মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ৯ এপ্রিল ২০১১, ২৬ চৈত্র ১৪১৭
আইপিএল খেলতে না পারায় আফ্রিদির আফসোস!
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ক্রিকেট অর্থায়নের স্বর্গভূমি বলা হয় ভারতকে। গত কয়েক বছর ধরে এর নেতৃত্ব দিয়ে আসছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল)। গতকাল শুক্রবার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই সুপার কিংস ও কলকাতা নাইট রাইডার্সের উদ্বোধনী ম্যাচের মধ্য দিয়ে মাঠে গড়িয়েছে ৪র্থ আসরও। কাড়ি কাড়ি অর্থের ঝনঝনানি আর অসম্ভব জনপ্রিয় এ আসরে খেলতে না পেরে আপসোস প্রকাশ করেছেন পাকিসত্মানের ওয়ানডে অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদি। বিশ্বকাপের যৌথ সর্বাধিক উইকেট প্রাপ্ত এ অলরাউন্ডার গতকাল করাচীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন।
ভারত-পাকিসত্মানের পারস্পরিক সম্পর্ক কখনই তেমন সুখকর নয়। ২০০৯ সালে মুম্বাইয়ের তাজ হোটেলে সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে দু'দেশের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়। মূলত ওই ন্যক্কারজনক ঘটনার পর থেকেই পাকিসত্মানী ক্রিকেটারদের আইপিএল ভাগ্য রম্নদ্ধ হয়ে যায়। ২০০৮ সালে আইপিএলের যাত্রা শুরম্নর আসরে অংশ নিয়েছিল পাকিসত্মানের ১১ জন ক্রিকেটার। প্রথম আসরে শোয়েব আখতার, ওমর গুল, মোহাম্মাদ হাফিজ ও সালমান বাট কলকাতা নাইট রাইডার্সে, ইউনুস খান, সোহেল তানভির ও কামরান আকমল রাজস্থান রয়্যালসে, শোয়েব মালিক ও মোহাম্মদ আসিফ দিলস্নী ডেয়ারডেভিলসে এবং মিসবাহ-উল-হক খেলেন রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরম্নর হয়ে। কিন্তু দ্বিতীয় আসর থেকেই পাকিসত্মানের ক্রিকেটারদের আর আমন্ত্রণ জানায়নি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। এর মূল কারণ মুম্বাই হামলা ও দু'দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের অবনতি। ২০০৯ ও ২০১০ সালের পর এবার তৃতীয় বারের মতো জনপ্রিয় ও অর্থশালী ধুন্ধুমার এ টুর্নামেন্টে খেলতে পারছেন না পাকিসত্মানের ক্রিকেটাররা। ২০০৮ সালের পর পাকিসত্মান ভারতও সফর করেনি। কিন্তু মোহালিতে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ম্যাচ খেলে সে ধারার ব্যত্যয় ঘটিয়েছে শহিদ আফ্রিদির দল। এই ম্যাচটি খেলার পর থেকেই পাকিসত্মানের ক্রিকেটারদের আইপিএলে খেলতে না পারার আপসোস দানা বেধে উঠেছে! অনত্মত আফ্রিদির কথাতে সে সুরই প্রতিধ্বনিত হয়েছে।
গতকাল করাচীতে সংবাদ সম্মেলনে সুদর্শন এ তারকা বলেন, পাকিসত্মানী ক্রিকেটাদের এবার আইপিএলে খেলা উচিত ছিল। আমরা ভারতে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলেছি। আইপিএল খেলতে সমস্যা কোথায় সেটা আমরা বুঝতে পারছি না। ভারতে খেলতে আমাদের কোন সমস্যা নেই। এবারসহ তিনটি আসর পাকিসত্মানী ক্রিকেটাররা খেলতে পারল না। এটা অত্যনত্ম দুঃখজনক। পাক তারকা আরও বলেন, আইপিএল কর্তৃপৰের আচরণ দেখে মনে হয়, আমরা অস্পৃশ্য। কিন্তু এটা ভাবা তাদের ঠিক নয়। আমাদের আহ্বান রইল, তারা যেন আমাদের অস্পৃশ্য না ভাবে। বিশ্বকাপে পাকিসত্মানকে নেতৃত্ব দেয়া এ তারকা দেশের জনগণেরও আইপিএলে খেলতে না পারার আপসোসের কথা জানান, পাকিসত্মানের জনগণও প্রত্যাশা করে আমরা যেন আইপিএলে খেলি। কিন্তু বাসত্মবতা হচ্ছে, আমরা সেখানে নেই। এতে জনগণ খুব কষ্ট পেয়েছে। অবশ্য আফ্রিদি বলেছেন, এত কথার মানে এই নয় যে আমি আইপিএলে খেলতে চাই। তবে এটা সত্য, এই টুর্নামেন্ট তরম্নণদের পস্নাটফর্ম হিসেবে কাজ করে থাকে। এখানে খেলে তরম্নণ ক্রিকেটাররা নিজেদের গড়ে নেয়ার সুযোগ পায়।
অবশ্য আফ্রিদি উজ্জ্বল ভবিষ্যতই দেখছেন। তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও দেশটির শীর্ষ সরকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে পাশাপাশি বসে খেলা উপভোগ করেছেন পাকিসত্মানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানী। ভবিষ্যতে এ বিষয়টি দু'দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে পস্নাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। ক্রীড়াঙ্গনও এর সুফল ভোগ করবে।