মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০১৪, ২৩ কার্তিক ১৪২১
বাংলা সাহিত্যের চর্চা কাজী আবদুল ওদুদ এম.এ.
সাহিত্য সম্বন্ধে যাঁরা কিছু বলতে যাবেন তাঁরা বিশেষভাবে ব্যাখ্যা করতে চেষ্টা করবেন সাহিত্য-তত্ত্ব অর্থাৎ রস কি, কাব্য কি, কবি কে, এই সব- আমাদের দেশের পাঠক সাধারণ এ আশায় অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। কিন্তু লেখক-সাধারণ দুঃখের সঙ্গেই জানেন, সংস্কৃত অথবা ইংরেজী বচনোদ্ধার তাঁরা যতই করুন, কাজটি আসলে বড় শক্ত- হয়তবা অসম্ভব, তা হোক না খুব শক্ত, এমন কি অসম্ভব- ঘেঁষা, তবু সাহিত্যিকদের এই সাহিত্য-তত্ত্বরূপী স্বর্ণ-মৃগের পশ্চাদধাবন অসঙ্গত বা অশোভন নয়। কেননা স্বর্ণ-মৃগ আয়ত্তের বহির্ভূত হতে পারে কিন্তু তাকে উপলক্ষ করে যে . . .
অদ্ভুত দাঁড়কাক ॥ এল সালভেদরের ম্যানুয়েল আর্গুয়েটা
মোঃ আরিফুর রহমান
লেখালেখি মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। কেউ চাইলেই লেখক হতে পারে না। সম্ভবও নয়। তাড়নাই মানুষকে লেখালেখিতে উদ্বুদ্ধ করে। লেখক নিজের ভেতর থেকে যে তাড়না অনুভব করেন, যে ভাবাদর্শ বিশ্বাস করেন সেটাকেই কলমের মাধ্যমে পাঠকের কাছে তুলে ধরেন। কেউ সমাজের ঘটে যাওয়া অন্যায়-নিপীড়নকে উপেক্ষা করে গেয়ে যান শুধু প্রেম-ভালবাসার গান আবার কেউবা সমাজের সংঘটিত সকল অন্যায়-অবিচারের প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে বেছে নেন সাহিত্যকে । জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কুছ পরোয়া নেহি মনোভাবে প্রতিবাদী সাহিত্যে রচনার সাহস সবার থাকে না। দুর্জয় সাহসে ভর . . .
চলে গেলেন পুলিৎজার বিজয়ী কবি গলওয়ে কিন্নেল
প্রয়াত হলেন পুলিৎজার বিজয়ী মার্কিন কবি গলওয়ে কিন্নেল। কবি গলওয়ে তাঁর সমসাময়িক অন্য কবিদের চেয়ে নিজের লেখনী দ্বারা একটি ভিন্ন ধারার তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাঁর কবিতাশৈলী সকলের চেয়ে তাঁকে স্বতন্ত্র করে রেখেছে। ১৯৮২ সালে তাঁর নির্বাচিত কাব্য সঙ্কলনের জন্য একইসঙ্গে পুলিৎজার ন্যাশনাল বুক এ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। ১৯৮৯ সালে তিনি ভারমন্ট’স পোয়েট লরেটো এবং একাডেমি অব আমেরিকানস পোয়েট তাঁকে ওয়ালেস স্টিভেনস ২০১০ আজীবন সম্মাননা প্রদান করে। এসব ছাড়াও তিনি আরও একাধিক পুুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য . . .
গীতাঞ্জলি ও নোবেল পুরস্কার
সুরঞ্জন রায়
গীতাঞ্জলি পর্ব বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ একটি যুগ। আর গীতাঞ্জলি সেই যুগের একটি পর্ব। এ পর্বে রচিত হয়েছে খেয়া-গীতাঞ্জলি-গীতিমাল্য-গীতালির মতো কাব্য বা গানের সংকলন। রবীন্দ্রকাব্যের ইতিহাসে এ পর্বটি “ভগবদ্রসলীলাযুগ’ বলে খ্যাত। এ পর্বে রবীন্দ্রনাথ কবিতা ছেড়ে গানকে অবলম্বন করেন। কবিতায় রবীন্দ্রনাথ যে তত্ত্ব বা অনুভূতির প্রকাশ ঘটাতে পারেননি, গানে তা সহজ ছিলো বলেই হয়তো এ আয়োজন : আরও চার তুকের গানে। বাংলা গানের আবহমান ধারা থেকে সরে এসে ধ্রƒপদ গানের এ ধারায়, বলা ভালো, ছন্দের স্থূল নৃত্য . . .
কবিতায় জীবনের ক্রান্তি ও শান্তির অন্বেষণ
শোয়েব শাহরিয়ার
১. যারা কবি, হৃদয়ের বাণিজ্য করে, শুদ্ধ অনুভবের উৎসারণ ঘটায়, পবিত্র চেতনা লালন করে, মানবেতর ঈর্ষাকে ঘৃণা করে, সহজ সত্যকে অন্তরে ধারণ করে, সৌন্দর্যের চর্যা ও পুষ্টি বৃদ্ধি করে, মানবকল্যাণের জন্য সর্বস্ব বিলিয়ে দেয়, ত্যাগে স্থির থাকে, সত্য প্রকাশে দৃঢ় থাকে, তারা যুদ্ধকে ঘৃণা করে, আলো দিয়ে যাদের অভ্যন্তরে ভুবন প্রজ্বলিত, অবিশ্রান্ত বৃষ্টির, ধারার মধ্যে যারা অবগাহন করেন নিরন্তর, শিশিরে যাদের যুগলচরণ আর্দ্র হয়ে ওঠে এবং যাদের মুখশ্রী দূরবর্তী ভাসমান মেঘের মতো বিকশিত হয়, পুষ্পের সৌন্দর্যে ও সৌরভে যাদের . . .
বিশ্বাস
নিরঞ্জন মণ্ডল
নঈম উদ্দিন রাত দ্যাখে নিজের দুচোখে। টুলটাকে আর একটু টেনে দেয়ালের সঙ্গে ঠেস দিয়ে বসে। ঘুমে দুচোখের পাতা জড়িয়ে আসতে চায়। বিপরীত গেট থেকে বুড়ো জোনাবালীর ফোকলা গালের ‘জাগো ভাই, হুঁশিয়ার ধ্বনি- ভারিক্কি চালে নৈশ স্তব্দতাকে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করে দিয়ে যায়। তার ধ্বনি সমষ্টি থেকে দু’একটা রাত জাগা নঈম উদ্দিনের কানে এসেও আছড়ে পড়ে। সে খাড়া হয়ে বসে। তার জেগে থাকার উপস্থিতিটা জানিয়ে দিতে একটু দেরি হয়ে যায়। ততক্ষণে বুড়ো জোনাবালী ফোকলা গালে আবার হে-হো করে ওঠে। নঈম উদ্দিন মাঝে মাঝে স্বপ্নে ঠেস দিয়ে . . .
দু শ’ বছরে প্যারীচাঁদ মিত্র
মোঃ জোবায়ের আলী জুয়েল
বাংলা সাহিত্যে উপন্যাসের পথ প্রদর্শক প্যারীচাঁদ মিত্র ওরফে টেকচাঁদ ঠাকুর ১৮১৪ খ্রিস্টাব্দের ২২ জুলাই কলকাতার এক ধনী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা রাম নারায়ণ মিত্র ছিলেন সেকালে কলকাতার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। প্যারীচাঁদের মানস গঠনে পরিবারের বেশ কিছুটা প্রভাব ছিল। শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক চর্চায় তাদের পরিবারের সে সময় যথেষ্ট সুনাম ছিল। তাঁর মাতা আনন্দময়ী দেবী নারী শিক্ষার সেই অন্ধকার যুগেও ছিলেন যথেষ্ট শিক্ষা প্রাপ্ত। পারিবারিক শিক্ষা ছাড়াও প্যারীচাঁদ মিত্র শৈশবে এক গুরু মশাইয়ের কাছে সংস্কৃতি ও মুন্সীর . . .
কবিতা
নাকফুল মাসুদ পথিক কুসুমিত ধান, নাড়িয়ে যাও যে বাতাস, গৃহস্থ-মনে বার বার, তোর কী উদ্দেশ্য থাকে ঋতুবতী কৌমের চলনে রোদ্র ও বাষ্পের মাঝখানে দু’পা জড়ায়, ওযে গোত্রসখা চাষার ঘাম উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছ মেঘহাঁস যে কূলে ... আহা সময়ের রতি-মা, কূলে ব্যাকুল হামাগুড়ি, সে আর ফেরেনি ঘরে ভ্রƒণ কাঁদে, দীর্ঘ বাক্যের মতো একা, বাঁকা হরফে পা ফেলে ফেলে কিছু প্রশ্ন যেনো প্রাচীন আলে চোখ বোঝে, ছুঁয়ে যাচ্ছে দাদার কথিকা দাদীর প্রতীক্ষায় সৌখিন গৃহে কতো না গোপন উপোষ রাখা মক্তব পালিয়ে জঙ্গলের বাঁকে চাষার বাহুতে . . .