মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারী ২০১১, ১৫ মাঘ ১৪১৭
বাংলা ছোটগল্পে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী
মোহাম্মদ নূরুল হক
শিল্পের দায়_জীবনের বহিরঙ্গ ও অন্তরঙ্গের যাবতীয় সংবেদনশীল অনুষঙ্গকে ক্রমাগত রূপানত্মরের মধ্য দিয়ে মানবসমাজের রুচি ও মননসমর্থিত বিষয়ে অনুবাদ করা? নাকি জীবনের জটিল গ্রন্থিমোচনে সবার অগোচরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বটিও পালন করে যাওয়া? জীবনের চেয়ে শিল্পকে বড় করে না দেখে যারা জীবন ও শিল্পের সমন্বয় ঘটাতে গিয়ে জীবনের নানা অনুষঙ্গকে শিল্পের অনুষঙ্গ করে তুলেছেন, তাদের অবদানকে খাটো করে দেখার সুযোগ কতটুকু? তার আগে বোধ করি এ প্রশ্নে সমাধান জরুরী শিল্প ও জীবনের অন্বয়সাধন শিল্পের প্রয়োজনে? না শিল্পীর প্রয়োজনে? . . .
এই শ্রাবণের বুকের ভেতর
ফরিদুর রহমান
ধল পুকুরের পিচ্ছিল ঘাটে বসে ঘোলা পানিতে অজু করছিলেন আসালত খন্দকার। এবারে বর্ষা ভাল মতো না নামতেই পুকুরের পানি হলুদ হতে শুরু করেছে। বৈশাখ মাসের মাঝামাঝি থেকে নিশিতারা গ্রামে লোকজনের সংখ্যা বেড়ে গেছে। প্রায় প্রত্যেক বাড়িতেই দুই চারজন আত্মীয়স্বজন এসে জায়গা নিয়েছে। জ্ঞাতি কুটুম্ব ছাড়াও স্বল্প পরিচিত বা দূর সম্পর্কের আত্মীয়-পরিজনও নেহায়েত কম নয়। আর তাদের প্রায় সবার সাথেই আছে একদঙ্গল ছেলেমেয়ে। সকাল দুপুর ঝাঁপাঝাঁপি করে পুকুরের পানি ঘোলা করা, গাছের আম জাম ফল পাকুড় যা আছে সব ডালপালাসহ ভেঙে তছনছ করা ছাড়াও . . .
সম্রাট জাহাঙ্গীরের চতুর্থ চিঠি
কাজী মহম্মদ আশরাফ
ধলেশ্বরী যেখানে মেঘনাদে এসে পড়েছে মোহনার কাছে বালুর চরে শবদেহটা পাওয়া যায় সকালে। জেলেরা মাছ ধরে ফিরে আসার সময় দেখতে পায়। কাছে গিয়ে একজনে দেখে পিঠে রক্ত, উপুড় হয়ে পড়ে আছে। গায়ের পোশাক দেখে সে যা অনুমান করেছিল উল্টে চিত করে দেখে তাই। সাহেবাবাদের ঈসাইদেউলের আন্তু বাবা। অর্থাৎ ফাদার আনত্মোনিও। এক প্রহর পরে জাগতি ঘটনাটা শুনতে পায়। রান্না মাত্র শেষ হয়েছে এ সময় সে কথাটা শুনল পাশের বাড়ির মধুর কাছে। 'ও বাবা, বাবা গো' বলে চিৎকার করতে করতে প্রায় এক ক্রোশ দূরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে ছোটখাটো একটা ভিড়। . . .
ডাক্তারের বাড়ি ওঝার পা
মঈন শেখ
ও দাদা, দাদা গো, হামার নানাক সাপে কামড়াইজে; এগনি চলো? এভাবেই বলল আমিনুল। এখনো এমনভাবে হাঁপাচ্ছে, যেন গোখরো সাপে তাকেই তাড়িয়ে এনেছে এই পর্যন্ত। বর্ষার দিন। টিপটিপ বৃষ্টি হচ্ছে তখনো। অলস দুপুরে চেনু কবিরাজ বারান্দায় বসে পাট কাটছে। গাল ভর্তি পান। সব কাজের কাজী ঐ চেনু। কবিরাজি, ওঝাগিরি, ঝাড়-ফুঁক-সব। তবে অন্যনামে ডাকে না কেউ। সবাই ডাকে কবিরাজ। চেনু কবিরাজ। অন্য বারান্দায় খেজুর পাটি বিছিয়ে দুইদল তাস খেলছে। বিড়ি জুয়া। অর্থাৎ বিড়ি দিয়ে খেলা। ওদের মধ্যে দু'চারজন চেনুর সাগরেদও আছে। খেলা বন্ধ হল মাঝ পথেই। . . .