মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ২৫ জুলাই ২০১১, ১০ শ্রাবণ ১৪১৮
নতুন রেকর্ড গড়ে স্বর্ণ জিতলেন রত্না
জাতীয় শূটিং, ক্যারিয়ার সেরা স্কোর করেও রৌপ্য তৃপ্তির
মনিজা রহমান ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন যেন সত্যি হয়ে দেখা দিল কাল গুলশান শূটিং কমপ্লেক্স। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাগুলোতে যেভাবে হয়, সেভাবে মনিটরে সরাসরি দেখানোর মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম বারের মতো আয়োজিত হলো মেয়েদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেল প্রতিযোগিতা। আবার পুরুষদের ৫০ মিটার প্রন রাইফেলে এই প্রথম শূট অফের আয়োজন করা হলো এদিন। মামলা আর আর্থিক সঙ্কটে জর্জরিত শূটিং ফেডারেশনের জন্য গতকালের দিনটা ছিল অন্যরকম। আগের দিন পুরুষদের এয়ার রাইফেলে ভাল স্কোর করতে পারেননি আবদুলস্নাহ হেল বাকী ও আসিফ হোসেন খান। তাদের ব্যর্থতা ভুলিয়ে দিল মেয়েরা। এয়ার রাইফেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন এমন পর্যায়ে কাকে দেখে কাকে রাখি এই অবস্থা। শারমিন আক্তার রত্না ২৫তম জাতীয় শূটিং প্রতিযোগিতাতে এসে গড়লেন নতুন রেকর্ড। বিকেএসপি শূটিং ক্লাবের তৃপ্তি দত্ত মূল প্রতিযোগিতাতে ৩৯৫ স্কোর করে রত্নার সঙ্গে যৌথভাবে প্রথম হলেও শূট অফে পিছিয়ে পড়ে হলেন দ্বিতীয়। তৃপ্তির জন্য তৃপ্তি এটাই যে, নিজের ক্যারিয়ার সেরা স্কোর করে পেছনে ফেলেছেন শারমিন আক্তার ও সৈয়দা সাদিয়া সুলতানার মতো দেশসেরা শূটারদের।
এয়ার রাইফেল এতদিন মূল ইভেন্ট ছিল না সুদর্শনা তৃপ্তির। মূলত তাঁকে প্রন ও থ্রি পজিশনের খেলোয়াড় হিসেবে জানত সবাই। কিন্তু থ্রি পজিশনে ভাল মানের কোচ না পাওয়ায় এবং প্রনে উপযুক্ত সঙ্গীর অভাবে এয়ার রাইফেলের দিকে ঝুঁকে পড়ে ময়মনসিংহের মেয়েটি। গতকাল মূল প্রতিযোগিতাতে রত্না ও তৃপ্তি উভয়ই ৩৯৫ স্কোর করে নতুন রেকর্ড গড়েন। মেয়েদের এয়ার রাইফেলে ২৫ প্রতিযোগীর মধ্যে শূট অফে ভাগ্যের লড়াইয়ে আরও সুযোগ পান_ রাজারবাগ রাইফেল ক্লাবের শারমিন, চট্টগ্রাম রাইফেল ক্লাবের সাদিয়া, নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবের সুরাইয়া, আর্মি শূটিং এ্যাসোসিয়েশনের আফসানা তৃণা, চট্টগ্রাম রাইফেল ক্লাবের ফারহানা বৃষ্টি ও নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবের আলো সরকার। বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে শুরম্ন হওয়া শূট অফের প্রথম শটে ১০.২ স্কোর করেন রত্না ও তৃপ্তি দুজনই। দ্বিতীয় শটে তৃপ্তি একই স্কোর করেন। কিন্তু রত্না করে বসেন ১০.৮। পরের শটে ১০.৯ অর্থাৎ সর্বোচ্চ স্কোর। এভাবে ক্রমে তিনি ছাড়িয়ে যান তৃপ্তিকে। ১০.২, ১০.৮. ১০.৯, ১০.২, ১০.৩, ১০.৯, ১০.০, ১০.৮, ১০.৭, ১০.৫ অর্থাৎ মোট ১০৫.৩ পয়েন্ট স্কোর করেন রত্না ফাইনাল শটে। সর্বমোট ৫০০.৩ স্কোর করে এসএ গেমস ও কমনওয়েলথ শূটিংয়ের স্বর্ণকন্যা প্রথম হবার পাশাপাশি ছাড়িয়ে যান নিজেকেও। এদেশের ইতিহাসে কখনও কোন মেয়ে ৫০০র ওপর স্কোর করতে পারেননি এয়ার রাইফেলে। নতুন জাতীয় রেকর্ডও গড়েন তিনি। ১৯৯৭ সালে নারায়ণগঞ্জের সুরাইয়া ৩৯৪ স্কোর করে সর্বশেষ জাতীয় রেকর্ড গড়েছিলেন। ২০০৯ সালে রত্না ক্যারিয়ারের প্রথম জাতীয় পর্যায়ে স্বর্ণালি সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি ছুঁয়ে দিয়েছিলেন সুরাইয়াকে। গতকাল তিনি ছাড়িয়ে গেলেন নিজেকেও। কিছুদিন আগে জার্মানিতে বিশ্বকাপ শূটিংয়ে ভরাডুবি হয়েছিল তাঁর। হঠাৎ এক মাসের কম ব্যবধানে এভাবে ঝলসে ওঠার কারণ কি? রত্নার উত্তর, 'আমার রাইফেলে কিছু সমস্যা হচ্ছিল। জার্মানিতে নিয়ে গিয়ে ওটা ঠিক করে আনার পরে এখন বেশ ভাল অবস্থা। তাছাড়া একই মানের কয়েকজন শূটার থাকাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল।'
বিষণ্ন মুখে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন তৃপ্তি। নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়ে ও রৌপ্য নিয়ে তৃপ্ত থাকতে হচ্ছে তাঁকে। শূট অফে তিনি ১০.২, ১০.২, ১০.৩, ১০.৩, ৯.৫, ১০.৩, ১০.৬, ১০.৫, ১০.২, ১০.৫ স্কোর করে ভাগ্যের কাছে হেরে যান। ৪৯৭.৬ স্কোর করে বিকেএসপির ইন্টারমিডিয়েট দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী তৃপ্তি রৌপ্য পান। ইসলামাবাদ সাফ গেমসে স্বর্ণজয়ী শারমিন ৪৯৪.২ স্কোর করে ব্রোঞ্জ জেতেন। এসএসসি পরীৰার কারণে ভাল স্কোর গড়তে পারেননি সাদিয়া। ৪৯২.৪ স্কোর করে চতুর্থ হন তিনি। ওদিকে দুঃখভরা চোখে নিজের রেকর্ড ভাঙ্গা দেখতে হয় সুরাইয়াকে। কম বয়সে বিয়ে ও দুই মেয়ের জন্ম সব মিলে অকালে হারিয়ে যাওয়া এই শূটার ৫ বছর পর ফিরে এসে পঞ্চম হয়েছেন। এয়ার রাইফেলের কোচ শোয়েবুজ্জামান খুশি মেয়েদের পারফরমেন্সে। কিন্তু ছেলেদের এ রকম হতাশাজনক স্কোরের কারণ কী? আগের দিন ৫৮৬ স্কোর করে বাকী প্রথম ও ৫৮৫ করে আসিফ দ্বিতীয় হয়েছেন। শোয়েবের ভাষ্য, 'এই দুই খেলোয়াড়ই খেলার মতো ফিট ছিলেন না। বাকী তো অসুস্থতা থেকে ফিরে অনুশীলন ছাড়াই খেলল। আসিফও কিছুদিন আগে জন্ডিস থেকে সেরে উঠেছে।'
২০১২ লন্ডন অলিম্পিক গেমসকে সামনে রেখে বাংলাদেশ অলিম্পিক এ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় ক্যাম্প শুরম্ন হয়েছে শূটারদের। বাংলাদেশের কতখানি সুযোগ আছে কোটা পেস্নসে লন্ডন গেমসে অংশ নেবার? রত্না কি পারবেন অসম্ভব কিছু করে ফেলতে। ২০১০ সালে কমনওয়েলথ শূটিংয়ে স্বর্ণজয়ী শূটার বলেছেন, 'মানসিকভাবে ভাল অবস্থাতে থাকতে হবে এজন্য। গত মাসে জার্মানিতে ভাল খেলতে পারিনি। এখন একটাই সুযোগ কাতারে এশিয়ান এয়ারগান চ্যাম্পিয়নশিপ। ওখানে যদি প্রথম থেকে তৃতীয় হতে পারি, তবে সুযোগ থাকবে লন্ডনে সরাসরি খেলার। কিন্তু সেটা সহজ হবে না।' জাতীয় শূটিংয়ে গতকাল পুরম্নষদের প্রন রাইফেলে তৌফিক শাহরিয়ার চন্দন ৫৮৯ স্কোর করে প্রথম হয়েছেন। এটা তাঁর ক্যারিয়ার সেরা স্কোর। ১৯৯৭ সালে নাসিরম্নদ্দিন জনির গড়া ৫৯০ স্কোর অল্পের জন্য স্পর্শ করতে পারলেন না কুষ্টিয়া রাইফেল ক্লাবের শূটার চন্দন। ৫৮৬ স্কোর করে শূট অফে ভাল করলেও দ্বিতীয় স্থান নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় আর্মি শূটিংয়ের রমজান আলীকে। ৫৭৮ স্কোর করে গুলশান শূটিং ক্লাবের গোলাম সফিউদ্দিন শিপলু ব্রোঞ্জ পান। চতুর্থ থেকে অষ্টম সব পজিশন ছিল আর্মি শূটিং এ্যাসোসিয়েশনের দখলে। আনোয়ার, জুবায়ের, মালিক, আসাদুজ্জামান ও নুরম্নজ্জামান যথাক্রমে এই পজিশনগুলো দখল করেন।