মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ১০ অক্টোবর ২০১১, ২৫ আশ্বিন ১৪১৮
দু'কূল হারিয়ে মানিকের ঠিকানা অবশেষে মুক্তিযোদ্ধায়!
মনিজা রহমান ॥ ভাগ্য তাঁকে নিয়ে বেশ মজার খেলায় নেমেছে। মানিক তুমি কার? আয়নায় নিজের মুখের দিকে তাকিয়ে হয়ত এই প্রশ্নটা করতে পারেন দেশসেরা এই কোচ। এই মৌসুমে পেশাদার লীগের দুটি শীর্ষ ক্লাব থেকে চাকরির প্রস্তাব ছিল শফিকুল ইসলাম মানিকের। কিন্তু সব কিছু উপেক্ষা করে পুরনো ডেরা ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং লিমিটেডে থাকতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ক্ষমতার রদবদলে সেখানে সময়টা অনুকূল নয় মানিকের। অন্তত কর্মকর্তাদের আচরণে সেটাই মনে হচ্ছে। ২ অক্টোবর পেশাদার লীগের দলবদলের দ্বিতীয় দিনে মোহামেডান ক্লাবের খেলোয়াড়-কর্মকর্তারা সবাই এলেও অনুপস্থিত ছিলেন শুধু কোচ মানিক। এমনিতে তিনি সামাজিক যে কোন অনুষ্ঠানে সব সময়ই উপস্থিত থাকতে ভালবাসেন। ওই দিন সংবাদ সম্মেলনে মোহামেডান ক্লাবের কর্মকর্তারা আগামী মৌসুমে কোচ হিসেবে মানিক থাকবেন এমন কোন নিশ্চয়তা দিতে পারলেন না। শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের সঙ্গে পাকা কথা দিয়েও নীতিগত কারণে মোহামেডানে থাকতে চেয়েছিলেন এই কোচ। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তিনি অন্যরকম কিছু ভাবতে পারেন। কারণ মানিককে কোচের চাকরির প্রস্তাব দেয়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র এখনও তাদের আশা ছাড়েনি।
গত মৌসুমেই কোচ মানিককে পেতে আগ্রহী ছিল ইস্কাটনের এই ক্লাবটি। পরে আবার সুপার কাপ ফুটবল শুরুর আগে নতুন করে প্রসত্মাব দেয়া হয়। কিন্তু কোচের পৰ থেকে সেভাবে কোন আগ্রহ ছিল না। কিন্তু বর্তমান অবস্থাতে নতুন সিদ্ধানত্ম নিতে পারেন মানিক। মুক্তিযোদ্ধায় এর আগে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর আছে। অফিসিয়াল ক্লাব হিসেবে পরিচিত মুক্তিযোদ্ধায় অবশ্য পুরনো ফুটবল কর্মকর্তাদের কেউ সেভাবে নেই। আছেন শুধু ম্যানেজার আবদুস সাত্তার, না থাকার মতো। নতুন দায়িত্ব নিয়ে কোন মনত্মব্য করতে রাজি হননি মানিক। গতকাল তিনি এ নিয়ে বললেন, 'আগে মোহামেডান ক্লাব কর্তৃপৰ কী বলে সেটা শুনি... তারপর সিদ্ধানত্ম নেব। পুরো বিষয়টা আমি ওনাদের ওপর ছেড়ে দিয়েছি। তারা যদি সিদ্ধানত্ম নেয় আমাকে রাখবে না, তবে সেটা আনুষ্ঠানিকভাবে জানাক। কেন রাখবে না, এই নিয়ে ব্যাখ্যাও দিতে হবে।' লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে মোহামেডানের কোন স্থায়ী সদস্য পেইড পোস্টে থাকতে পারবে না বলে নিয়ম আছে, সেটা জানানো হলো মানিককে। তিনি উত্তরে মনত্মব্য করলেন, 'এটা কোন সমস্যা বলে আমার মনে হয় না।' চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক দিয়ে কোচ মানিককে নিতে চেয়েছিল শেখ জামাল। কথাবার্তা প্রায় সব পাকা। শুধু কাগজ-কলমে স্বাৰর বাকি ছিল। কিন্তু মোহামেডানের নতুন মৌসুমের ফুটবলারদের অনুরোধে শেষ পর্যনত্ম সেই চুক্তিতে স্বাৰর করা হয়নি মানিকের। এ নিয়ে আলোচিত কোচ বললেন, 'নীতিগত কারণে আমি তখন মোহামেডানে থাকার সিদ্ধানত্ম নেই। আমি চলতি মৌসুমে দল গঠন করেছি। আমার কথায় অনেক ছেলেরা আগের ক্লাব ছেড়ে দিয়ে এসেছে। এখন কেন আমি তাদের ছেড়ে যাব? অর্থের কারণে? বিষয়টা আমার কাছে সঠিক মনে হয়নি বলেই সাদা-কালো শিবিরে থেকে যাওয়ার সিদ্ধানত্ম নেই। তবে মোহামেডান ক্লাব কর্তৃপৰ যদি এই ধরনের আচরণ তখন করত, তবে অবশ্যই আমি শেখ জামালে যাওয়ার ব্যাপারে দ্বিতীয় কোন চিনত্মা করতাম না।' মানিক শেখ জামালকে না করার পরে তারা প্রধান কোচ ও সহকারী কোচ হিসেবে যথাক্রমে সাইফুল বারী টিটু ও জুয়েল রানাকে দায়িত্ব দিয়েছে। নতুন কোচের অধীনে প্রশিৰণও শুরম্ন করে দিয়েছে ধানম-ি ক্লাবটি।
এখন মোহামেডান যদি না করে তবে কী হবে? ক্লাবের নতুন সভাপতি ওবায়দুল করিম ইতোমধ্যে এক সাৰাতকারে বিদেশী কোচ আনার ঘোষণা দিয়েছেন। দুই কুল হারিয়ে মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে কি আবার আলাপ শুরম্ন করবেন মানিক? এ নিয়ে মানিকের বক্তব্য, 'গত বছর যখন চুক্তি হয়েছিল, তখন তাতে নবায়নযোগ্য লেখা ছিল। আমি এবার মোহামেডানের কাছে আগের বছরের তুলনায় পারিশ্রমিক বৃদ্ধির জন্য বলেছি। আমার জুনিয়র কোচরা যে টাকা নেন, আমি কেন তাদের চেয়ে কম নেব? মোহামেডানের জন্য এত বড় স্বার্থত্যাগ কেন করব? এই ভাবনা থেকে শেখ জামালে যাওয়ার কথা ভেবেছিলাম। কুতুবউদ্দিন আহমেদ, সালাম মুর্শেদী, বাদল রায়ের কথাতে আমি মোহামেডানে থেকে গেছি। এখন তাদের কথা বলা উচিত নতুন কমিটির সঙ্গে।' মোহামেডানের তুলনায় এবার দল হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা অনেক বেশি শক্তিশালী। জাতীয় দলের একাধিক ফুটবলারদের নিয়ে গড়া এই ক্লাবটির এবার পেশাদার লীগে শিরোপা জয়ের উজ্জ্বল সম্ভাবনা আছে। শেখ জামাল ক্লাব থেকে এই মৌসুমে মুক্তিযোদ্ধায় আসা জাহিদ হাসান এমিলি, মামুনুল ইসলাম, রেজাউল রেজা, আরিফুল ইসলাম ও শাকিল আহমেদ এবং শেখ রাসেল থেকে আসা গোলরৰক মামুন খান প্রত্যেকেই জাতীয় দলের প্রথম একাদশের ফুটবলার। ক্লাবের দুই প্রধান স্ট্রাইকার এমিলি ও মিঠুন চৌধুরীর ওপর ঘরোয়া ফুটবলে ৫ ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা জারি হলেও সেটা ফেডারেশন কাপেই শেষ হয়ে যাবে বলে আশা করা যায়।