মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ১৭ জুন ২০১১, ৩ আষাঢ় ১৪১৮
সেই আমি এই আমি
(পূর্ব প্রকাশের পর) লাইলী তোমার এসেছে ফিরিয়া মজনুগো আঁখি খোলো। আবার এইভাবেও বলা যায়। মজনু তোমার এসেছে ফিরিয়া লাইলী গো আঁখি খোলো। লাইলীও মজনুর কাছে আসেনি। মজনুও লাইলীর কাছে ফেরেনি। ফিরে এসেছি আবার বরিশালে তারপর গৌরনদীতে। বৈদু্যতিক বাতি থেকে আবারো হারিকেনের আলোতে। আগরপুর লজ-এর দোতলা বিল্ডিং থেকে আবারও গৌরনদীর সেই টিনের ঘরে। ছোটবেলা থেকেই মনে হচ্ছে। না, কিছুই তো স্থায়ী নয়। চিরদিন থাকে না। এক স্থান থেকে আরেক স্থানে যাওয়া আর আসা। কেবলই ছোটাছুটি। আব্বা সরকারী চাকরি করতেন। সেই সুবাদে বছর তিনেকের বেশি . . .
কালজয়ী শিল্পী মকবুল ফিদা হুসেন
রাহুল শর্মা
বিশ্বব্যাপী তাঁর চিত্রকর্মের কদর। ভারতের স্বাধীনতা-পরবর্তী শিল্প-সংস্কৃতির জগতের অগ্রপথিক। তাঁকে বলা হয় 'ভারতের পিকাসো'। তিনি শিল্পী মকবুল ফিদা হুসেন। তিনি শুধু একজন চিত্রশিল্পীই নন; কবি, ভাস্কর, বাড়ির নকশাকার হিসেবেও ছিল তাঁর খ্যাতি। আর এসবের বাইরে আরও একটি পরিচয় তাঁকে উজ্জ্বল করে রেখেছিল_ চিত্রনির্মাতা। মকবুল ফিদা হুসেনের শিল্পকর্ম সময়কে জয় করেছে, আর সেই সময়ের নিয়ম মেনেই গত ৯ জুন লন্ডনে তাঁর ৯৫ বছরের নশ্বর জীবনের যতি পড়ে। সমকালীন শিল্পীদের থেকে তিনি ছিলেন স্বতন্ত্র, কারণ তিনি রঙ-তুলি-ক্যানভাসের . . .
বই পরিচিতি
পথ বেঁধে দিল বন্ধনহীন গ্রন্থি
ওয়ার্ডসওয়ার্থ বলেছিলেন, কবিতা হচ্ছে শক্তিশালী অনুভূতির স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশ। আর প্রশানত্মির অনুস্মৃতিনির্ভর আবেগই হচ্ছে তার উৎসস্থল। কবি আমিনুল ইসলাম-এর পথ বেঁধে দিল বন্ধনহীন গ্রন্থি কাব্যগ্রন্থটি মূলত ওয়ার্ডসওয়ার্থ কথিত 'শক্তিশালী অনুভূতি'র সংরাগে আবেগের স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশকেই উপজীব্য করেছে। কিন্তু সেই অনুভূতি ব্যক্তি আবেগের নির্জলা প্রকাশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা প্রাণ প্রেম ও প্রকৃতির প্রণোদনায় বিশেষ হয়েও নির্বিশেষে পাঠককে আহ্বান করে একটি সাংগীতিক মোহনায় যেখানে ব্যক্তি উত্তীর্ণ হয় . . .
দীর্ঘ কবিতা আমার সোনার বাংলা এবং একটি যুদ্ধের উপাখ্যান
ফজল শাহাবুদ্দীন
॥ ১ ॥ আমাদের বাসাবোর বাড়িটা তখন ছিলো একান্ত একটা নির্জন দ্বীপের মতো চারদিকে খোলা সর্বউপরে আকাশেরা সীমানা বিহীন মসত্ম এলাকা জুড়ে হাতে গোনা যায় এমন কয়েকটি বাড়ি পূর্বপ্রানত্মে বেশ বড় একটা বিল শানত্ম নিসত্মরঙ্গ জলের বিসত্মার তখনো সব দিকে মাটির পথ সেখানে দাঁড়ালে বেশ দূরে দেখা যায় দৰিণ যাত্রাবাড়ির প্রায় জনশূন্য চৌরাসত্মা কখনো কখনো একটি কি দুটি গাড়ি- পথ চলে গেছে বুড়িগঙ্গার দিকে শীতলৰ্যার দিকে সেই সময়ে সেই তখন সেই ডিসেম্বর মাসে একাত্তর সালে কেমন যেন একাকি একাকি সব কিছু মনে আছে . . .
চিৎকার কি শুনছেন না?
আন্দালিব রাশদী
'আপনি কি তাদের কান্না শুনতে পাচ্ছেন না? আপনি কি তাদের চিৎকার শুনছেন না?' কান্না ও চিৎকারের ভাষায় এই কবিতা লিখেছেন আয়াত আল-ঘেরমেজি। যাকে উদ্দেশ্য করে এই কবিতা লেখা হয়েছে তিনি বাদশাহ হামাদ বিন ইসা আল-খলিফা; তিনি বাহরাইনের নৃপতি। আয়াত আল-ঘেরমেজি শুধু লিখেই থেমে থাকেননি; হয়ত কবিতা দিয়ে অভু্যত্থান ঘটাবেন সে আশাতে ৰুব্ধ জনতার সমাবেশে বাহরাইনের রাজধানী মানামার পার্ল স্কোয়ারে বাদশাহকে উদ্দেশ্য করে এই কবিতা আবৃত্তিও করেছেন। কিন্তু প্রচলিত আরবীয় আইনে এ ভাষায় বাদশার সঙ্গে কথা বলা যায় না। সুতরাং . . .
নিভৃত শিল্পী মোহাম্মদ কিবরিয়া
কামরুল হাসান
ক্যানভাসে তুলির আঁচড়ে বিমূর্ত চিত্র আঁকিয়ে, সমকালীন চিত্রশিল্পীদের অন্যতম পথপ্রদর্শক এবং পথিকৃৎ, বাংলাদেশের শিল্পকলা জগতের এক যুগস্রষ্টা মহান শিল্পী মোহাম্মদ কিবরিয়া নিভৃতেই বিদায় নিলেন। চিরকালের এই নিভৃতচারী মানুষটি শূন্য করে রেখে গেলেন আমাদের শিল্পাঙ্গনের সেই প্রানত্মরকে, যে প্রানত্মে দাঁড়িয়ে তিনি তাঁর শিল্পীসত্তা দিয়ে অনুভব করেছেন রংয়ের ভাষা এবং প্রকৃতি। তাঁর অাঁকা ছবি, রংয়ের মিশ্রণ, অভিব্যক্তি এখন কেবলই স্মৃতি। সেই স্মৃতিময়তার কোলে তাঁর বিমূর্ত ছবিতেই তিনি বেঁচে থাকবেন আজীবন। বাংলাদেশের শিল্পকলার . . .