মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১১, ২ পৌষ ১৪১৮
বাংলাদেশের চল্লিশ বছর
আবুল মাল আবদুল মুহিত
বিজয়ের চল্লিশ বছর উদযাপনকালে আমার মনে হয় যে, আমরা অনেক কণ্টকাকীর্ণ দীর্ঘপথ অতিক্রম করে এসেছি। এবং মোটামুটিভাবে আমরা আমাদের গতিশীলতা নিয়ে গর্ব করতে পারি। নিশ্চয়ই আমরা বর্তমানে যে অবস্থানে আছি তার চেয়ে অনেক ভাল অবস্থানে থাকতে পারতাম বা থাকা উচিত ছিল। আমরা কোরিয়ার মতো দেশ হতে পারতাম। কিন্তু আমাদের কয়েকটি বিষয় মনে রাখতে হবে। ঙ্ আমরা যাদের সঙ্গে যুদ্ধ করে বিজয় আহরণ করলাম তাদের সেনাবাহিনী ছিল অত্যনত্ম নিকৃষ্ট শ্রেণীর দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। তারা যুদ্ধের নিয়মকানুন মানত না, মানবাধিকার নিয়ে তাদের কোন . . .
মুক্তিযুদ্ধের ১৩ নম্বর সেক্টর
মুনতাসীর মামুন
১৩ নম্বর সেক্টর শুনলে মনে হবে, লেখক ভুল করেছেন। কারণ, মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর তো ১১টি। সুতরাং বাকি দুই সেক্টর কোত্থেকে এল? মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য ১১টি সেক্টর করা হয়েছিল। কিন্তু তা ছিল যুদ্ধের জন্য, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বা বর্ণনায় সব সময় এই ১১ সেক্টরের কথাই বলা হয়। কিন্তু, মুক্তিযুদ্ধ খালি যুদ্ধৰেত্রের যুদ্ধই ছিল না। ঐ যুদ্ধ পরিচালনার জন্য একটি সিভিল কর্তৃত্ব ছিল যার নাম বাংলাদেশ সরকার। যে সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ। সরকারের নানা বিভাগ ছিল যেখানে কর্মরত ছিলেন অনেকে। . . .
মুক্তিযুদ্ধের সেই নয় মাস আমার কাছে মনে হয় একটি মহাকাব্যের মতো
ফজল শাহাবুদ্দীন
মুক্তিযুদ্ধের সেই নয় মাস আমার কাছে এখনও কেমন একটি অসম্ভব এবং অসামান্য স্বপ্নের মতো মনে হয়। আমরা সকলেই জানতাম সারা বাংলাদেশই সেই সময় একটি অবিশ্বাস্য যুদ্ধ ৰেত্রে পরিণত হয়েছিল। আমরা জানতাম যে কোনোদিন যে কোনো সময় মৃতু্য এসে উপস্থিত হতে পারে আমাদের কাছে। যে কোনো সময় নিষ্ঠুর বুলেটের গুলি আমাদের হৃৎপি-ে আঘাত হানতে পারে_ আমাদের মসত্মক দ্বিখণ্ডিত করে চৌচির করে ছিন্ন ভিন্ন করে দিতে পারে। সেই সময় আমরা মরে গেলে আমি মরে গেলে অস্বাভাবিক কিছুই ছিলো না_একটি অশনাক্ত মৃতু্যর অপরিচিত মৃতদেহ হয়ে হয়তো আমি কিংবা আমরা . . .
বিজয় ও অঙ্গীকারের মাস 'ডিসেম্বর'
তোফায়েল আহমেদ
ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস। বছর ঘুরে ডিসেম্বর ফিরে এলে অনেক স্মৃতি আমার মানসপটে ভেসে ওঠে। ১৯৭১-এর ডিসেম্বরের ১৬ তারিখ প্রিয় মাতৃভূমিকে আমরা হানাদারমুক্ত করে স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ অর্জন করেছিলাম। যে বাংলার স্বপ্ন সামনে নিয়ে দীর্ঘ চবি্বশটি বছর কঠিন সংগ্রাম পরিচালনা করে, নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে, ধাপে ধাপে অগ্রসর হয়েছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। কারাগারের অন্ধ প্রকোষ্ঠে বসে, যে বাংলার ছবি তিনি হৃদয় দিয়ে অঙ্কন করেছিলেন, ডিসেম্বরের ১৬ তারিখে তাঁর স্বপ্নের আরাধ্য সেই প্রিয় মাতৃভূমি . . .
বাঙালীর মুক্তি সংগ্রাম ও চার দশকের প্রাপ্তি অনুপম সেন
নৃতাত্তি্বক জাতি-গোষ্ঠী হিসাবে বাঙালীর যাত্রা বা শুরম্ন কখন হয়েছিল তা আমরা খুব ভাল করে জানি না। প্রত্নতাত্তি্বক ইতিহাস নিয়ে যাঁরা গবেষণা করেন, তাঁদের অভিমত, প্রাচীন প্রসত্মরযুগেই এখানে জনবসতি গড়ে উঠেছিল। সীতাকুণ্ডে নব্য প্রস্তরযুগের অনেক উপকরণ পাওয়া গেছে। অস্ট্রিক, মঙ্গোলয়েড ও ককেশীয় জনগোষ্ঠীর সমন্বয়ে কয়েক হাজার বছর ধরে যে বাঙালী নরগোষ্ঠী গড়ে উঠেছিল, বাঙলাভাষী জাতিসত্তা হিসেবে তার পরিচয় প্রায় হাজার বছরের। বাঙালীর এই কয়েক সহস্রাধিক বছরে ইতিহাসে ১৯৭১ সালের পয়লা মার্চ থেকে ষোলই ডিসেম্বর কালটির মতো এমন . . .
অপারেশন খুকরি
সাযযাদ কাদির
একাত্তরে সিলেট রণাঙ্গনে আহত হয়েছিলেন মেজর জেনারেল আয়ান কারদোজো (অব)। ল্যান্ডমাইনের বিস্ফোরণে উড়ে গিয়েছিল তাঁর একটি পা। সেই বিপর্যয় জয় করেছিলেন তিনি। ভারতীয় সেনাবহিনীর প্রথম বিকলাঙ্গ কর্মকর্তা হিসেবে অধিনায়কত্ব করেছেন প্রথমে এক ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়নের, পরে এক ব্রিগেডের। বীরত্বের জন্য সেনা পদকে ভূষিত জেনারেল কারদোজো এখন 'রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া'র চেয়ারম্যান। যুদ্ধদিনের স্মৃতি ও ইতিহাস নিয়ে তিনি লিখেছেন দুটি মূল্যবান দলিলগ্রন্থ"দ্য সিনকিং অব আইএনএস খুকরি সারভাইভরস্ স্টোরিজ" . . .
'৭১-এর কিছু স্মৃতি
ওয়ালিউর রহমান রেজা
অগি্নঝরা ১৯৭১ মার্চে সমগ্র বাঙালী জাতি ইস্পাতের ন্যায় দৃঢ় শপথে প্রস্তুত হতে থাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের চূড়ান্ত লক্ষ্যে। ঢাকা শহর ছিল মুক্তিকামী জনতার মিছিলে উদ্বেলিত। ঢাকার উত্তাল তরঙ্গের ঢেউ দেশের প্রত্যেক জেলা, মহকুমা গ্রামগঞ্জে দ্রম্নতগতিতে ছড়িয়ে পড়ে। আমি তখন রংপুর জেলার গাইবান্ধা মহকুমা সদর আসনে সদ্য প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচিত সদস্য। আমরা জনপ্রতিনিধিরা বঙ্গবন্ধু নির্দেশে মুক্তিকামী জনগণকে সংগঠিত করার লক্ষ্যে সাধ্যমতো চেষ্টায় নিয়োজিত ছিলাম। ৪০ বছর পর সেদিনের কিছু . . .
বিজয় দিবস ২০১১ ॥ প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি
বাঙালী শামসুর রহমান
মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে সীমাহীন ত্যাগের মাধ্যমে রক্তিম সূর্যের মতো 'বাংলাদেশ' নামে একটি দেশ ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরে বিশ্ব মানচিত্রে স্থান করে নেয়। স্বপ্নরাঙা এক দেশের নাম বাংলাদেশ। কারো কাছে রূপসী বাংলা। কারো কাছে সোনার বাংলা আবার কখনো বা সকল দেশের রানী। তার শিয়রে আছে গিরিরাজ হিমালয় আর তার চরণ ধুয়ে যায় বঙ্গোপসাগরের ঘননীল জলরাশি। কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ভাষায় বলতে হয়- ''ধন ধান্য পুষ্প ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা, ........................... ও সে স্বপ্ন দিয়ে তৈরী সে যে স্মৃতি . . .
বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন চার রাত
মুসা সাদিক
'৭১ সালে আমি তখন প্রবাসী মুজিবনগর সরকারের অধীনে স্বাধীন বাংলা বেতারের ওয়ার করেসপন্ডেন্ট। মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর সাথে এক ফ্রন্ট থেকে অন্য ফ্রন্টে উল্কার বেগে চলাচল আমার। দিল্লীর বিবিসি বু্যরো চীফ মার্ক টালিকে প্রতিদিন মুক্তিযুদ্ধের একটি সফল অপারেশন, একটি পাক সেনাদের টহল জীপ বা ট্রাক ধ্বংসের অথবা খান সেনাদের একটি লঞ্চের ওপর মুক্তিযোদ্ধাদের একটি রকেট লঞ্চারের শেল নিক্ষেপের সংবাদ না দিতে পারলে সে রাতে আমার ঘুম হারাম হয়ে যেত। স্বাধীন বাংলা বেতারে বার্তা বিভাগে শ্রদ্ধেয় লোহানী ভাই এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের . . .
সংস্কৃতি ও দুর্বৃত্তায়ন
শান্তনু কায়সার
বিজয়ের চার দশক পূর্তির শুরুতেই নজরুলের পঙক্তিমালা স্মরণ করা যাক : গোলামির চেয়ে শহীদি-দর্জা অনেক উর্ধেব জেনো; চাপরাশির ঐ তকমার চেয়ে তলোয়ার বড় মেনো। অন্য কবিতায় তিনি আরও বলেছেন : যুগে যুগে জরাগ্রসত্ম যযাতি তারি পুত্রের কাছে আপন বিলাস ভোগের লাগিয়া যৌবন তার যাচে। অন্যদিকে তাঁর এও মনে হয় : এই কি তরম্নণ? অরম্নণে ঢাকিতে বৃদ্ধের ছেঁড়া কাঁথা এই তরম্নণের বুকে কি পরম-শক্তি-আসন পাতা? ধূর্ত বুদ্ধিজীবীর কাছে কি শক্তি মানিবে হার? ৰুদ্র রম্নধিবে ভোলানাথ শিব মহারম্নদ্রের দ্বার? ঐরাবতেরে চালায় মাহুত শুধু . . .
ছায়ার বৃত্তে
রফিকুর রশীদ
লোকটা রাজাকার ছিল। এমনিতে খুব সোজাসাপ্টা সাদাসিধে মানুষ। রাজনৈতিক বোধ-বিবেচনাও তেমন ঝরঝরে পরিষ্কার নয়। চোখের সামনে কত রকম মিটিং মিছিল দেখেছে সে, এমন কি রাতের নিসত্মব্ধতা ভেঙ্গেচুরে দুনিয়ার মজদুর এক হবার আহ্বান যারা জানায় তাদের সঙ্গেও দেখা হয়েছে, দু'চারটি কথাবার্তাও হয়েছে, কিন্তু রাজনীতি জিনিসটা তার মাথায় কখনো ঢুকতেই চায় না। সত্যিকারের কথায়_বিশেষ কোনো রাজনৈতিক বুঝ থেকে সে রাজাকার হয়েছে এমনও নয়। অতি সাধারণ মানুষ সে। নিজের জমি জিরেত নেই। বাস করে সরকারী জমিতে, জিকে ক্যানেলের ঢালে। কুষ্টিয়া জেলায় . . .
চল্লিশ বছর বাদে ১৬ ডিসেম্বর
নাদিরা মজুমদার
উনিশ শ' একাত্তরের মার্চ মাস থেকে মধ্য ডিসেম্বরের দিনগুলোতে, আমাদের যাদের নলেজ এবং ইমাজিনেশন_অবগতি ও কল্পনা-প্রতিভা ছিল, এক শঙ্কাকুল সময়ের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেছি জীবন। আমাদের মধ্যে যাদের ছিল প্রাতিজনিক, একান্ত, ব্যক্তিগত স্নেহ, প্রেম, মমত্ব, যাদের ছিল তাদের সনত্মানদের বা নাতি-নাতনিদের ঘিরে আশা ও আনন্দময় ভবিষ্যতের স্বপ্ন ও পরিকল্পনা, যাদের ছিল অতিবিশ্বসত্ম ভালোবাসার বন্ধুজন_শঙ্কাকুল দিনগুলোর যে কোনো একটি দিন তাদের কারওবা মৃতু্য, কারওবা ধর্ষণ, কারওবা ভিটামাটি ত্যাগ করে উদ্বাস্তুতে পরিণত হওয়ার . . .
স্বাধীনতা হীনতায়
মণীশ রায়
কেমন আছ দিলু?' সু্যইচ অন করে মুসলেউদ্দিন মোবাইলটি কানে লাগাতেই সাত সকালে এই সম্বোধনটুকু মনকে একেবারে তাজা করে দিয়ে গেল। ওর ডাক নাম যে কোনোকালে দিলু ছিল তা এখন রীতিমতো গবেষণার বিষয়। ওর স্ত্রী রিনির সামনে এই নামটা বললেও ভ্যাবাচেকা খেয়ে নিশ্চিত জিজ্ঞাসা করে বসবে, 'কার নাম?' হয়তো কিছুক্ষণ পর সময় নিয়ে ঠিকই বুঝতে পারবে। কিন্তু কালেভদ্রে আচমকা এই নামটি উচ্চারিত হলে সে-ও খেই হারাবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই মুসলেউদ্দিনের। আসলে বিষয়টা এ রকমই, বহুদিনের অদর্শনের পর কারো মুখোমুখি হলে যেরকম স্মৃতি . . .
বিজয়ের চল্লিশ বছর অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত
এম মুনীর হোসেন
সুদীর্ঘ মুক্তি সংগ্রামের গৌরবময় ইতিহাস পরিক্রমার পথ ধরে নয় মাসের রক্তৰয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর যা আমরা ছিনিয়ে এনেছিলাম সেটি ছিল হারানোর বেদনায় আপস্নুত প্রাপ্তির আনন্দে অশ্রম্নসিক্ত-স্বপ্নের রাজকুমারীর হাতের মেহেদীর রঙ প্রেমিক-প্রেমিকার চকিত চুম্বন-স্বাধীনতা। সে বিজয়ের উলস্নাস-জয় বাংলার জয়োধ্বনী আজও রক্তে শিহরণ জাগায়_ হৃদয়ের আনন্দের পস্নাবন ডেকে আনে। সময়ের বিবর্তনে ইতিহাস হয় কালাতীত। বহতা নদীর মতো ইতিহাসের স্রোতধারা ধাবিত হয় অননত্মের দিকে জন্ম ও জন্মানত্মর অবধি। সময় ৰেপণের সঙ্গে . . .
মুক্তিযুদ্ধ ॥ বাঙালীর মহাকাব্য
ড. সফিউদ্দিন আহমদ
সমগ্র বিশ্বে আমরা একটি গর্বিত জাতি যে, আমাদের মাতৃভাষা বাংলা, আমরা আমাদের এই মাতৃভাষা বাংলাকে বুকের রক্ত দিয়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছি এবং গর্বিত যে, আমাদের মাতৃভাষা বাংলা আজ আনত্মর্জাতিক মাতৃভাষা। আমরা আরও গর্বিত যে, ১৯৭১ সালে এক মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ে লাল রক্তিম পতাকা বুকে ধারণ করে আমরা আজ স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের নাগরিক। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল বিজয়ে আমরা আমাদের আত্মপরিচয় নিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম দেশের মাটিতে গর্বের সঙ্গে দাঁড়িয়ে, কিন্তু আমাদের পরিচয় একাত্তর হতেই . . .
স্বপ্নের দুধভাত
মনি হায়দার
আগুন জ্বলছে। জহির তার করোটির ভেতরকার মগজের দাউ দাউ আগুনের হিস্ হিস্ শব্দ শুনতে পাচ্ছে। উত্তাপে উত্তেজনায় চোখ, চোখের মণি গলে গলে মোমের মতো জমাট বাঁধছে সে আগুন। তীরবিদ্ধ অবিশ্বাস্য চোখে দেখছে সামনে দাঁড়ানো আব্বাসকে। কি বলছেন আপনি? দ্বিধায় কম্পমান কিন্তু তির্যক প্রশ্ন রাখে সে আব্বাসের কাছে। কি বলছি বুঝতে পারছ না? না। ঠা-া নিস্পৃহ জবাব দেয় জহির। না, বুঝতে পারছি না। না বোঝার মতো কঠিন কি কথা বলেছি? কঠিন না সহজ সে প্রশ্নে আমি যাব না। তবে আপনি যা করতে বলছেন, সেটা আমি করব না, করা আমার সম্ভবও নয়। আব্বাস . . .
সিলেটের ধর্মগড়ের লড়াই
মে. জে. (অব) সুবিদ আলী ভূইয়া, এমপি
প্রায় নয় মাস দেশমাতৃকাকে স্বাধীনের জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছি পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসরদের বিরম্নদ্ধে। এ সময় কখনও চট্টগ্রামের পাহাড়ী ঢালে, কখনো সিলেটের চা বাগানে, কখনো বা আশুগঞ্জের মেঘনা নদীর তীরে। দীর্ঘ নয় মাসের প্রতিটি মুহূর্ত ছিল জয়-পরাজয়ের লড়াই, বাঁচা-মরার লড়াই, টিকে থাকার লড়াই। কখনো শত্রম্নপৰের সঙ্গে, কখনো প্রকৃতির নানা খেয়ালের সঙ্গে। ঝড়, বৃষ্টি, সাপ, জোক আর ৰুধার সঙ্গে একাকার জীবন। সারাদিন অনাহারে থাকার পর যেই মুখে খাবার তুলেছি অমনি এসে পড়তে শুরম্ন করল কামানের শেল। এই ছিল . . .
একজন বীরপ্রতীকের কথা
আফরোজা পারভীন
দুপুরের খাওয়ার সময় হয়ে গেছে প্রায়। সূর্য মাথার উপরে আগুন ঢালছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই হেলতে শুরম্ন করবে। সামিনা কেন যে আজ ভাত নিয়ে আসতে এত দেরি করছে কে জানে। আজকাল একটুতেই ৰুধায় অস্থির হয়ে উঠি। সকালে পানত্মা খেয়ে মাঠে আসতে না আসতেই মনে হয় পেটে রাৰুসে ৰুধা। মনে হয় কতদিন যেন খায় না। আগে এমন ছিল না। একমুঠো মুড়ি চিবিয়ে দু'দিন পার করে দিতে পারত। এখন সারাৰণ খাই খাই ভাব। শুনেছিল বুড়ো বয়সে নাকি ৰুধামন্দা হয়। খাওয়ার রম্নচি থাকে না। কোথায়? ওর তো যতদিন যাচ্ছে ৰুধা বাড়ছে। আগে লাঙ্গলটাকে মনে হতো মাছির সমান এখন . . .
হে জীবন! হে যুদ্ধ!
মমতাজ লতিফ
এ কাব্যনাট্যে যুদ্ধ, ক্ষমতা অধিকারের মাধ্যম নয়। এটি মুষ্টিমেয় স্বার্থান্ধ মানুষের উদ্দেশ্য সাধনের যন্ত্রও নয়। তাই এখানে যোদ্ধা নিয়মিত, বাঁধাধরা যান্ত্রিক সমরনেতারা বা তাঁদের নির্দেশ বাস্তবায়নকারী সেনারা নয়। এখানে যুদ্ধ বিশাল মানবিক এক প্রয়োজন পূরণে, মহৎ একটি লক্ষ্য অর্জনের পন্থা হিসেবে অন্ধ পশুত্বের বিরম্নদ্ধে মানুষের বিবেকের পক্ষে এক মহান কর্মযজ্ঞ! এখানে যোদ্ধা তাই বিচিত্র মানুষ-নারী ও পুরম্নষ জীবনের নানা পথ বেয়ে নানা বাঁক পেরিয়ে এদের অভিজ্ঞতা সংহত ও সুসংবদ্ধ হয়ে গড়ে তুলেছে এক পাথর কঠিন চেতনা_যার . . .
এক সফল অপারেশন
ডা. আরশাদ সায়ীদ
ট্রেনিং শেষে দেশে ফিরে ঘাঁটি হলো বগুড়ার হাট শেরপুরের দর্জি সামাদ ভাইয়ের বাসায়। ৭নং সেক্টর কমান্ডার মেজর নাজমুল হক আমাদের মাত্র তিনজনকে (আমি তখন ঢাকা মেডিক্যালের ১ম বর্ষের ছাত্র, আমাদের কমান্ডার ওয়ালেস ভাই ২য় বর্ষের ছাত্র ও নোবেল বগুড়া আযিযুল হক কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্র) গেরিলা যুদ্ধের স্পেশাল ট্রেনিং দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে ছিলেন। সঙ্গে আরও তিন জন সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা এবং যথেষ্ট পরিমাণ গেরিলা যুদ্ধের সরঞ্জাম এঙ্পেস্নাসিভ, গ্রেনেড, মাইন ও স্টেনগান দিয়ে। ওগুলো যমুনা নদীর তীরে সামাদ ভাইয়ের গোয়ালঘরে লুকিয়ে . . .
কবিতা
মুক্তমাটি জন্মমাটি মাতৃভূমি আবুবকর সিদ্দিক নদী থেকে নদী এই সুতোনলী লতার সোঁতার জলে ভেসে_ ভেসে ভেসে যাই আমি ভালোবাসা-মান্দাসের ঘূর্ণিপাক টানে। হঁ্যাতালের বাঁকানো ডগায় অঘ্রানের ওমরোদে পিঠ দিয়ে ঝিমায় মোহিনী শঙ্খচূড়। দু'চোখে আরণ্য নেশা শ্যামলিম। জনপদে-নগরে-বন্দরে ফিরি আমি এক প্রণয়ী বাউল। মা! তোমায় দেখে দেখে অফুরান পিপাসা আমার। মনে হয় ধুলো হয়ে মিশে থাকি কানত্মারেপ্রানত্মরে। মেঘ হয়ে বৃষ্টি হয়ে নেমে আসি শস্যের পাঁজরে। ৰীর হয়ে জমে উঠি গর্ভিনীর স্ফীত সত্মনে। দূর সাগরের ডাক শুনি মধ্যরাতে, . . .
দেখেছি প্রথম সূর্যোদয়
নিয়ামত হোসেন
প্রথম দিনের সূর্যোদয়ের সৌভাগ্য হয়েছিল। প্রথম দিনের সূর্যোদয় মানে হানাদার পাকিসত্মানী বাহিনীমুক্ত নিরঙ্কুশ স্বাধীন বাংলাদেশের আকাশে ওঠা সূর্যের উদয়। সেদিনটি হচ্ছে ১৭ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সাল। তখনও সূর্য ওঠেনি। আকাশ তখনও খানিকটা অন্ধকার। সবে মিষ্টি কোমল আলো ফুটতে শুরম্ন করেছে। ধীরে ধীরে অন্ধকার কাটছে। ১৬ তারিখের বিকেলে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করেছে পাকিসত্মানী সেনাপতি ও সৈন্যরা। ডিসেম্বরের বিকেল। আনন্দ উলস্নাস এবং উত্তেজনার ভেতর দিয়ে সন্ধ্যা এলো দ্রম্নত। তখনই ঠিক করে রাখলাম ভোরবেলায় যে সূর্য উঠবে তার উদয় দেখতে . . .
স্বাধীনতার চল্লিশ বছর ও বর্তমানকাল
রবিউল হুসাইন
বিংশ শতাব্দীর সত্তর দশকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন নিঃসন্দেহে পৃথিবীর রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি অনন্য ঘটনা। সাধারণত ২০ শতাব্দীতে দেখা গেছে, একটি দেশের স্বাধীনতা লাভ হয়েছে সরাসরি বিপস্নব বা ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পরে পারস্পরিক বোঝাবুঝির মাধ্যমে। যেমন বিপস্নবের মাধ্যমে রাশিয়া, চীন, কিউবা, ভিয়েতনামে যথাক্রমে লেনিন, মাও সেতুং, ফিদেল ক্যাস্ট্রো, হো-চি-মিন প্রমুখ কালজয়ী বিপস্নবী, দেশনায়কের দৰ ও সংগ্রামী পরিচালনা ও যুদ্ধজনিত প্রভূত রক্তৰয়ের বিনিময়ে আর ভারত, পাকিসত্মান, শ্রীলঙ্কাসহ এশিয়া, . . .
১৬ ডিসেম্বর ॥ বাঙালীর প্রথম স্বাধীনতা সূর্যোদয়
আবদুল লতিফ সিদ্দিকী
১৬ ডিসেম্বর। আজ থেকে ৪ বছর আগে এইদিনে তিরিশ লক্ষ মানুষের এক সাগর রক্তের বিনিময়ে পাকিসত্মানী উপনিবেশবাদী শাসন ও শোষণের অবসান ঘটে। প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। এই দিনেই বাঙালী জাতির ইতিহাসে প্রথম স্বাধীনতার সূর্যোদয় হয়েছিল বাংলাদেশের মাটিতে। তারই নেতা ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কিন্তু সাড়ে তিন বছরের মাথাতেই সাম্রাজ্যবাদী চক্রানত্ম ও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তিনি সপরিবারে নিহত হন। তিনি আজ বাংলাদেশের ঘৃণ্য পুতুল সরকারের কাছেও নিন্দিত এবং তাঁর বিরম্নদ্ধে চালানো হচ্ছে হাজারো . . .
বিজয়ের ৪০ বছর ॥ বাংলাদেশের অর্জন ও চ্যালেঞ্জসমূহ
ড. আতিউর রহমান
১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের অব্যবহিত পরে বাংলাদেশ পেয়েছিল একটি বিধ্বসত্ম অর্থনৈতিক কাঠামো যেখানে একটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ছিল বটে, কিন্তু এতে ছিল না বৈদেশিক মুদ্রার কোন রিজার্ভ; দেশের বন্দর, পরিবহন ব্যবস্থা ও শিল্প-কারখানা ছিল ধ্বংসপ্রাপ্ত, আমাদের রপ্তানি পণ্য ভা-ারে পাট ও চা-এর মতো কয়েকটি পণ্যে সীমিত ছিল, তবে ঐ সময় দেশে আসতো না প্রবাসীদের প্রেরিত কোন রেমিট্যান্স। এর সাথে যুক্ত হয়েছিল উপর্যুপরি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। জনসংখ্যার উচ্চ বৃদ্ধির সাথে তুলনায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল ফ্যাকাসে, শিল্প কর্মকা- ছিল একেবারেই . . .