মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ১৮ জুন ২০১০, ৪ আষাঢ় ১৪১৭
প্যাপিরাস রচনাবলী প্রাচীন মিসরীয় সাহিত্যের ধারক ও বাহক
মনোজিৎ কুমার দাস
প্রাচীন মিসর আদি সভ্যতার লীলাভূমি। প্রাচীন মিসরীয়রা শিল্প, সাহিত্য, গণিত শাস্ত্র, জ্যোতির্বিজ্ঞান, চিকিৎসাবিদ্যা ও স্থাপত্য কলার প্রভূত উন্নতি সাধন করতে সমর্থ হয়। প্রাচীন মিসরীয়দের উপরোক্ত শিল্পকলার মধ্যে তাদের সাহিত্য সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলতে হয়, প্রাচীন মিসরীয় সাহিত্যের সঠিক ইতিহাস পাওয়া অত্যনত্ম দুরূহ। প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যের মতো প্রাচীন মিসরীয় সাহিত্যে অসংখ্য কবি, সাহিত্যিক ও নাট্যকারের পরিচয় পাওয়া না গেলেও মিসরীয় সম্রাটদের সমাধিক্ষেত্রে পিরামিডের অন্ধকার গর্ভগৃহের প্রসত্মরখ-ে কফিনের গাত্রে . . .
রবীন্দ্রনাথ ও ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো
আলয় কর
বিশ্ব মানবিকতার অগ্রদূত জনগণ অধিনায়ক রবীন্দ্রনাথ কারো কোন অনুরোধ গ্রাহ্য করলেন না। তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। পেরম্নর স্বাধীনতা লাভের শতবার্ষিকী উৎসবে যাবেন। মাস দুয়েকও হয়নি সবে চীন, জাপান ভ্রমণ করে কবি ফিরেছেন। পেরম্নর রাষ্ট্রদূত কবিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন কবি যেন পেরম্নর স্বাধীনতা-সংগ্রামের শতবার্ষিকী উৎসবে উপস্থিত থাকেন। ক্লানত্ম কবি সহাস্যেই গ্রহণ করলেন সে নিমন্ত্রণ। ঘটনাকাল ১৯২৪। কবির ইচ্ছে ছিল ফ্রান্সে কিছুদিন কাটাবেন এবং পরে পেরম্ন রওনা হবেন। কিন্তু পরে তাঁর মত বদলে ফেললেন। ফ্রান্স না গিয়ে তিনি সোজা . . .
অমরাবতীর খোঁজে
সালাম সালেহ উদদীন
পিচঢালা পথ পেরিয়ে গ্রামের কাঁচা রাসত্মায় যখন পা বাড়াই তখন আমার মধ্যে অদ্ভুত অনুভূতি কাজ করতে থাকে। দুই দশকের বেশি সময় এই পথ আমি মাড়াইনি। অচিন পথিকের মতোই যেন আমার পথচলা। আমি যাচ্ছি রামনাথপুর গ্রামে। ওই গ্রামের শেষ প্রানত্মে আমার বড় ফুফু থাকেন। বছর কয়েক আগে ফুপা মারা গেছেন। সানত্ম্বনা দেয়ার উদ্দেশ্যে নয়, তার সঙ্গে দেখা করার জন্য মূলত আমার এ যাত্রা। আমি একা নই, সঙ্গে রয়েছে আমার ছেলে প্রিয় এবং ভাতিজা ওসামা। ওরা দু'জন প্রাথমিক পর্যায়ের শিৰার্থী এবং বয়সের ব্যবধান তেমন নয়। প্রিয়র জন্ম শহরে। তাই ওসামার . . .
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'দিবারাত্রির কাব্য' চন্দ্রকলার অগ্নিনৃত্য
আহমেদ বাসার
মানব-সম্পর্কের জটিলতা নিয়েই খেলতে ভালোবাসেন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০৮-৫৬)। বস্তুত, মানব-মনের গহীনে আরও কত 'বিপন্ন বিস্ময়' খেলা করে তা ঘেঁটে ঘেঁটে মানিক আমাদের দেখান। আমরা মানুষের সমাজ স্বীকৃত সম্পর্কগুলো ভেঙে পড়তে দেখে কখনও অসহায় বোধ করি, কখনো বা বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যাই। মানিক সাহিত্য আমাদের দাঁড় করায় এমন এক পৃথিবীর মুখোমুখি, যেখানে মানুষ তার সামাজিক মুখোশ খুলে ফেলে রক্ত-মাংসের কামনা-বাসনা নিয়ে আত্মপ্রকাশ করে। ফলে বিভিন্ন পরিচয়ের খুব চেনা মানুষগুলোকেও এখানে অচেনা মনে হয়। মনে পড়ছে আবুল হাসানের . . .
কবিতায় হাহাকার ও অনার্য মাটির আর্তনাদ
ইকবাল আজিজ
আবুবকর সিদ্দিক কবিতায় বাংলাদেশের এক ভিন্ন জগতের বার্তা বয়ে এনেছেন। কবিতার পাশাপাশি গল্প-উপন্যাস লিখেছেন বেশ কিছুকাল ধরে। কখনও সুন্দরবন , বিপন্ন নদী ও মানুষ; কখনও প্রকৃতির বিপর্যয় তাঁকে নিমগ্ন করেছে। তবে কবিতায় হোক, কিংবা কথাসাহিত্যে; আবুবকর সিদ্দিক সর্বদাই এক ধরনের দায়িত্ববোধ দ্বারা আক্রানত্ম। মাটি ও মানুষের অধিকার সংরৰণে তিনি সর্বদাই তৎপর। বহু আগে 'ধবল দুধের স্বরগ্রাম' কাব্যগ্রন্থে তাঁর বুদ্ধিদৃপ্ত স্মার্টনেস আমাদের হৃদয় ছুঁয়ে ছিল। তারপর থেকে তিনি ক্রমাগত লিখে গেছেন। বাংলাদেশের পঞ্চাশ . . .
মিলন মেলা
অথির শেরপা
সম্ভবত ১৯৬৪ সালের দিকে প্রথম কবিতা সঙ্কলন বের হয় ঢাকায়, যেটি সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলেন দু'জন_হাবিবুর রহমান ও আশরাফ সিদ্দিকী। তারপর আরও অনেক কবিতা সঙ্কলন বের হয়েছে। দর্শকওয়ারি চিনত্মা থেকে এই সঙ্কলন। অজস্র কবিকে একই পস্নাটফর্মে দাঁড় করিয়ে সময়কে গ্রন্থিত করাই হচ্ছে সঙ্কলনের মূল উদ্দেশ্য। আর যিনি সম্পাদক তাঁর ওপর এই দুরূহ কর্মটি বর্তায় এবং সেই সাথে ভালমন্দের দায়ও থেকে যায় কিছুটা। অনেক সময় দেখা যায় গুরম্নত্বপূর্ণ কবিকে বাদ দিয়ে কোন কোন সঙ্কলন প্রকাশিত হতে। সেৰেত্রে সঙ্কলনটির পূর্ণাঙ্গতা নিয়ে প্রশ্ন . . .
পাই চু্যয়ি ও তোতো'র কবিতা
অনুবাদ: মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
পাই চু্যয়ি ইধর ঔুঁর (৭৭২-৮৪৬) শান্সির আইইয়ুান অঞ্চলে জন্ম। প্রশাসক ও উপদেষ্টা হিসেবে তিনি নানা সংস্কার প্রসত্মাব করেন। তিনি কনফুসিয়াসের চিনত্মাধারার অনুরাগী ছিলেন, সাম্রাজ্যিক বহ্বাড়ম্বর ও আতিশয্য পছন্দ করতেন না এবং অবিচার বিষয়ে একাধিক রাজনৈতিক প্রহসন লেখেন। বুড়ো কাঠকয়লা বিক্রেতা বুড়ো কাঠকয়লা বিক্রেতা কাঠ কাটতো এবং দক্ষিণ পাহাড়ে তার মালে আগুন দিত; তার মুখ ধুলোয়-ছাইয়ে দগরা-পরা আর ধোঁয়ায় কালো ক্রিস্টি কপালের পাশটা ধূসর, দশ আঙুল কালিমাময়। অল্প যা সে রোজগার করত তা মোটেও যথেষ্ট ছিল না . . .