মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ২৫ জুলাই ২০১১, ১০ শ্রাবণ ১৪১৮
আজীবন নিষিদ্ধ হাম্মাম, ফুটবল বিশ্বে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
১০৭ বছরের ইতিহাসে প্রথম নজির, ক্ষুব্ধ কাতার
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) প্রধান মোহাম্মদ বিন হাম্মামকে সকল প্রকার ফুটবল কর্মকাণ্ড থেকে আজীবন নিষিদ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার ও শনিবার এ দু'দিন ধরে চলা শুনানি শেষে তার ওপর এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল ফিফার নীতিনির্ধারক কমিটি। আর এর ফলে ফিফা প্রতিষ্ঠার ১০৭ বছরের ইতিহাসে দুর্নীতির অভিযোগে উচ্চ পদের কর্মকর্তা হিসেবে দুর্নীতির অভিযোগে শাসত্মি পাবার প্রথম নজির সৃষ্টি হলো। উলেস্নখ্য, গত ১ জুন ফিফার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সেপ বস্নাটারের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মনোনয়ন নেন হাম্মাম। তার বিরম্নদ্ধে অভিযোগ ওঠে তিনি ৪০ হাজার মার্কিন ডলার ঘুষের বিনিময়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ফুটবল ইউনিয়ন কর্মকর্তাদের সমর্থন লাভের চেষ্টা করেন। এ বছর মে মাসে তিনি ত্রিনিদাদে অনুষ্ঠিত ক্যারিবীয় ফুটবল ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনার প্রাক্কালে এ অর্থ আদান প্রদান করেন বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন নীতিনির্ধারক কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান পেত্রাস দামাসেব। এর পরই ৬২ বছর বয়েসী হাম্মামকে গত ২৯ মে সকল প্রকার ফুটবল কর্মকা- থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ এবং ফিফার নির্বাহী পরিষদের সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর গত দু'দিন ধরে চলা শুনানি শেষে তাকে দোষী সাব্যসত্ম করে এ নিষেধাজ্ঞা প্রদান করল ফিফার নীতিনির্ধারক কমিটি। হাম্মামের ঘুষ আদান-প্রদানের বিষয়ে সহযোগিতার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ক্যারিবীয় ফুটবল ইউনিয়নের দু'কর্মকর্তা ডেবি মিনগুয়েল ও জ্যাসন সিলভেস্টারকে ১ বছর করে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে। তবে দামাসেব বলেছেন, 'এ শাসত্মির প্রেৰিতে দোষী ব্যক্তিদের পরবর্তী আপীলের সকল পথ খোলা রয়েছে এবং আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা নিয়েও তদনত্ম চলবে।' অপরদিকে এ রায়ের ব্যাপারে তাৎৰণিকভাবে হাম্মামের কোন মনত্মব্য না পাওয়া গেলেও তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন হাম্মাম এ রায়কে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং অবশ্যই এ রায়ের বিরম্নদ্ধে আপীল করবেন। আইনজীবীদের একজন ইউজিন গাল্যান্ড বলেন, 'ফিফা এথিকস কমিটি আইনগত ধারা অনুযায়ী এ রায়ের বিরম্নদ্ধে লড়াইয়ের যে পথ খোলা রেখেছে হাম্মাম সে পথেই এগোবেন। তিনি ফিফার সকল পদৰেপকেই নির্দ্ধিধায় মেনে নিয়েছেন।'
তবে শুনানি যেভাবে হয়েছে আর তাতে যে প্রমাণাদি উপস্থাপন করা হয়েছে তাতে চরম অসনত্মোষ প্রকাশ করেছেন গুল্যান্ড। তিনি অভিযোগ করেন, 'ফিফা এথিকস কমিটি মনগড়া কিছু প্রমাণাদির প্রেৰিতে এ রায় দিয়েছে যা এ মামলাটিকে অমূলক ও ভিত্তিহীন প্রমাণ করেছে। এ ছাড়া আমরা খেয়াল করেছি ফিফার কিছু কর্মকর্তা রীতিমতো মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন।' এখন হাম্মাম এ রায়ের বিরম্নদ্ধে ফিফার নিজস্ব আপীল কমিটির কাছেই নতুন করে আপীল করতে পারেন। তবে সেখানেও মামলায় হেরে গেলে খেলাধুলা বিষয়ক সালিশ-নিষ্পত্তি আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন হাম্মাম। তবে রায়ের পরিপূর্ণ প্রতিবেদন এথিকস কমিটি প্রদান করবে আরও প্রায় ৭ দিন পর। এর পরই তিনি প্রয়োজনীয় পদৰেপ নিতে পারবেন।
কাতারের অধিবাসী বিন হাম্মাম ১৯৯৬ সাল থেকে ফিফার নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং ২০০২ থেকে এএফসির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তবে অভিযুক্ত হওয়ার পর ফিফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র ৩ দিন আগে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন তিনি। এ রায়ের পর কাতারের গণমাধ্যমগুলো হাম্মামের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া কাতারের অধিবাসীরাও হয়েছে চরম ৰুব্ধ। তাদের দাবি এ রায়ের পরও এএফসি প্রেসিডেন্ট হিসেবে হাম্মামের মর্যাদা ও সম্মান অৰুণ্ন থাকবে। দোহায় আল-জাজিরা স্পোর্টস চ্যানেলের লজিস্টিকস প্রধান মোহাম্মদ জোহার বলেছেন, 'এটা শুধুমাত্র হাম্মামের জন্যই নয় বরং কাতারের সকল অধিবাসীর জন্য দুঃখজনক একটা ঘটনা। আমি তার সঙ্গেই বড় হয়েছি এবং আমি শুরম্ন থেকেই জানি তার বিরম্নদ্ধে আনীত অভিযোগ বানোয়াট। সে ফুটবলের জন্য যা করেছে তা শুধু কাতারে নয় বরং সমগ্র এশিয়ার গ-ি পেরিয়ে আফ্রিকাতেও তার সুফল ছড়িয়ে গেছে। তাই তাকে আজীবন নিষেধাজ্ঞা দেয়া মানে তাকে হত্যা করা।' কাতারের অধিবাসীরাও ফিফার এ রায়কে প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে কাতারজুড়ে অসনত্মোষ ছড়িয়ে পড়লেও এএফসির সাবেক জেনারেল সেক্রেটারি পিটার ভেলাপ্পন ফিফার এ রায়কে স্বগত জানিয়েছেন। তিনি হাম্মামকে আখ্যা দিয়েছেন 'দুর্নীতি ও ঘুষের স্থপতি' হিসেবে। তিনি এ রায়কে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রথম ধাপ এবং এটি ফুটবল ও ফিফার ভবিষ্যতের জন্য অত্যনত্ম ভাল বলে মনে করছেন। এ ছাড়াও ভেলাপ্পন কাতার ২০২২ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখার জন্য ফিফার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তবে জাপান ফুটবল এ্যাসোসিয়েশন প্রেসিডেন্ট জুনজি অগুরা ও চীন ফুটবল প্রধান ঝ্যাং জিলং এ রায়ে দুঃখ প্রকাশ করে তা এশিয়ার ফুটবলের জন্য দুর্যোগ বলে অভিহিত করেছেন। আর কোরিয়া ও ওসেনিয়া ফুটবল এ্যাসোসিয়েশন বিষয়টি আরও ভাল করে খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়েছে।