, লীগের ফিকশ্চার শুক্রবার পর্যনত্ম চূড়ানত্ম করা যায়নি। দ্বিতীয় কারণ, ক্লাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে লীগের দিনৰণ পেছানো হয়েছে। তৃতীয় কারণ, স্পন্সর মিলেনি। চতুর্থ কারণ, এখন পর্যনত্ম লীগের বাজেটই বরাদ্দ হয়নি। সাত মাস আগে যেই আসরের দিনৰণ ঠিক হয়ে আছে। সেই আসর নিয়ে এমন বেহাল দশা! সবার চোখ কপালে ওঠার মতো অবস্থাই হয়েছে।
ঘরোয়া লীগের সবচেয়ে জমজমাট আসর ধরা হয় ঢাকা প্রিমিয়ার লীগকে। একমাত্র এখানেই ক্লাব কর্মকর্তারা গাঁটের পয়সা খরচ করে দল গড়েন। বিশেষ প্রাপ্তির আশাও করেন। আর তাই প্রতিদ্বন্দ্বিতারও দেখা মিলে। যেখানে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট নিয়ে 'পিকনিক' হয়। 'হায়হুতোষ' হরহামেশা শোনা যায়। সেখানে ঢাকা লীগ সব সময়ই জৌলুস ছড়ায়। এখানে যে এগিয়ে যাওয়া, মান-সম্মান রৰা করার প্রতীজ্ঞাও থাকে। এই লীগের দিনৰণ এবারও পিছিয়ে গেল। যথারীতি ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্টোপলিস (সিসিডিএম) কর্মকর্তারা তাদের কথা এবারও রাখতে পারেননি। না পারার পিছনে প্রধান কারণ হচ্ছে ক্লাব কর্মকর্তাদের হসত্মৰেপ। সিসিডিএমের এক কর্মকর্তাই তা বললেন, 'ক্লাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেই লীগের দিনৰণ পেছানো হয়েছে।'
এজন্য প্রথম শ্রেণীর আসর জাতীয় ক্রিকেট লীগ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিতও করা হয়েছে। যেই আসরটি নিয়ে ক্রিকেটার ও জাতীয় দলের কোচেরও আৰেপ। টেস্ট ক্রিকেটে ভাল করার পূর্বশর্ত হচ্ছে প্রথম শ্রেণীর আসরে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা খেলা। কিন্তু সেই আসরেই নেই কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতা। আবার ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগ আয়োজন হবে বিধায় তা স্থগিতও হয়ে গেছে!
এমন সময় এই লীগ পেছানোর আরও অনেক কারণ বের হচ্ছে। যা সবাইকে অবাকও করছে। দেড় কোটি টাকা লীগের বাজেট। অথচ এখন পর্যনত্ম বাজেটই বরাদ্দ হয়নি। এক কোটি ২০ লাখ টাকার মতো খরচ হবে লীগে অংশগ্রহণ ফি আর প্রাইজমানিতেই। বাকি টাকা দিয়ে লীগ চালাতে হবে। এত টাকা আপাতত দৃষ্টিতে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডেরই (বিসিবি) খরচ। কারণ এখন পর্যনত্ম কোন স্পন্সর মিলেনি! আর লীগ পিছিয়ে যাওয়ার পিছনে এটিও মুখ্য কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। অবশ্য চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে যেন স্পন্সর পাওয়া যায়। দ্রম্নত তা সম্ভব হবে বলেও সিসিডিএম কর্মকর্তাদের আশা। স্পন্সর প্রতিষ্ঠান 'কুল এন্ড কুলে'র সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সেই আশা এখন পূরণ হয়ে লীগ পিছিয়ে যাওয়া সময়ে শুরম্ন হলেই হয়। সঙ্গে ফিকশ্চার চূড়ানত্ম যত দ্রম্নত হয় ততই ভাল। এমনই ধারণা ক্রিকেটমহলের ব্যক্তিবর্গের। লীগ শুরম্ন হলেও প্রথম পর্ব শেষ হতেই ফেব্রম্নয়ারির প্রথম সপ্তাহ লাগবে। এরপর ১০ ফেব্রম্নয়ারি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) শুরম্ন হবে। আর তাই ঢাকা লীগের সুপারলীগ শুরম্ন হবে ২৯ ফেব্রম্নয়ারি বিপিএল শেষ হওয়ার পর। এখানেও আবার ঢাকা লীগের জৌলুস হারানোরই ভয় আছে। কারণ ১২ মার্চ শুরম্ন হবে এশিয়া কাপ। সেই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে হবে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের। এরজন্য অনুশীলনও চালিয়ে যেতে হবে। ক্রিকেটারদের একসঙ্গে ক্যাম্পে থাকতে হবে। এই টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি ঢাকা লীগের সুপারলীগ খেলেই জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা নিতে পারবে ঠিক। তবে লীগ কতো দ্রম্নত শেষ করা যাবে সেটির ওপর নির্ভর করছে সব।
সুপার লীগের কয়েকটি ম্যাচ আবার বেসরকারী একটি চ্যানেলে দেখানোর সম্ভাবনাও উজ্জ্বল। এশিয়া কাপের পর জাতীয় দলের পাকিসত্মান সফর রয়েছে। সেই সফরে টেস্ট খেলাও আছে। ২২ মার্চ এশিয়া কাপ শেষ হতেই জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের এপ্রিলে পাকিসত্মানের বিরম্নদ্ধে সিরিজ খেলার জন্য আবার প্রস্তুতি নেয়া শুরম্ন করে দিতে হবে। পাকিসত্মান সফরের আগেই ঢাকা লীগ এবং জাতীয় ক্রিকেট লীগের বাকি থাকা দুটি রাউন্ড শেষ করার আশা কর্মকর্তাদের। তবে শেষ পর্যনত্ম তা হয় কিনা সেটিই দেখার বিষয়। জাতীয় ক্রিকেট লীগ নিয়ে কর্মকর্তাদের ব্যর্থতা সবার নজরে দিনের পর দিন ধরা পরছে। এবার ঢাকা লীগ নিয়েও সেই ব্যর্থতার গোলকধাঁধায় আটকা পড়বে কর্মকর্তারা? সেই প্রশ্নের উত্তর সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই মিলে যাবে।