মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ২৫ জুলাই ২০১১, ১০ শ্রাবণ ১৪১৮
লর্ডসে দ্রাবিড়ের সেঞ্চুরিতে রক্ষা ভারতের
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ এক মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নিলেন 'দ্য ওয়াল'খ্যাত ভারতীয় ব্যাটসম্যান রাহুল দ্রাবিড়। কিংস্টনে গত ২০ জুন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে হাঁকিয়ে ছিলেন আগের শতকটি। তার চেয়েও বড় কথা লর্ডসের ঐতিহাসিক ২০০০তম ম্যাচে তার অপরাজিত ১০৩ রানের ওপর ভর করেই ফলোঅন এড়িয়েছে সফরকারীরা। চরম বিপদের মুখে দ্রাবিড়ই যে নম্বর ওয়ানদের বড় ত্রাতা_ সেটি প্রমাণ হলো আবারও। প্রথম ইনিংসে ইংলিশদের ৪৭৪ রানের জবাবে তার দায়িত্বশীল সেঞ্চুরির ওপর ভর করেই ২৮৬তে পেঁৗছাতে পেরেছে ভারত। ওপেনার গাম্ভীর মাত্র ১৫ রানে সাজঘরে ফিরে যাওয়ার পর নেমে এক প্রানত্ম আগলে রেখে নিজেদের বিশ্বসেরা ব্যাটিং তকমার সম্মান বাঁচিয়েছেন এ বর্ষীয়ান হিরো। দ্রাবিড় ছাড়া সেঞ্চুরি তো দূরের কথা, নূ্যনতম একটি হাফ সেঞ্চুরিও আসেনি আর কারও ব্যাট থেকে। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ০ রানে ইশান্ত শর্মা যখন ফিরে যান দ্রাবিড় তখনও অনড় অবিচল নিজের প্রানত্মে। এটি ছিল রাহুল দ্রাবিড়ের ব্যক্তিগত ৩৩তম সেঞ্চুরি। ক্রিকেট মক্কা লর্ডসে সেঞ্চুরি মানেই বিশেষ কিছু; অনার্স বোর্ডে নাম লিখিয়ে ইতিহাসের পাতায় অমর হবার সুযোগ। দীর্ঘ প্রায় ষোলো বছরের ক্যারিয়ারে সেঞ্চুরির পর সেঞ্চুরি হাঁকালেও মাস্টার বস্নাস্টার শচীনর মতো 'দ্য ওয়াল' দ্রাবিড়েরও এতদিন ক্রিকেট তীর্থ লর্ডসে ছিল না কোন সেঞ্চুরি। অথচ মহান এ কৃতিত্ব গড়ার সুযোগ এসেছিল ক্যারিয়ারের শুরম্নর ম্যাচেই। ১৯৯৬ সালের ২০ জুন ইংল্যান্ডের বিরম্নদ্ধে সে টেস্টে সতীর্থ সৌরভ গাঙ্গুলীর সঙ্গে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল দ্রাবিড়ের। মাত্র পাঁচ রানের জন্য গাঙ্গুলীর মতো লর্ডস অভিষেককে স্মরণীয় করে রাখতে পারেননি তিনি। যদিও এরপর লর্ডসে আরও চারটি ইনিংস খেলেছেন। একটি মাত্র অর্ধশতক ছাড়া উলেস্নখ করার মতো কিছুই করতে পারেননি। কিন্তু গতকাল ঠিকই পারলেন। ১৫ বছর আগের অপূর্ণতা ঠিকই ঘুচিয়ে নাম লেখালেন অনার্স বোর্ডে। ২২০ বলে ১৫টি চারের সাহায্যে করলেন ১০৩ রান।
অতি গুরম্নত্বপূর্ণ এ সেঞ্চুরি করে টেস্ট ক্রিকেটে ব্যক্তিগত কয়েকটি মাইল ফলকে পেঁৗছে গেছেন দ্রাবিড়। সাবেক অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক রিকি পন্টিংকে টপকে রান সংগ্রহের কাতারে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে পেঁৗছে গেছেন তিনি। ১৫৪ ম্যাচের ক্যারিয়ারে (লর্ডসের প্রথম ইনিংস পর্যনত্ম) ৫২.৪০ গড়ে তার সংগৃহীত মোট রান ১২৪১৭। ১৪৭২৬ রান করে সবার ওপরে আছেন তারই সতীর্থ ব্যাটিং জিনিয়াস শচীন টেন্ডুলকর। আর ১২৩৬৩ রান নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে পন্টিং। টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরিয়ানের তালিকাতেও এক ধাপ ওপরে উঠে এসেছেন রাহুল। ৩৩ সেঞ্চুরি নিয়ে তালিকার ৬ নম্বরে তিনি। ৫১টি সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে এখানেও সবার ওপরে রয়েছেন শচীন। ৩৪টি করে সেঞ্চুরি নিয়ে তার আগের দুটি অবস্থানে আছেন যথাক্রমে সাবেক হয়ে যাওয়া সুনীল গাভাস্কার ও ব্রায়ান লারা। সেই হিসেবে বর্তমানে খেলা চালিয়ে যাওয়াদের মাঝে ৪ নম্বরে থাকছে দ্রাবিড়ের নাম। মাঝের দুটি যথাক্রমে দৰিণ আফ্রিকান তারকা জ্যাক ক্যালিস (৪০) ও রিকি পন্টিংয়ের (৩৯)।
টেস্টে রাহুল দ্রাবিড়ের তুলনা যে কেবল তিনি নিজেই, ভারতের গত কয়েকটি টেস্টের দিকে তাকালেও সেটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সিনিয়রদের অনুপস্থিতিতে সদ্যসমাপ্ত ক্যারিবীয় সফরে একাই টেনে তুলেছেন দলকে। তিন টেস্টের সিরিজে ব্যাট হাতে বলতে গেলে একাই জিতিয়েছেন ভারতকে। কিংস্টনের প্রথম টেস্টে দুই ইনিংসে করেছিলেন যথাক্রমে ৪০ ও ১১২। এরপর ব্রিজটাউনের দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ম্যাচ বাঁচানো ৫৫। তৃতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে আবার অপরাজিত ৩৪। যেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে ইংল্যান্ড, ডমিনিকা থেকে লন্ডন! দলের ভরাডুবি ঠেকানোর পরও আনন্দের আতিশয্য এতটুকুও স্পর্শ করেনি বরাবরই প্রচারবিমুখ ভারতীয় ব্যাটিংয়ের অন্যতম সত্মম্ভ দ্রাবিড়কে। ক্রিকইনফোকে যেমনটি বলেন, 'নিজেকে প্রমাণ করার নীতিতে বিশ্বাসী নই। যখন খেলি দল এবং দেশের জন্য খেলি। কঠিন পরিস্থিতিতে প্রথম ইনিংসে অবদান রাখতে পেরে সন্তুষ্ট আমি।' সন্তুষ্ট হলেও এখানেই থেমে থাকতে হয়। ম্যাচ জিততে এখনও নিজেদের প্রবল সম্ভাবনার কথা উলেস্নখ করে বলেন, 'প্রথম ইনিংসে প্রত্যাশিত ব্যাটিং করতে পরিনি আমরা। তবে দ্বিতীয় ইনিংসেই এ সমস্যা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। সেটি সম্ভব বলেও বিশ্বাস করি।' এক মাসের ব্যবধানে দুটি গুরম্নত্বপূর্ণ সেঞ্চুরি কিংস্টন এবং লর্ডস; কোন্টিকে এগিয়ে রাখবেন_ এমন এক প্রশ্নের উত্তরে অত্যনত্ম বিনয়ী ও দার্শনিক স্বভাবেন দ্রাবিড় বলেন, 'কিংস্টনে একঝাঁক তরম্নণদের নিয়ে ম্যাচ বের করাটা ছিল সত্যিই কঠিন, উইকেটও সহজ ছিল না। অবস্থার প্রেৰাপটে ওই সেঞ্চুরিটি ছিল খুবই খুবই গুরম্নত্বপূর্ণ। আর লর্ডস টেস্ট চলমান, এখানে অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে...।'