মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ৮ জুলাই ২০১১, ২৪ আষাঢ় ১৪১৮
ডমরুধরের গলায় কফ
ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
ডমরুধর বলিলেন, "তাহার পর লম্ফ দিয়া একেবারে আমি বরের চাকি ঘোড়ার গাড়ীতে গিয়া উঠিলাম। ঘোর ত্রাসে সন্ন্যাসীর হৃৎকম্প হইল। আমার শরীর হইতে ফট করিয়া সে সূক্ষ্মশরীর বাহির করিল। আপনার সূক্ষ্মশরীর লইয়া কোথায় যে সে পলায়ন করিল, তাহা বলিতে পারি না। সেই দিন হইতে তাহাকে অথবা তাহার চেলা দুইজনকে আর কখনো আমি দেখিতে পাই নাই। আমি দেখিলাম যে, গাড়ীর উপর আমার দেহটি পড়িয়া রহিয়াছে। বাঘছাল হইতে বাহির হইয়া তৎৰণাৎ আমি নিজদেহে প্রবেশ করিলাম। গাড়ীর গদিতে বাঘছালখানি পাতিয়া আমি তাহার উপর আমি গঠ হইয়া বসিলাম। নিজের শরীর পুনরায় . . .
কাশীনাথের জন্মান্তর
রাজ শেখর বসু
প্রায় দেড় শ' বছর আগেকার কথা। তখন কলকাতার বাঙালী হিন্দুসমাজে নানারকম পরিবর্তন আরম্ভ হয়েছে কিন্তু তার কোনও লৰণ রাঘবপুর গ্রামে দেখা দেয় নি, কাশীনাথ সার্বভৌম সেই গ্রামের সমাজপতি, দিগ্গজ পণ্ডিত, যেমন তাঁর শাস্ত্রজ্ঞান তেমনি বিষয়বুদ্ধি। তাঁর সনত্মানরা কলকাতা হুগলি বর্ধমান কৃষ্ণনগর মুরশিদাবাদ প্রভৃতি নানা স্থানে ছড়িয়ে আছে, কিন্তু তিনি নিজে তাঁর গ্রামেই থাকেন, জমিদারি দেখেন, তেজারতি আর দেবসেবা করেন, একটি চতুষ্পাঠীরও ব্যয় নির্বাহ করেন। একদিন শেষরাত্রে তিনি স্বপ্ন দেখলেন, তাঁর ইষ্টদেবী কালীমাতা আবিভর্ূত . . .
'বেঁচে থাকো সর্দিকাশি'
সৈয়দ মুজতবা আলী
ভয়ঙ্কর সর্দি হয়েছে। নাক দিয়ে যা জল বেরুচ্ছে তা সামলানো রুমালের কর্ম নয়। ডবল সাইজ বিছানার চাদর নিয়ে আগুনের কাছে বসেছি। হাঁচছি আর নাক ঝাড়ছি, নাক ঝাড়ছি, আর হাঁচছি। বিছানার চাদরের অর্ধেকখানা হয়ে এসেছে, এখন বেছে বেছে শুকনো জায়গা বের করতে হচ্ছে। শীতের দেশ দোর জানালা বন্ধ, কিচ্ছু খোলার উপায় নেই। জানালা খুললে মনে হয় গৌরীশঙ্করের ছূড়োটি যেন হিমালয় ত্যাগ করে আমার ঘরে নাক গলাবার তালে আছেন। জানি, একই রুমালে বার বার নাক ঝাড়লে সর্দি বেড়েই চলে, কিন্তু উপায় কি? দেশে হলে রকে বসে বাইরে গলা বাড়িয়ে দিয়ে সশব্দে নাক . . .