মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ১৪ এপ্রিল ২০১১, ১ বৈশাখ ১৪১৮
শুভ নববর্ষ ১৪১৮
কবীর চৌধুরী
আমরা এবারের বাংলা নববর্ষ উদ্যাপন করবো নতুন উদ্দীপনা সহকারে। বিগত কিছুকালের মধ্যে আমাদের জাতীয় জীবনে কতিপয় গুরম্নত্বপূর্ণ এবং উৎসাহব্যঞ্জক ঘটনা ঘটেছে। স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের কয়েকজনকে ইন্টারপোলের সহায়তায় ধরে আনার উদ্যোগ গৃহীত হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিশোধ প্রতিহিংসার কিছু নেই। ওই রকম নৃশংস অপরাধের শাসত্মি কার্যকর করা না হলে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা দুরূহ হয়ে পড়বে। সম্প্রতি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারপ্রক্রিয়াও অনেকখানি এগিয়ে গেছে। সরকারকে এ বিষয়টি ত্বরান্বিত করতে হবে। ইতোমধ্যে . . .
এবারের বৈশাখ হোক ধর্মীয় ভণ্ডামি, সুবিধাবাদ ও ভীরুতার বিরুদ্ধে আন্দোলন
মুনতাসীর মামুন
মহামতিরা সারা জীবনে অনেক কাজ করেন। কিছু কিছু কাজ করেন এ ভেবে যে, সে সব কাজের জন্য অমর হয়ে থাকবেন। কিন্তু সময় এমন নিষ্ঠুর যে, সমসাময়িক সমযে করা কীর্তি হারিয়ে যায়। টিকে থাকে হয়ত এমন কাজ যার কথা মহামতি ভাবেননি। যেমন ধরা যাক সম্রাট আকবরের কথা। সারা জীবন অনেক কিছু করেছেন, ভেবেছেন তাঁর দিগ্বিজয় বা দীন-ই-ইলাহীর কথা মানুষজন মনে রাখবে। কিন্তু হা হাতোস্মি! মানুষ সে সব মনে রাখেনি। মনে রেখেছে বাংলা সনের কথা, অনত্মত বাঙালীরা। এই বাংলা সনেরই প্রথম দিন নববর্ষ যা বাঙালীর প্রাণের উৎসব হিসেবে এখন পরিচিত। শুধু তাই . . .
কিছু নদী পাখির মতোন
ফজল শাহাবুদ্দীন
আমার কৈশোরের কিছু নদী আমাকে এখনও ডুবিয়ে রেখেছে তাদের চোখের জলে কেমন করে যেন জানি না সেইসব নদী এখনও শ্রাবণের বৃষ্টির মতো অবিরাম বিরতিহীন বেঁচে আছে আমার রক্তকণিকায়_ কৈশোরকাল আসলে তো একটি উচ্ছল নদীর মতোই নদীরা তো সব আমার অসত্মিত্বের ছায়ার ভিতরে ক্রমাগত গান ক্রমাগত কান্না অস্পষ্ট সংলাপ আমার জীবনের যৌবনের ইচ্ছার বাসনার কাম তৃষ্ণা প্রার্থনা স্পর্শ আলিঙ্গন আর যত নিমগ্নতার সব কিছুর একানত্ম খেলা কখনও ডুবে যাচ্ছে দুঃখে আনন্দে কোন কিছু নাই এমন সব অসত্মিত্বহীনতায় আমার কৈশোরের . . .
সঙ্গী
স্বদেশ রায়
গভীর রাতে ক্লাব থেকে বের হয়েই সিটে হেলান দিয়ে অনেকটা তন্দ্রায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে শফিক। নিস্তব্ধ কালো রাত। ওকে যেতে হবে প্রায় চলিস্নশ কিলোমিটার। দুই কিলোমিটার পার হলেই ও শহর শেষ। কান্ট্রি সাইড। রাসত্মার দু' ধারে গাঢ় অন্ধকার। তবে এই অন্ধকারে কোন সবুজ গাছ কালো হয়ে নিস্তব্ধ রাতে দাঁড়িয়ে নেই। কেবলই শূন্যতার মাঝে গভীর অন্ধকার। শফিক আহমেদ চোখ বুঝে এই অন্ধকারকে উপলব্ধি করে। উপলব্ধি করার চেষ্টা করে শূন্যতাকে। ঠিক এমনই শূন্যতা দেখেছিল ওই হুইস্কির গস্নাসটিতে। নরম আলোয় গোলাপি হুইস্কিটুকু যেন মিসরীয় কোন ষোড়শী . . .
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের নিজস্ব সম্পত্তি যে পহেলা বৈশাখ
মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী
শিরোনামটি পড়ে এই প্রশ্নটি ওঠা স্বাভাবিক যে কেন আমি বাংলা সনের প্রথম দিনটিকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের নিজস্ব সম্পত্তি হিসেবে নির্দিষ্ট করছি। উত্তরে যে সত্যগুলো লিখব সেগুলো যেহেতু কঠোর, অত্যন্ত কঠোর সত্য, সেহেতু শুরুতে জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক, যিনি বর্তমানে প্রয়াত তাঁর বক্তব্য থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে পয়লা ধাক্কাটি সামলাতে চাই। প্রয়াত অধ্যাপক ১৯৮০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেয়া এক স্মারক বক্তৃতায় বলেছিলেন, ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় পরবর্তীকালে জাতীয় রাষ্ট্র বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আমাদেরকে উৎসাহ দিয়েছে। . . .
বেঁচে না থাকা
সাযযাদ কাদির
মলম পার্টির উৎপাত সম্পর্কে পত্রিকায় ইদানীং কি সব খবর বেরিয়েছে_তা নিয়ে কথা বলতে শুরম্ন করেছিলেন কর্তা। তবে বুড়ো বাধা দেন হাত নেড়ে, ও সব পত্রিকার খবর থাক। কে একজন বেহদ্দ সাংবাদিক কিভাবে যেন পড়েছিল ওদের খপ্পরে_এখন এসব নানা কথা ওরা লিখছে ইচ্ছামতো। আচার্য্য বলেন, বেচারা সাংবাদিক কিন্তু বেঁচে গিয়েছেন অল্পের জন্য। জখমও হয়েছেন খুব। কর্তা বলেন, হুঁ... ছবি দেখেছি পত্রিকায়। মলম পার্টির খপ্পরে পড়ে ওর যে চেহারা হয়েছে তাতে ওঁকেও মনে হচ্ছে মলম পার্টির কোন সদস্য বুঝি! বুড়ো দুঃখ প্রকাশ করেন, ইসসস...! আমার কিছু . . .
নববর্ষ ভাবনা
বিশ্বজিৎ ঘোষ
বাঙালীর আর্থ-সামাজিক-সাংস্কৃতিক জীবনে বাংলা নববর্ষের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। নববর্ষ আমাদের জীবনে আসে নতুন স্বপ্ন নিয়ে, বেঁচে থাকার নবীন আশ্বাস নিয়ে। নববর্ষের প্রথম দিনে পয়লা বৈশাখে অতীতের কথা ভুলে গিয়ে আমরা নতুনের আহ্বানে সঞ্জীবিত হয়ে উঠি। প্রাত্যহিক কাজকর্মের পরিবর্তে এইদিনে বাঙালীর ঘরে ঘরে চলে উৎসবের আমেজ_ ঘরবাড়ি পরিষ্কার হয়, সবাই পরিধান করে নতুন পোশাক-পরিচ্ছদ, ভালো খাবারের আয়োজন চলে, সবাই দলবেঁধে যায় বৈশাখী মেলায়। বস্তুত, নববর্ষ মিশে আছে বাঙালীর সত্তার সঙ্গে, আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতির সঙ্গে। . . .
বছর শেষের বৈসাবি
ড. আফসার আহমদ
দু'বছর আগের এক সন্ধ্যা রাতে, খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার এক পাহাড়ী গ্রামের পথে হাঁটতে হাঁটতে শুনলাম কেমন যেন টানা টানা সুরে বাঁশী বাজছে। ক্ষণিক দাঁড়ালাম। সুর শুনতে শুনতে আমার চোখের সামনে তৈরি হতে থাকে কিছু ছবি। পাহাড়ি পথ বেয়ে হেঁটে চলেছে পিঠে বাঁধা কালস্নং নিয়ে কোন পাহাড়ি যুবতী। পাহাড়ের কোলঘেঁষা ঘরের খোলা বারান্দায় অপেক্ষায় রয়েছে পাহাড়ি যুবক। বাঁশীর সুরটি আমার চোখের সামনে তেমনি উঁচুনিচু অাঁকাবাঁকা পথ আর পথের শেষপ্রানত্মে দাঁড়িয়ে থাকা পাহাড়ি যুবকের মাথার উপরের নীল আকাশ হয়ে ওঠে। খাগড়াছড়ি উপজাতীয় . . .
এখন টাকা বানানোর সময় আইন মানার সময় নয়!
ড. আরএম দেবনাথ
১৯৭৬ সালের ঘটনা। দেশ স্বাধীন হয়েছে সবেমাত্র চার-পাঁচ বছর। ইতোমধ্যে ঘটে গেছে ইতিহাসের নারকীয় ঘটনা_ বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হয়েছেন নরপশুদের গুলিতে। দেশে নতুন সামরিক সরকার। বাঙালীর চরম দুর্ভাগ্য প্রধান বিচারপতি মোঃ সায়েম হয়েছেন প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক। রাজনীতিতে ঘটছে সামরিকীকরণ। প্রতিবিপস্নবের চিহ্ন সর্বত্র। মুক্তিযুদ্ধকালীন ৰয়ৰতি পুষিয়ে উঠে অর্থনীতি সবেমাত্র ঘুরে দাঁড়াতে শুরম্ন করেছে। জিনিসপত্রের দাম একটা উলস্নম্ফন দেখিয়ে স্বাভাবিক হয়েছে। অর্থনীতির প্রধান প্রধান খাত সরকারী নিয়ন্ত্রণে। দেশের ৬টি বাণিজ্যিক . . .
বৈশাখী আবেগ ধরে রাখা যাবে কি?
শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী
পয়লা বৈশাখের প্রথম সূর্য দেখি রমনার বটমূলে, না হয় রবীন্দ্র সরোবর মঞ্চে অথবা অন্য কোন নিবিড় ছায়া সুশীতল প্রাঙ্গণে। ভোরের মিষ্টি হাওয়ায় তানপুরা-সেতারের টুংটাং রিনিঝিনি, তবলার সঙ্গতের সঙ্গে সুকণ্ঠ মিলে অপার্থিব আনন্দ ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায়। মগ্ন হই, একাত্ম হই। কখনও কণ্ঠ মিলাই। বোধের শুরম্ন যেখানে, সেখান থেকেই আরম্ভ নববর্ষ উদ্যাপন। ভিন্ন সময় তাতে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা। চৈত্র সংক্রানত্মি পার করে নববর্ষ। দু'টির ব্যঞ্জনাই চিরকাল আমাদের নাড়া দিয়েছে। শেষ ও আরম্ভের সন্ধিৰণ। পুরাতন আর নতুনের মিলন এক বিন্দুতে। . . .