মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ৬ মে ২০১১, ২৩ বৈশাখ ১৪১৮
প্রাচ্যচিত্তে প্রতীচ্য প্রতিক্রিয়া
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
বহিরাক্রমন থেকে নিরাপত্তা, এক ধরনের স্থিতি, শেঙ্পীয়র, শেলী, বায়রন, কীটস পড়ার সুযোগ, আর্কিমিডিস, গ্যালিলিও প্রমুখের বৈজ্ঞানিক সূত্রের সঙ্গে পরিচয়, ইংরেজী কমন ল-এর প্রসার, শিল্পায়নে যন্ত্র ও ভোগ্যপণ্যের প্রসার, এ্যালপ্যাথি নিরাময় ব্যবস্থায় আমরা পালস্নার একদিকে দেখি। অন্যদিকে কৃষি ও কৃষকের বহু প্রচলিত এ কাবিখা, অধিকার লোপ, বস্ত্র ও শিল্প কাঠামোর ও দেশীয় শিৰা ব্যবস্থার ধ্বংস, আবাসনে, একাধিক দুর্ভিৰ, ঋণগ্রসত্মতা, পরমুখাপেৰিতা, আত্মসম্মান ও আনত্মরিকতার মধ্যে ক্রিশঙ্কুলোদলু্যমান মানসিকতা_শেষ পর্যন্ত পাল্লা . . .
রবীন্দ্রনাথ মানবের তীর্থযাত্রা
হায়াৎ মামুদ
আইনস্টাইন : বিশ্বব্র্রহ্মার প্রকৃতি নিয়ে দুটো সম্পূর্ণ আলাদা ধারণা রয়েছে। একটা বলে_ বিশ্ব হল ঐক্যসঙ্গতি যা মনুষ্যত্বের ওপর নির্ভর করে আছে। আর অন্য মতে_ বিশ্ব হল এমন এক বাস্তবতা যা মানবসম্পর্ক_নিরপেক্ষ, স্বাধীন, দাঁড়িয়ে আছে। রবীন্দ্রনাথ : এই বিশ্ব তো মানুষেরই পৃথিবী। বিজ্ঞানদৃষ্টি দিয়ে যদি একে দেখতেই হয়, তো যিনি দেখবেন সেই মানুষটিকেও তা হলে বিজ্ঞানচিন্তাসম্পন্ন হতে হবে। তার মানে, আমাদের বাদ দিয়ে আলাদা কোন বিশ্বের অসত্মিত্ব নেই : এ হল আপেৰিক বিশ্ব, এ যে কতখানি বাসত্মব তা নির্ভর করছে আমাদের চৈতন্যের . . .
তিনি কী দিয়েছেন আমরা কী করতে পারি
নিয়ামত হোসেন
কবি কিশোর সুকান্ত ভট্টাচার্য রবীন্দ্রনাথের উদ্দেশে লেখা এক কবিতায় লিখেছেন_এখনও আমার মনে তোমার উজ্জ্বল উপস্থিতি। সেটা সেই কবেকার কথা। তখনও উপমহাদেশে ব্রিটিশের শাসন। তারপর কত বছর, কত যুগ পার হয়ে গেছে। রবীন্দ্রনাথের জন্মশতবার্ষিক এসেছে। সেটাও পার হয়েছে। তখনও অগণিত মানুষের মনে রবীন্দ্রনাথের উজ্জ্বল উপস্থিতি। তারও পরে কত যুগ পার হয়ে এখন এসেছে তাঁর দেড়শতম জন্মদিন। এখনও কি কথাটা সত্যি নয়? অবশ্যই সত্যি। এখন রবীন্দ্রনাথের অগণিত মানুষের হৃদয়ে উপস্থিতি আরও বেশি উজ্জ্বলভাবে। ভাবতে অবাক লাগে, দেড়শ' বছর . . .
রবীন্দ্রনাথকে লেখা অপ্রকাশিত পত্র
সঙ্কলন ও পূর্বলেখ : ভূঁইয়া ইকবাল
প্রথম পত্র ১০-৪ ঊখএওঘ জঙঅউ ঈঅখঈটঞঞঅ ৩ অক্টোবর ১৯৩১ শ্রদ্ধাস্পদেষু, আপনার পত্র ও দুঃস্থ চট্টগ্রামবাসীদের সাহায্যার্থে প্রেরিত এক হাজার টাকার চেকখানি যথাসময়ে আমি পাইয়াছি। শারীরিক অসুস্থতার জন্য আপনাকে পত্র লিখিতে দেরী হইল। ত্রম্নটি মার্জনা করিবেন। চট্টগ্রামের রিলিফ ফান্ডের ছাপান রসিদে শীঘ্রই উক্ত এক হাজার টাকার প্রাপ্তি স্বীকার করিব। হিজলীতে রাজবন্দীদের নিকট আপনার নাম করিয়া তার করাতে তাহারা অনশনব্রত ভঙ্গ করিয়াছেন। সংবাদপত্রে নিশ্চয়ই দেখিয়াছেন। আপনার শরীর ভাল নয়। তবু আপনি সর্বদা আমাদের জন্য . . .
রবীন্দ্রনাথের পদাবলী জালিয়াতি ও নিশিকান্তের পিএইচডি বিভ্রাট
ড. সফিউদ্দিন আহমদ
'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' জালিয়াতি (জালিয়াতি শব্দটি রবীন্দ্রনাথ নিজেই ব্যবহার করেছেন) এবং নিশিকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের পিএইচডি বিভ্রাট নিয়ে যে কলঙ্কের অধ্যায় রচিত হয়েছে তা আজও মোচন হয়নি। জালিয়াতির অভিযোগ থেকে রবীন্দ্রনাথ নিজকে উন্মোচন করলে ও কঠোর অযৌক্তিক ও ভুল সিদ্ধানত্মের শিকার হয়েছেন বৈশ্বিক বলয়ে উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব ভারতীয় উপমহাদেশে ইউরোপে প্রথম পিএইচডি ও প্রথম অধ্যাপক নির্দোষ, নিষ্কলঙ্ক নিশিকানত্ম চট্টোপাধ্যায়। তার অভিসন্দর্ভের শিরোনামের ওপর রবীন্দ্রনাথের ঢেলে দেয়া কলঙ্কের কালিমা আজও মোচন . . .
বড়োই সহজ রবিরে ব্যঙ্গ করা অথবা রবীন্দ্র-কুৎসার বুঝি আর শেষ নেই
শান্তনু কায়সার
'স্ফুলিঙ্গ'য় রবীন্দ্রনাথের একটা ছোট কবিতা আছে। শিরোনামহীন সংখ্যাচিহ্নিত এই কবিতাটি অন্তত দুটি সংখ্যায় বিন্যস্ত। কবিতাটি পড়া যাক : বড়োই সহজ রবিরে ব্যঙ্গ করা, আপন আলোকে আপনি দিয়েছে ধরা। বলাই বাহুল্য, এটি আকাশের রবি তথা সূর্যকে নিয়ে লেখা। কিন্তু মর্ত্যের রবি অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে এই মনত্মব্য সমান অথবা ততোধিক সত্য। তাঁকে নিয়ে ব্যঙ্গ করা সহজই শুধু নয়, সার্ধশতবর্ষে আমাদের এখানে মুর্খের মতো তা করাও হচ্ছে। কিন্তু আকাশের রবি যেমন নিন্দুকের সকল মূর্খতা ও আস্ফালন সত্ত্বেও আপন আলোকে . . .
বিদেশীদের স্মৃতিতে রবীন্দ্রনাথ
অনুবাদ : আন্দালিব রাশদী
[রবীন্দ্রনাথকে ভালোবাসতে তাঁর স্বদেশীরা দীর্ঘ সময় নিয়েছেন_ বিদেশীদের স্বীকৃতির পরে। বিদেশীর পরামর্শে তাঁর সত্তরতম জন্মবার্ষিকীতে প্রকাশিত হয় 'দ্য গোল্ডেন বুক অব ট্যাগোর'। গোল্ডেন বুক থেকেই কবিকে নিয়ে তিনজন বিদেশীর লেখা অনূদিত হলো।] একটি সুরভিত স্মৃতি ১৯২০ সালের সেপ্টেম্বরে আমরা কবিকে হল্যান্ডে আমাদের বাড়িতে স্বাগত জানানোর আনন্দ উপভোগ করেছি। আমাদের বাড়িটি জুইভার সমুদ্রের উপকূলে, আমাদের বাড়ি থেকে সূর্যাস্তের বিস্মৃত ও আকর্ষণীয় দৃশ্যটি দেখা যায়। কবির সঙ্গে আমরা যে সময় কাটিয়েছি, যখন . . .
রবীন্দ্রনাথের চিত্রকলা
রবিউল হুসাইন
রবীন্দ্রনাথ সাতষট্টি বছর বয়স থেকে চিত্র রচনা শুরু করেন। ১৯২৮ থেকে ১৯৪০ এই ১২ বছর গভীর নিষ্ঠার সঙ্গে শিল্পচর্চা করে গেছেন এবং এরপর থেকে আজীবন চিত্রকর্মে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি প্রায় আড়াই হাজার ছবি এঁেকছিলেন এবং এর ভেতরে প্রায় দেড় হাজার ছবি শান্তিনিকেতনের রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রভবনে সযতনে রক্ষিত আছে। ১৯২৮ সালে আর্ট স্কুলের অধ্যৰ মুকুল দের সঙ্গে ছাত্রদের তীব্র দ্বন্দ্ব শুরম্ন হয়েছিল, তখন মুকুল দেকে মানসিকভাবে সাহায্য করার জন্য অধ্যৰের বাসায় প্রায় দেড় মাস অবস্থান করেছিলেন তিনি। এই সময় প্রতিদিন . . .
ডারউইন, রবীন্দ্রনাথের 'পৃথিবী' ও বাংলার প্রকৃতি
স্বদেশ রায়
পৃথিবী সৃষ্টি, জীব সৃষ্টি আর সভ্যতা সৃষ্টি। এই তিন_ যুগে যুগে মানুষকে ভাবিয়েছে। এই তিনের উৎস ও পথ রেখা আবিষ্কারের নেশায় কম বেশি সকলে মেতেছেন। সকলে খুঁজেছেন। উপনিষদের চিনত্মানায়করা, থ্যালিস, রবীন্দ্রনাথ, ডারউইন, জীবনানন্দ দাশ এঁরা এক পথে হেঁটেছেন। আবার অন্য চিন্তার আজও এক দীর্ঘসারি। তাঁরা হাঁটছেন আরেক পথে। উপনিষদের চিন্তাকে ঊনিশ শতকের তিরিশের দশকে এসে জীবনানন্দ দাশ তাঁর কবিতায় রূপ দিয়েছেন, 'আগুন বাতাস জল : আদিম দেবতারা তাদের সর্পিল পরিহাসে/ তোমাকে দিল রূপ-' উপনিষদ আগুন, বাতাস ও জল তিনকে . . .