মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১১, ১৫ আশ্বিন ১৪১৮
যন্ত্রণার স্মৃতি
হের্টা ম্যুলার
অনুবাদ : আন্দালিব রাশদী
২০০৯-এর গোড়ার দিকে বসন্তকালে নিউ ইউরোপিয়ান কলেজের আমন্ত্রণে আমি বুখারেস্ট সফরে এসেছিলাম। প্রথম দিন একজন সাংবাদিক ও একজন ফটোগ্রাফারের সাথে হোটেলের লবিতে বসেছিলাম। পেশীবহুল একজন নিরাপত্তা প্রহরী কোন একটা পারমিটের কথা জিজ্ঞেস করল এবং ফটোগ্রাফারের হাত থেকে ক্যামেরাটা ছিনিয়ে নেবার চেষ্টা করল। ষাঁড়ের মতো চিৎকার করে বলল, 'এই আঙ্গিনার এবং এখানকার কোন মানুষের ছবি তোলা নিষেধ।' দ্বিতীয় দিন সন্ধ্যায় আমার এক বন্ধুর সাথে নৈশভোজের বিষয়টি টেলিফোন আলাপে চূড়ানত্ম করেছি এবং কথা হয়েছে বন্ধুটি আমাকে সন্ধ্যা . . .
মতিয়া চৌধুরীর কারাদলিল 'দেয়াল দিয়ে ঘেরা'
আবুবকর সিদ্দিক
বছর খানেক আগের এক শীতের বেলা। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। গণসঙ্গীতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান 'জাগরণ'-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। মঞ্চে বসে আছি আমরা একাধিক আমন্ত্রিতজন। অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেছে। মাইকে বক্তৃতা করছেন কামাল লোহানী। এমন সময় মাঝপথে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর আগমন। ঊনসত্তরের গণআন্দোলনের বিখ্যাত ছাত্রনেত্রী অগি্নকন্যা মতিয়া চৌধুরী। আমার বাঁ পাশের দু'টি আসন পরেই তাঁর বসার ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে। আমাকে দেখে চেনার কথা নয়। কারণ এর আগে কখনো আমাদের চাৰুস দেখা-সাৰাতের সুযোগ ঘটেনি। তবে নামে চিনলেও চিনতে . . .
কুড়ানি ইয়ানূর
কাজী রোজী
আমার নাম 'ইয়ানূর'। বাংলা অর্থ করলে দাঁড়ায় হে আলোক। সেই ছোট্টবেলায় মা ডাকতেন 'নূরী' বলে। বাবা অবশ্য সব সময়ই পুরো নামটা ধরে ডাকেন 'ইয়ানূর'। আমার ভীষণ ভাল লাগে। মায়ের ডাকা 'নূরী' নামটা বড্ড ভাল লাগতো। মা এখন বেঁচে নেই। তবে অন্যরা সবাই 'নূরী' বলে ডাকে_সেজন্য মাকে আমি ওদের ডাকা নাম থেকে স্পর্শ করতে পারি। মা যেন চুপি চুপি কানে কানে বার বার আমারে ডাকেন। যেন তাঁর আলোকরশ্মি আমি আমার ভেতরের অনুভবে পাই। মা যখন মারা যান_তখন আমার বয়স মাত্র ছ'বছর। পাড়াবেড়ানী . . .
সেই আমি এই আমি
আতিকুল হক চৌধুরীর আত্মজীবনী
(পূর্ব প্রকাশের পর) "প্রিয় হুমায়ুন কলকতা আর ভালো লাগছে না। এতোটুকুর না। গৌরনদীর কথা মনে পড়ছে খু-উব। বাবার বাড়ি টিনের সেই দোতলা ঘরটা। কাঠের সব দরজা জানালা। সামনে বড় মাঠ বাগান। কাছে নদী। স্টিমার। পালরদী হাই স্কুলের কথা মনে পড়ছে। তোমার মায়ের হাতের নাশতা। পিঠা। তুমি কলকাতা আসলে আমাদের বাসায় বেড়াতে এসো। তোমাকে একটা ছবি এঁকে দিলাম। কাউকে দেখাবে না। এখনও বৃষ্টিতে কি তোমার জুতোর মধ্যে জল জমে? ইতি সবিতা। সবিতা রায় চৌধুরী।" জীবনে এই প্রথম আম্মা ছাড়া অন্য কারো চিঠি হাতে পেলাম। সবিতা কলকাতা যাওয়ার . . .
উইলিয়াম জন থম্স্ ॥ ফোকলোর চর্চার পথিকৃৎ
কনক আমিরুল ইসলাম
স্বদেশ ও স্বজাতিকে ভালবেসে যাঁরা বিশ্বের সামনে চির অনুকরণীয় দৃষ্টানত্ম হয়ে আছেন উইলিয়াম জন থম্স্ তাঁদের মধ্যে অন্যতম। তিনি 'ফোকলোর' শব্দটির উদ্ভাবক হিসেবে সারা বিশ্বে স্মরণীয়। পাশাপাশি ফোকলোরের চর্চাকেও নিরলস চেষ্টার মাধ্যমে জনপ্রিয় করে তুলেছেন। দেশকে ভালবেসে মানবিক সম্পর্কের শিকড় ধরে যাঁরা সমৃদ্ধ জাতি এবং শান্তিপূর্ণ পৃথিবীর স্বপ্ন দেখেন, তাঁদের ফোকলোরের দ্বারস্থ হতেই হবে। ফোকলোর সংহত সমাজের সামগ্রিক সৃষ্টি, ব্যক্তি বিশেষের একক সৃষ্টি নয়। স্টিথ টমসনসহ অন্যান্য আনত্মর্জাতিক ফোকলোরবিদগণ . . .
বই পরিচিতি
প্রিয় কবিদের রন্ধনশালায় : স্বতন্ত্র চিন্তার উদ্ভাবক সমকালীন বাংলা কবিতায় ব্যতিক্রম চিন্তাধারার সংযোজক ও স্বাতন্ত্র চিন্তার উদ্ভাবক কবি ওবায়েদ আকাশ। নব্বইয়ের দশকের এই কবি ইতোমধ্যে স্বতন্ত্র ধারার কবি হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেছেন। তাঁর কবিতায় খুঁজে পাওয়া যায় সনাতন কাব্যচিনত্মাকে পাশ কাটিয়ে নতুন কাব্যচিনত্মা। কারণ কবি ওবায়েদ আকাশ জানেন, কবিতা হলো এক দীর্ঘ পথপরিক্রমার ফসল, যা মানব সভ্যতার সমান প্রাচীন ও নিরনত্মর পরিবর্তশীল। আর তাঁর এই জানার বর্হিপ্রকাশ স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়েছে 'প্রিয় কবিদের রন্ধনশালায়' . . .
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গল্পের সন্ধানে
গল্পকারগণ যতই আশার বাণী শোনান না কেন, সারা বিশ্বে সাহিত্যের একটি বিশেষ শাখা হিসেবে গল্প আর আগের মতো নেই। সাহিত্যের এই শাখাটি ঠিক আর কতদিন টিকে থাকবে_ এ নিয়ে কথা চলছে এখন। তার মানে এ শাখায় একটা ভাঙন দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের সমকালীন গল্পের অবস্থা খুব একটা ভালো_ এ কথা জোর দিয়ে বলা যাবে না। ভালো গল্পকারের সংখ্যাও খুব বেশি নেই। প্রবীণদের কথা বাদ দিলে সাম্প্রতিক সময়ে যেসব তরম্নণরা গল্প লিখছেন, তারা খুব বেশি নিরীৰাপ্রবণ। নিরীৰার আড়ালে তাদের গল্প চাপা পড়ে যায়। ওসব পড়ে মনে হয়, গল্পকার পাঠকের কথা মাথায় না রেখে . . .
কবিতা
তিনি এখন মাকিদ হায়দার জোসনা রোদে পুড়ে গেলাম পুড়ে গেলাম জোসনা রোদে। চিলেকোঠায় লুকিয়ে ছিলো চাঁদের কণা, খুঁজতে গিয়ে পুড়ে গেলাম জোসনা রোদে। আকাশ ভরা তারার মেলা তারার নিচে মেঘের ছায়া। চিলেকোঠার পায়রাগুলো আপন মনে নাচতে গিয়ে নূপুর হারা মেয়ের মতো এক পা দু'পা তিন পা করে এগিয়ে এসে জানিয়ে দিলো, জোসনা রোদে দাঁড়িয়ে আছে বিকেল থেকে একটি মেয়ে। চিলেকোঠায় একলা একা। ভুল বলেনি পায়রাগুলো সবাই ছিলো সবাই গেছে চিলেকোঠার জোসনা রোদে। খুঁজতে গিয়ে হঠাৎ দেখি মেঘ জমেছে আকাশজুড়ে, নেমে . . .