মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ৯ এপ্রিল ২০১১, ২৬ চৈত্র ১৪১৭
কাল থেকে শুরু স্বাধীনতা কাপ ফুটবল
উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি শেখ জামাল-ফরাশগঞ্জ, অংশ নিচ্ছে ১২ দল, খেলা হবে বঙ্গবন্ধু ও কমলাপুর স্টেডিয়ামে, ফাইনাল ২৪ এপ্রিল
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ 'অনেকদিন পর আবারও আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি ফুটবল নিয়ে। এ জন্য নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। যে টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে, এর নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এদেশের অসত্মিত্ব।' সংবাদ সম্মেলনের শুরম্নতেই প্রারম্ভিক ভাষণে বললেন পেশাদার ফুটবল লীগ কমিটির সদস্য, মহানগর ফুটবল লীগ কমিটির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের অন্যতম সদস্য হারম্ননুর রশীদ। গতকাল বিকেলে ঢাকার মতিঝিলের বাফুফে ভবনে স্বাধীনতা কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ড্র ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন হারম্ননুর রশীদ। সম্মেলনে আগত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের বেশির ভাগেরই উত্তর দেন তিনি। আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় লীগ কমিটির সদস্য হাসানুজ্জামান খান বাবলু, বাফুফে সদস্য শেখ মোহাম্মদ আসলাম, সত্যজিত দাশ রূপু, পেশাদার ফুটবল লীগ কমিটির সদস্য আবু হাসান চৌধুরী প্রিন্স, ঢাকা মোহামেডানের ম্যানেজার আমিরম্নল ইসলাম বাবু ও সহকারী ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ নকীব ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের টিম ম্যানেজারসহ আরও অনেকে। এ ছাড়া অংশগ্রহণকারী দলগুলোর কোচ-কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। এই আসর শুরম্ন হচ্ছে ১০ এপ্রিল, শেষ হবে ২৪ এপ্রিল। চারটি গ্রম্নপে মোট ১২ দল অংশ নিচ্ছে (বাংলাদেশের লীগের সব দল)। ড্র অনুযায়ী গ্রম্নপ বিন্যাস হচ্ছে_ 'এ' গ্রম্নপে লেফট্যানেন্ট শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাব লিমিটেড, রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটি ও ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব; 'বি' গ্রম্নপে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র, ঢাকা মোহামেডান লিমিটেড ও চট্টগ্রাম আবাহনী লিমিটেড; 'সি' গ্রম্নপে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র, আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ ও সকার ক্লাব, ফেনী; 'ডি' গ্রম্নপে ঢাকা আবাহনী লিমিটেড, ব্রাদার্স ইউনিয়ন ও চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। ফিঙ্চার অনুযায়ী উদ্বোধনী খেলায় রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শেখ জামাল-ফরাশগঞ্জ ও সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় একই মাঠে ঢাকা আবাহনী-চট্টগ্রাম মোহামেডানের মধ্যে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। প্রতি গ্রম্নপ থেকে দু'টি করে মোট আটটি দল শেষ আটে_ অর্থাৎ কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে। কোয়ার্টারের শেষ দু'টি ম্যাচ হবে কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোসত্মফা কামাল স্টেডিয়ামে। চ্যাম্পিয়ন দল ৫ লাখ, রানার্সআপ দল ৩ লাখ ও অংশগ্রহণকারী সব দলই পাবে ২ লাখ টাকা করে। খেলা চলাকালীন টিকেটের হার উভয় গ্যালারি ২০ টাকা ও ভিআইপি ৩ নং গেট ৫০ টাকা করে ধার্য করা হয়েছে। সেমিফাইনাল পর্যায় থেকে বাংলাদেশ টেলিভিশনে খেলা দেখানো হবে আয়োজকরা জানান। তবে আপাতত কোন স্পন্সর পাওয়া না যাওয়ায় এ ফুটবল আসরটি অনুষ্ঠিত হবে ফুটবল ফেডারেশনের উদ্যোগেই। আসর শুরম্নর আগ পর্যনত্ম স্পন্সর সংগ্রহের চেষ্টা করা হবে বলে জানালেন হারম্ননুর রশীদ। মার্চে এ আসরটি অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিল, এত দেরির কারণ কি? 'বিশ্বকাপ ক্রিকেট, বাংলাদেশ লীগ ইত্যাদির কারণে আসরটি এক মাস দেরিতে শুরম্ন হচ্ছে।' বাংলাদেশ লীগের সব দলই এ আসরে খেলার কারণ কি? জানানো হয়, 'আসলে আমাদের প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল ৮ দলকে নিয়ে আসরটি আয়োজন করার। কিন্তু বাকি ৪ দল বসে থাকবে। তারাও আবদার করে এ আসরে খেলার। তাই সব দলকেই সুযোগ দেয়া হয়েছে।' কোয়ার্টারের ম্যাচগুলো মাত্র দু'দিনে শেষ করার কারণ কি? তাছাড়া এত বেশি গ্রম্নপ করার কারণ কি? 'বাংলা নববর্ষ, এ্যাথলেটিঙ্ ও সাইক্লিং ফেডারেশনের অনুষ্ঠানের জন্য আমাদের দু'দিনের জন্য বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম ছেড়ে দিতে হবে, তাই দ্রম্নত আসর শেষ করার জন্য ৪ গ্রম্নপে দলগুলোকে বিন্যাস করে টুর্নামেন্ট শেষ করার জন্যই এটা করা হয়েছে।' উলেস্নখ্য, গতবারের ৮ দলের এ টুর্নামেন্টের ফাইনালে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র ২-০ গোলে ব্রাদার্সর্র্ ইউনিয়নকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। বিগত বছরগুলোতে বিভিন্ন জটিলতার কারণে এ আসরটি নিয়মিতভাবে আয়োজন করতে না পারায় আৰেপ ঝরল আয়োজকদের কণ্ঠে। এখন দেখার বিষয়, এবারের স্বাধীনতা কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে কোন্ দলের হাতে ওঠে বিজয়ের ট্রফি।