মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ১০ অক্টোবর ২০১১, ২৫ আশ্বিন ১৪১৮
ঝড়ো সেঞ্চুরি, ফতুল্লা মাতালেন স্যামুয়েলস
আবারও হার বিসিবি একাদশের
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ টি২০ ক্রিকেট মানেই ধুন্ধুমার ব্যাটিং। বোলারদের অসহায় আত্মসমর্পণ। দর্শকরা এসে মাতেন সেই মারমুখী ব্যাটিং দেখেই। মঙ্গলবার বিসিবি একাদশের বিরুদ্ধে ওয়েস্ট ইন্ডিজের টি২০ প্রস্তুতি ম্যাচে সেই দর্শকদের মাতিয়ে তুললেন মারলন স্যামুয়েলস। তার ব্যাটিং তা-বে অসহায় বিসিবি একাদশের বোলাররা। নয়নাভিরাম ব্যাটিংয়ে স্যামুয়েলস অপরাজিত থেকেছেন ১০২ রান করে। বল খরচ করেছেন মাত্র ৫৮টি। তার এই ব্যাটিং ঝলকে বিসিবি একাদশ আবারও হেরেছে। এবার ৭৫ রানে হেরেছে স্বাগতিকরা। ১৯৫ রান করেই জয়ের আভাস দিয়েছিল সফরকারীরা। অপেক্ষা ছিল হারার ব্যবধান কত কমে সেটিতে। কিন্তু ১২০ রানের বেশি করতে পারেনি বিসিবি একাদশ। খেলা শুরু হওয়ার কথা ছিল দুপুর একটায়। কিন্তু বৃষ্টির বাধায় সোয়া দুইটায় শুরু হয় খেলা। টস জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং যথারীতি ব্যাটিং প্র্যাকটিস সারতে আগেই ব্যাটিং করে। স্যামুয়েলসও শুরু থেকেই ব্যাটিং তা-ব দেখাতে থাকেন। ৭ রানে ওপেনার আদ্রিয়ান ব্যারাথকে আউট করা গেলেও এক স্যামুয়েলসকেই পরে আটকানো যায়নি। আরেক ওপেনার ল্যান্ডল সিমন্স দলীয় ৫১ রানে ১২ রান করে আউট হন। এরপর রাসেল এসে স্যামুয়েলসের সঙ্গে বড় জুটি গড়েন। ১৫৩ রানে রাসেল আউট হওয়ার আগে ৩ চার ও ৩ ছক্কায় করে যান ৫৮ রান। জুটি গড়েন ১০২ রানের।
এই আউটগুলোর দিকেও কারও দৃষ্টি পড়েনি। স্যামুয়েলস ব্যাটিংয়ে আসলেই যে ত্রাস সৃষ্টি করেছেন। ১৫টি চার ও ৪ ছক্কায় এত সুন্দর একটি ইনিংস সাজান। ফরহাদ রেজা, আলাউদ্দিন বাবু, কামরম্নল ইসলাম রাবি্বরা কিছুই করতে পারেননি। রানও তাই ১৭৫ হয়ে যায়। এ বিশাল রানের টার্গেটে খেলতে নেমে বিসিবি একাদশও মুখ থুবড়ে পড়ে। শাহরিয়ার নাফীস, রকিবুল হাসান, জুনায়েদ সিদ্দিকীদের ব্যাটিংয়েও ভাগ বসান স্যামুয়েলস। একাই নেন দুই উইকেট। ২০ ওভার সম্পূর্ণ খেলা গেছে। তবে কোন ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি অর্ধশতকও। শাহরিয়ার করেছেন সর্বোচ্চ ২৯ রান। ড্যারেন সামিও নিয়েছেন ২ উইকেট। আগের প্রস্তুতি ম্যাচে কেমার রোচ খেলেননি। খেলেননি দেবেন্দ্র বিশুও। এদিন খেললেন। রোচ কোন উইকেট নিতে পারেননি। বিশু এক উইকেট নিয়েছেন।
স্যামুয়েলস তার এই ইনিংসে ভীষণ খুশি। মঙ্গলবার সিরিজের একমাত্র টি২০ ম্যাচটির আগে এই ইনিংসই যে তার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে। তাই ম্যাচ শেষে অনর্গল বলেও গেলেন, 'ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে এই ইনিংস। অনেক ভাল ইনিংস খেলেছি। এই আত্মবিশ্বাস ওয়ানডে এবং টি২০ তে কাজে লাগবে। ভাল প্রস্তুতি হয়েছে। যে কোন পজিশনে, যে কোন পরিস্থিতিতে খেলতে প্রস্তুত আমি। ব্যাটিংয়ের পর বোলিংও অনেক ভাল হয়েছে।' আর বিসিবি একাদশের অধিনায়ক শাহরিয়ার নাফীস দল যে জিততে পারবে সেই সম্ভাবনার পথ দেখালেন, 'ওদেও বোলিং ডিপার্টমেন্ট ডিসিপিস্নন। তবে আশার বিষয় হলো, ভাল ব্যাটিং করতে পারি যদি তাহলে জেতা কঠিন হবে না। ফতুলস্নার উইকেটে ওদের বোলিং কাজে দিয়েছে। উইকেটের সুবিধা পেয়েছে ওরা। মিরপুরে আমরা আরও সাবলীল ব্যাটিং করতে পারব। দুইটা ম্যাচ খেলে মনে হলো ওরা টিম এ্যাফোর্টের ওপর নির্ভর করে। সবাই কন্ট্রিবিউট করতে চায়।'
সঙ্গে যোগ করলেন, 'দুইটা ম্যাচ দেখলেই বোঝা যাবে, কোন একজন ৫-৬টা করে উইকেট নিতে পারেনি। সবাই উইকেট পেয়েছে। ওরা হোমওয়ার্ক করে এসেছে সেভাবে খেলে যেতে চাচ্ছে। গত দুইটা ম্যাচে ওরা পাঁচ শতাংশ বলও পায়ে ফেলেনি। যথেষ্ট হোমওয়ার্কেই এটা হয়েছে। মিরপুরের উইকেট অনেক বেশি ব্যাটিং সহায়ক হয়। আমরা ভাল স্কোর করতে পারলে ম্যাচ জিতব। আমাদের হোম কন্ডিশনে খেলা, সেই সঙ্গে জাতীয় দল এবং এই দলের (বিসিবি একাদশ) বোলিং এ্যাটাক আকাশ-পাতাল পার্থক্য।'
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ॥ ১৯৫/৩; ২০ ওভার (স্যামুয়েলস ১০২*, রাসেল ৫৮; ফরহাদ ২/৩৭)।
বিসিবি একাদশ ॥ ১২০/৬; ২০ ওভার (শাহরিয়ার ২৯, রকিবুল ২০; স্যামুয়েলস ২/১৮, স্যামি ২/২৩)।
ফল ॥ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭৫ রানে জয়ী।