মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ২৫ জুলাই ২০১১, ১০ শ্রাবণ ১৪১৮
লেবানন থেকে লজ্জার মালা নিয়ে ফিরছেন আজ বিপ্লবরা
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ এক হালি গোলের লজ্জা নিয়ে আজ বিকেল সাড়ে পাঁচটায় দেশে ফিরবে বাংলাদেশ ফুটবল দল। আগামীকাল ভোর সাড়ে পাঁচটায় ঢাকায় পা রাখবে প্রতিপক্ষ লেবানন ফুটবল দল। বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডে হোম ম্যাচে বাংলাদেশ আগামী বৃহস্পতিবার ২৮ জুলাই মোকাবেলা করবে লেবাননকে। এশিয়ার সেরা ২০ দেশের একটি হবার স্বপ্নযাত্রায় যাত্রী হতে হলে এই ম্যাচে বাংলাদেশকে কমপক্ষে ৫ গোলের ব্যবধানে জিততে হবে। ৪ গোলের ব্যবধানে জিততে পারলে ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়াবে। তবে এসব আলোচনা নিছক তামাসা মাত্র। যে দল ৪ গোল হজম করে আসে বিনা প্রতিরোধে, তাদের পৰে এত বড় ব্যবধানে জেতা আকাশকুসুম কল্পনা ছাড়া কিছু নয়। গত শনিবার লেবাননের বিরম্নদ্ধে প্রথম ম্যাচ নিয়ে পুরো জাতির আশা-আকাঙ্ৰার অনত্ম ছিল না। সবাই প্রত্যাশা করেছিল, বাংলাদেশ এ খেলাতে জিততে না পারম্নক অনত্মত ড্র করে ফিরবে। হারলেও তাতে একটা সম্মানজনক ফল থাকবে। কিন্তু এভাবে এক হালি গোলের লজ্জা তাদের সইতে হবে কে ভেবেছিল? বাংলাদেশ দলের সঙ্গে কোন ফুটবলার কিংবা কোচ, ম্যানেজার, মিডিয়া ম্যানেজার এবং জাতীয় দল ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান-সদস্য কারও সঙ্গে ঢাকা থেকে টেলিফোনে যোগাযোগ করা যায়নি। তাই এভাবে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের প্রকৃত কারণ বের করা সম্ভব হয়নি। এমন হতে পারে লেবাননকে যত সহজ প্রতিপৰ ভাবা হয়েছিল, তারা সে রকম নয়। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে থাকা লেবানন গত দুই বছর ধরে কোন আনত্মর্জাতিক ম্যাচ খেলে না। তাছাড়া পশ্চিম এশিয়ার এই দেশটিকে খেলতে হয় কঠিন প্রতিপৰের বিরম্নদ্ধে। যে কারণে সেভাবে তাদের শক্তিমত্তা যাচাই করা কঠিন। লেবানন দলে একজন জার্মানিতে ও একজন চীনের লীগে অংশ নেয়া ফুটবলার ছিলেন। নিজেদের মাঠ, দর্শক সমর্থন সব মিলে তারা এগিয়ে ছিল সব দিক থেকে। ওদিকে বাংলাদেশ খেলেছে তাদের এক নম্বর গোলরৰককে ছাড়াই। কি কারণে অধিনায়ক কাম গোলরৰক বিপস্নব ভট্টাচার্যকে প্রথম একাদশ থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে তার কারণ জানা যায়নি। পাকিসত্মানের বিরম্নদ্ধে প্রাক বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডের দুই ম্যাচে তিনি দারম্নণ খেলেন। জাতীয় দলের মেসিডোনিয়ান কোচ নিকোলা ইলিয়েভস্কি যদি সুপার কাপের পারফরমেন্স বিশেস্নষণ করেন, সেখানেও বিপস্নব এগিয়ে। কারণ প্রধানত তাঁর দুর্দানত্ম নৈপুণ্যের কারণে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র হারিয়ে দেয় শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রকে। অথচ পরাজিত ক্লাবের গোলরৰক মামুন খানকে লেবাননের বিরম্নদ্ধে খেলান কোচ। মামুনের চেয়েও সিনিয়র একজন গোলরৰক ছিলেন দলে। তিনি ঢাকা আবাহনী জিয়াউর রহমান। বিপস্নবকে বাদ দিলে তাঁকে কেন বিবেচনা করা হলো না, বোঝা গেল না। মেসিডোনিয়ান কোচ এই ম্যাচে বাংলাদেশকে নতুন এক ফর্মেশনে খেলান। ৫-৩-২ পদ্ধতিতে হঠাৎ খেলার পরে ফুটবলাররা তাতে মানিয়ে নিতে পারেননি। প্রচুর ফাঁকা ছিল মাঠে। প্রতিপৰের ফুটবলাররা এই সুযোগে গোল দেয় বাংলাদেশের জালে। খেলা শেষে স্থানীয় মিডিয়াকে ইলিয়েভস্কি নাকি বলেছিলেন, বাংলাদেশের ফুটবলাররা ক্লানত্ম ছিল। কিন্তু দেশের ফুটবলে এত বড় এক সন্ধিৰণে ক্লানত্মি কোন অজুহাত হতে পারে না। লেবানীজদের বিরম্নদ্ধে শনিবার কামিলি কামোন স্টেডিয়ামে প্রথম মিনিটে সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। জাহিদের ক্রসে মোনায়েম খান রাজুর শট অল্পের জন্য সাইড বার ঘেঁষে চলে যায়। পরের ১৫ মিনিট বল সারাৰণ মাঝমাঠেই ছিল। ১৬ মিনিটে আহমেদ মাতুক হাসান এগিয়ে দেন লেবাননকে। ৫ মিটার দূরত্ব থেকে এই মিডফিল্ডারের শক্তিশালী শটে পরাসত্ম হন মামুন খান ১-০। এই গোলরৰক ২৩ ও ২৪ মিনিটে পর পর দুটি শট ঠেকিয়ে দেন আকরাম মোগরাবি ও জাকারিয়া ইয়াহিয়ার। কিন্তু ৩ মিনিট পরেই মাতুক হাসান কাউন্টার এ্যাটাক থেকে বল ধরে এগিয়ে যান। ওয়ালি ফয়সালকে ডজ দিয়ে ক্রস দিলে তাতে মাহমুদ আল আলী দলকে আবার এগিয়ে দেন ২-০।