মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ৯ এপ্রিল ২০১১, ২৬ চৈত্র ১৪১৭
বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশের ঘোষণা ক্লার্কের
মনিজা রহমান ॥ শাকিব আল হাসান অম্মান বদনে স্বীকার করে নিলেন এই সিরিজে ০-৩ ব্যবধানে হারতে পারে বাংলাদেশ। জয়, পরাজয়, পাওয়ার পেস্ন, মাশরাফি এসব কিছু নিয়ে তিনি ভাবছেন না। শাকিবের ভাবনা একটাই_ বাংলাদেশকে ভাল ব্যাট করতে হবে। পুরো ৫০ ওভার খেলতে হবে। প্রতিপৰ দলের অধিনায়কের এমন লৰ্য থাকলে তো যে কেউ সহজে ঘোষণা দিতে পারে_ 'আমরা ৩-০ ব্যবধানে জিততে চাই সিরিজে।' হঁ্যা, ঠিক এই আওয়াজই তুললেন মাইকেল ক্লার্ক গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের সংবাদ সম্মেলন কৰে। অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ আজ প্রথম ম্যাচের আগের দিন নানা কথামালার মধ্যে দু'বার খুব হাসতে দেখা গেল অসি সেনাপতিকে। প্রথমবার হাসলেন ক্লার্কের হাতের ট্যাটু নিয়ে কথা ওঠায়। আর দ্বিতীয়বার হাসলেন, এই সিরিজে তার লৰ্যের কথা জানতে চাইলে। অনেকটা পরিহাসের স্বরে ক্লার্ক যেন বলতে চাইলেন, 'বাংলাদেশের বিরম্নদ্ধে তিন ম্যাচে সিরিজ আমরা ৩-০ ব্যবধানে জিততে চাই। এটা আবার জানতে চাওয়ার মতো একটা বিষয় হলো!'
গতকালের সংবাদ সম্মেলনে এক কোনায় তিনজন অস্ট্রেলিয়ান সাংবাদিককে এক জোট হয়ে বসে থাকতে দেখা গেল। এমনিতে আসন্ন সিরিজ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ান জনগণের খুব বেশি হেলদোল থাকার কথা নয়। তবে যুগের শুরম্ন বলেই হয়ত প্রচারের আলোটা একটু বেশি। রিকি পন্টিংয়ের দীর্ঘ ৯ বছরের সাম্রাজ্যের অবসানের পরে দলের অধিনায়ক নির্বাচিত হয়েছেন ক্লার্ক। এই সেই রিকি যার ঝুলিতে আছে সর্বাধিক টেস্ট জয়ের রেকর্ড আর দুই বিশ্বকাপের শিরোপা। কিন্তু টানা তিন বিশ্বকাপে জয়ী আর টানা চারবারের ফাইনালিস্ট অস্ট্রেলিয়া এবারের আসরে বিদায় নেয় কোয়ার্টার ফাইনাল পর্ব থেকে। টলে ওঠে পন্টিংয়ের পৃথিবী। নির্বাচকরা আস্থা রাখেন ক্লার্কের ওপর। দীর্ঘদিন ধরেই দলের সহঅধিনায়ক ছিলেন তিনি। তবে মূল অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়ে দারম্নণ খুশি ক্লার্ক গতকাল জানালেন, 'অবশ্যই আমি প্রচ- উচ্ছ্বসিত অধিনায়ক হতে পেরে। অত্যনত্ম চমৎকার অনুভূতি। বাংলাদেশে আসার পরে দলের প্রস্তুতি যথেষ্ট ভাল হয়েছে। একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাটসম্যানরা যথেষ্ট রান পেয়েছেন। বোলাররা উইকেট নিয়েছেন। মিরপুর স্টেডিয়ামের মাঠ, অন্যান্য সুযোগ সুবিধা খুবই ভাল। সব মিলে আমি খুব সন্তুষ্ট। এখন একটাই ভাবনা_ অধিনায়ক হিসেবে শুরম্নটা দারম্নণ করতে চাই।' ভেনু্যর পাশাপাশি প্রতিপৰ সম্পর্কেও প্রশংসা করলেন ক্লার্ক, 'বাংলাদেশ এই মুহূর্তে খুব ভাল ক্রিকেট খেলছে। গত দুই বছরে তাদের অনেক উন্নতি হয়েছে। বিশ্বকাপে প্রত্যাশামাফিক খেলতে না পারলেও কয়েক জনের খেলা নজর কেড়েছে। বাংলাদেশে যেমন কয়েকজন ব্যাটসম্যান আছেন, তেমন কয়েকজন ভাল বোলার রয়েছেন। বিশেষ করে মিরপুরের সেস্না উইকেটে খেলার মতো ভাল মানের স্পিনার আছে দলে।'
উপমহাদেশে দুই মাস খেলতে পারাটাই বড় পুঁজি অসিদের। এই সিরিজে সেটাকে কাজে লাগাতে চাইছেন। কিন্তু এই অঞ্চলের স্পিনিং উইকেটের উপযোগী বোলার দলে নেই। অস্ট্রেলিয়ার মূল ভরসা তাদের বিধ্বংসী পেসাররা। অস্ট্রেলিয়ার এক সাংবাদিক সেটা মনে করিয়ে দিতে ক্লার্ক বলে ওঠেন, 'এই কন্ডিশনে পেসাররা সাফল্য পাচ্ছে। তাই স্পিনার নিয়ে দুশ্চিনত্মার কিছু নেই। জ্যাভিয়ের ডোহার্থি আসতে পারেন লিড স্পিনার হিসেবে। বিশ্বকাপের সুযোগ না পেলেও প্রস্তুতি ম্যাচে হ্যাটট্রিক করা জন হ্যাস্টিংসেও ভরসা রাখবে দল। সব মিলে ব্যালান্সড একটি দল হবে।' স্পিনারের পাশাপাশি টপ অর্ডারও মাথাব্যথার কারণ হতে পারে অস্ট্রেলিয়ার। ভারত ও পাকিসত্মানের বিপৰে দুই পরাজয়ের নেপথ্যে ছিল প্রথম সারির ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিং ব্যর্থতা। বিষয়টা মাথায় রেখেই ক্লার্ক বলেছেন, 'মাত্র বিশ্বকাপ শেষ করে এই সিরিজ। সেখানকার ব্যর্থতা এখানে প্রভাব তো ফেলবেই। এটা ঠিক যে বিশ্বকাপের শেষ দুই ম্যাচে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা ভাল খেলেনি। তার পরও রিকি সেঞ্চুরি করেছেন। আশা করি আগামী ম্যাচগুলোতে ব্যাটসম্যানরা নিজেদের নামের সুবিচার করবেন।
অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের এমন অবাক করা সময় বহুদিন আসেনি। ১৫ বছরের মধ্যে এই প্রথম তারা ফাইনালে না খেলেই বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছে। তিন যুগ পরে অধিনায়ক পদত্যাগ করেও নতুন নেতৃত্বের খেলতে রাজি হয়েছেন। চার বছরের এবারই শীত মৌসুমে তাদের বসে কাটাতে হবে। আগামী আগস্টে শ্রীলঙ্কার বিরম্নদ্ধে সিরিজের আগে অসিদের সামনে কোন টু্যর নেই। তাই বাংলাদেশের বিরম্নদ্ধে এই সিরিজটি তাদের নিজেদের চেনার, জানার ও বোঝার। পাশাপাশি এও মনে রাখতে হবে অস্ট্রেলিয়ার মতো ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হতে পারাটা একটা বিশাল চ্যালেঞ্জ। যারা সাফল্য ছাড়া আর কিছু ভাবতে পারে না। পূর্ববর্তী গ্রেট অধিনায়করা অসামান্য সব সাফল্যের রেকর্ড গড়ে গেছেন। ক্লার্ক নিজে কতখানি আশাবাদী গ্রেট অধিনায়কদের একজন হতে? ক্লার্কও বুঝতে পেরেছেন এই সিরিজে সবাই দেখবে তাঁর নেতৃত্ব দেয়ার ৰমতা কতখানি! তাই তো বলেছেন, 'এটা ঠিক যে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক হওয়া একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। অধিনায়ক হিসেবে প্রথম সিরিজ সাফল্য দিয়ে শুরম্ন করতে চাই। বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়া ফিরে গিয়ে নিজেদের ভুলত্রম্নটি নিয়ে ভাবব। পরবর্তী পরিকল্পনা করব_ কিভাবে এগোনো সম্ভব তাই নিয়ে। কঠোর পরিশ্রম করতে হবে বর্তমান দলকে বিশ্ব মানে নিয়ে যাবার জন্য।' পন্টিং প্রসঙ্গে বলেছেন, 'রিকি অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর চেষ্টা করব। সব ব্যাপারে আমি ওনার উপদেশ নেব। আমাদের দু'জনের সম্পর্ক আগের মতোই খুব ভাল আছে।' ক্লার্ক যাই বলুন, তিনি নিশ্চয়ই মাঠে সব ব্যাপারে উপদেশ নিতে পন্টিংয়ের কাছে দৌড়ে যাবেন না। অধিনায়ক হিসেবে নিজের কারিশমাও দেখাতে হবে। সহঅধিনায়ক শেন ওয়াটসনকে পাশে পাবেন এই সময়।